Tag: আলাস্কা বৈঠক

  • আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    আলাস্কার হোটেলে ফাঁস হওয়া নথি: ট্রাম্পের কাছে দোনেৎস্ক-লুহানস্ক চাইলো পুতিন

    এবিএনএ:  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত শুক্রবার আলাস্কার একটি হোটেলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি শর্ত দেন— ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, তবে সম্মুখসারির যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে জানান, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক রাশিয়ার হাতে গেলে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে আর অগ্রসর হবেন না। বর্তমানে এই দুই অঞ্চলের বড় অংশ রুশ সেনাদের দখলে রয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররাও বলেছেন, বলপ্রয়োগে সীমান্ত পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

    এদিকে বৈঠককে ঘিরে এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর জানিয়েছে, আলাস্কার ক্যাপ্টেন কুক নামের চার তারকা হোটেলের প্রিন্টারে পাওয়া গেছে বৈঠক সংক্রান্ত আট পৃষ্ঠার গোপন নথি। এতে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার স্থান, সময় এবং মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ ছিল। অতিথিদের হাতে পাওয়া এই নথির ছবি এনপিআর যাচাই করেছে।

    এই নথি ফাঁসের ঘটনা বৈঠককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে পুতিনের এই শর্ত শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ভূরাজনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টির কৌশল।

  • ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    ঝটিকা সফরে বার্লিনে জেলেনস্কি, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত ইউক্রেন

    এবিএনএ:  রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের আগে এক ঝটিকা সফরে জার্মানি গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার বার্লিনে পৌঁছে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    এ সফরের সময় জেলেনস্কি চ্যান্সেলরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট্টিও ওই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। আগামী শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনার কথা রয়েছে, যা জেলেনস্কির এই সফরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেন কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে ছাড় দিতে পারে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দোনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার যে কোনো প্রস্তাব কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করবে। তার মতে, এমন ছাড় ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে।

    রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। এএফপি জানিয়েছে, রুশ সেনারা পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডোব্রোপিলিয়ার কাছে আকস্মিক হামলা চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার জবাব কিয়েভ কঠোরভাবে দেবে এবং এটি রাশিয়ার এক ধরনের কৌশল, যাতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে নিজেদের অগ্রগতি তুলে ধরা যায়।

    এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, মস্কো জাপোরিঝিয়া, পকরোভস্ক ও নভোপাভলভ এলাকায় নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াই জিতেছে এবং ইউক্রেন ইতোমধ্যেই পরাজিত হয়েছে।

  • আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    এবিএনএ:  আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বসছে বহুল আলোচিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার প্রথম দুই মিনিটেই তিনি বুঝে ফেলতে চান পুতিনের আসল পরিকল্পনা। যদি মনে হয় সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে তিনি আলোচনা মাঝপথেই থামিয়ে দিতে প্রস্তুত।

    এদিকে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতার আশঙ্কা, পুতিন হয়তো দীর্ঘ আলোচনা টেনে ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে রাশিয়ার বিজয়ের শর্তগুলোতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে কৌশলী মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে পারেন তিনি। এই বৈঠক হতে যাচ্ছে এমন এক জায়গায়—আলাস্কা—যেটি ১৮৬৭ সালে রাশিয়া ৭২ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়েও কথা বলতে চান।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের মনোভাব যাচাই করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। যদি চুক্তির সম্ভাবনা না দেখেন, তবে তিনি বৈঠক শেষ না করেই সরে আসবেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া উচিত, যাতে আলোচনার সময় হামলা বা ভূমি দখল না ঘটে। এই আলোচনায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

    হোয়াইট হাউস এই বৈঠক আয়োজন করছে বেশ তড়িঘড়ি করে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এখনো ঠিক হয়নি আলাস্কার কোন স্থানে বৈঠক হবে কিংবা কতক্ষণ চলবে। সমালোচকরা বলছেন, পুতিন প্রশংসা ও কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনের ওপর রুশ আগ্রাসনের জন্য কিয়েভকেই দায়ী করেছিলেন এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

    যুদ্ধের সমাধান বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্প কিছু না বললেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—চুক্তি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল উভয়ই তুঙ্গে বিশ্বজুড়ে।