Tag: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • “বিনিয়োগকারীরা নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে আছেন” – আমীর খসরু

    “বিনিয়োগকারীরা নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে আছেন” – আমীর খসরু

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ স্থিতিশীল করতে হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন।

    রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

    আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে অনেকের, কিন্তু সবাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আপাতত স্থগিত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, “ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে, আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন স্থগিত করা জরুরি।”

    বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এলডিসি উত্তরণ সম্পূর্ণ স্থগিত নয়, তবে অন্তত তিন বছর পিছিয়ে দেওয়া উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ এখনও পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এছাড়া তিনি ট্রেড ইউনিয়ন নীতিমালা প্রসঙ্গে বলেন, মাত্র ২০ জন শ্রমিক আবেদন করলেই ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ থাকলে এর অপব্যবহার হতে পারে।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের এই বৈঠক অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    “সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ সংসদ”— বললেন আমীর খসরু

    এবিএনএ:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ ও গণতান্ত্রিক পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদ। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান সংসদের বাইরে থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বর্তমানে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি কোনো দল সংবিধান সংশোধন করতে চায়, তবে সেটি হতে হবে সংসদের ভেতরে, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা চলবে না।”

    গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “যারা নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে চায় বা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করছে, তারা আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সকল পরিবর্তন হতে হবে স্বচ্ছ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়।”

    রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐক্য প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি না বদলাই, তাহলে কোনো সংস্কারই বাস্তবায়িত হবে না। অন্যের মতকে সম্মান জানানো, সহনশীলতা এবং উদারতা ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না।”

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর অনেকেই মনে করছেন বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ভেঙে গেছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, “প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব নীতি ও মতামত থাকবেই। কিন্তু ঐক্য মানে সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। যেখানে মতৈক্য হবে, সেখানে একসঙ্গে কাজ করবো। আর যে বিষয়গুলোতে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।”

    আমীর খসরু বলেন, জনগণই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। সেই সিদ্ধান্তই সংসদে প্রতিফলিত হবে। কারণ, গণতন্ত্র মানেই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।