Tag: আয়াতুল্লাহ খামেনি

  • খামেনিকে আঘাত মানেই ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ—কঠোর হুঁশিয়ারি পেজেশকিয়ানের

    খামেনিকে আঘাত মানেই ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ—কঠোর হুঁশিয়ারি পেজেশকিয়ানের

    এবিএনএ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অস্তিত্বের ওপর আঘাতের শামিল।

    রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর আক্রমণ মানেই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণা।” একই পোস্টে তিনি ইরানের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন।

    এর আগে তেহরানে আয়োজিত এক সমাবেশে আয়াতুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানি জাতিকে ‘ধ্বংসকারী ও হত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে উসকানি দিয়েছেন এবং পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাঙ্গাকারীদের সহায়তা করেছে।

    খামেনির দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোর কারণে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটিকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

    একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন এবং খামেনির নেতৃত্বের অবসান হওয়া উচিত।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষদিকে ইরানে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানি এবং গোয়েন্দা সহায়তায় দাঙ্গাকারীরা বিভিন্ন শহরে নাশকতা চালায়। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং সরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

  • ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    এবিএনএ: ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম ‘অপরাধী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

    শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবেই জড়িত। তার অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়ে দেশজুড়ে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

    খামেনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। তিনি বলেন, এই সহিংসতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়, বরং বহিরাগত শক্তির পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোর দিকে আঙুল তুলছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে।

    খামেনি তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে সীমান্তের বাইরে সামরিক সংঘাতে রূপ দিতে চায় না। তবে দেশি বা বিদেশি যেকোনো অপরাধীকে শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

    এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • ট্রাম্পের পরমাণু ধ্বংসের দাবিতে খামেনির কটাক্ষ: ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন’

    ট্রাম্পের পরমাণু ধ্বংসের দাবিতে খামেনির কটাক্ষ: ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন’

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করেছে—এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘স্বপ্নের মতো কল্পনা’ আখ্যা দিয়ে খামেনি বলেন, “এমন দাবি বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। স্বপ্ন দেখতেই থাকুন!”

    সোমবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে খামেনি আরও বলেন, “ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে—এই কথা বলা নিছক এক মনগড়া গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য কেবল তাদের মানসিক কল্পনার বহিঃপ্রকাশ।”

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী করা হবে বা হবে না—এই নির্দেশ দেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে কে দিয়েছে?”

    খামেনির এই প্রতিক্রিয়া আসে এমন সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, আর তেহরান তা ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে দাবি করছে।

    ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী একযোগে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে। এসব অভিযানে স্টেলথ বোমার ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তার দাবি।

    তবে ইরান সে দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত এবং ট্রাম্পের বিবৃতি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।

    এদিকে, হামলার পর ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে ২৪ জুন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে সংঘাত আপাতত থেমে যায়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই কটাক্ষ শুধু ট্রাম্পকেই নয়, বরং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধেও এক প্রতীকী প্রতিক্রিয়া।