Tag: আরপিও আইন

  • ভোটের অঙ্কে ধাক্কা—বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনও বাদ

    ভোটের অঙ্কে ধাক্কা—বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনও বাদ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। নির্বাচনসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে—যা সংখ্যায় অর্ধেকের বেশি এবং শতাংশের হিসাবে প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি।

    আসনভিত্তিক হিসাবে বাগেরহাট-১ এ ছয়জন, বাগেরহাট-২ এ একজন, বাগেরহাট-৩ এ তিনজন এবং বাগেরহাট-৪ এ চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

    বাগেরহাট-১ আসনে জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম ও মাসুদ রানা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আ. সবুর শেখ ও এমডি শামসুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির এস এম গোলাম সরোয়ার। প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা না ছোঁয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

    বাগেরহাট-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমান ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। একইভাবে বাগেরহাট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম, ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান এবং জেএসডির মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে না পেরে জামানত হারিয়েছেন।

    বাগেরহাট-৪ আসনে জামানত হারানো চারজনের মধ্যে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি এবং জেএসডির মো. আব্দুল লতিফ খান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন প্রচার শেষে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটের কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবু প্রার্থী তালিকায় থাকায় তাঁর ক্ষেত্রেও জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

    বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

  • সিইসির সাফ কথা: আরপিওতে পিআর নেই, ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন

    সিইসির সাফ কথা: আরপিওতে পিআর নেই, ফেব্রুয়ারিতেই হবে নির্বাচন

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী হবে। তিনি বলেন, আরপিওতে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির কোনো বিধান নেই। তাই পিআর কার্যকর করতে চাইলে আগে আইন পরিবর্তন করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রবাসী ভোটারদের এনআইডি কার্যক্রম চালু করতে সাম্প্রতিক কানাডা সফর নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    পিআর পদ্ধতির দাবিতে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আন্দোলন চলুক, ফয়সালা আসুক। সম্ভব কি না, সেটি রাজনৈতিক দলগুলো বুঝবে। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হবে, আশা করি কেউ ফাউল করতে নামবে না।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও কথায় চলে না; আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়।

    শাপলা প্রতীক নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থান প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এটি ইসির সিদ্ধান্ত। ইসি কাউকে ব্যাখ্যা দেবে না, নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।”

    এদিকে, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ পিআর ব্যবস্থাকে ‘পার্মানেন্ট রেস্টলেসনেস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশে স্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করবে। বিদেশের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক দেশে পিআর ব্যবস্থায় সরকার গঠন জটিল হয়েছে এবং স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অন্যদিকে, এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, শাপলা প্রতীক না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। তবে ইসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    সিইসি আরও জানান, নতুন দল নিবন্ধনের কাজ দ্রুত চলছে এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত থাকবে। কানাডায় প্রবাসীদের ভোটাধিকারে আগ্রহও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।