Tag: আপিল বিভাগ

  • বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার হাইকোর্ট রায় বহাল করল আপিল বিভাগ

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর ফলে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পূর্বের মতোই বহাল থাকছে।

    গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায়ে বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইসি আপিল করেছিল।

    আদালতে ইসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। গাজীপুর-৬ আসনের প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাদল, মুস্তাফিজুর রহমান খান ও বেলায়েত হোসেন। অন্যদিকে বাগেরহাটের রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

    বাগেরহাটে বহুদিন ধরে চারটি আসনেই নির্বাচন হয়ে আসছে।

    • বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট

    • বাগেরহাট-২: সদর ও কচুয়া

    • বাগেরহাট-৩: রামপাল ও মোংলা

    • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইসির চূড়ান্ত গেজেটে একটি আসন কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। এতে বাগেরহাট-৪ আসনটি বাদ দিয়ে গাজীপুর-৬ আসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি এবং ২০১৮ সালে বাগেরহাট-১ থেকে বিএনপির প্রার্থী মো. শেখ মাসুদ রানা।

    গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই ইসি ও গাজীপুর-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।

    আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এখন বাগেরহাটে আগের মতো চারটি আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • ঐতিহাসিক রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: ভোটের অধিকার নিশ্চিতের আশাবাদ

    ঐতিহাসিক রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: ভোটের অধিকার নিশ্চিতের আশাবাদ

    এবিএনএ: সংবিধান থেকে বাতিল হওয়া বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ পূর্বের বাতিল রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ বলে রায় দেন, ফলে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।

    আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন বহু আইনজীবী, সাংবাদিক ও আগ্রহী নাগরিক। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে জনগণ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

    তবে আদালত জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। পরবর্তী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এর ফলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

    গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ শুনানি।

    ২০১১ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পৃথক আবেদন করেছিলেন। চারটি আবেদনের যৌথ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এই যুগান্তকারী রায় দেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

  • দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পদোন্নতি পাচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি বিচারক

    দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পদোন্নতি পাচ্ছেন এক হাজারেরও বেশি বিচারক

    এবিএনএ: দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় রদবদল আসছে। অধস্তন আদালতের এক হাজারেরও বেশি বিচারককে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা। একই সঙ্গে, সাবেক বিচারক বেগম মোছাম্মৎ কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। বৈঠকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে জেলা ও দায়রা জজ পদে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজদের অতিরিক্ত জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী বিচারকদের যুগ্ম জেলা জজ এবং সহকারী বিচারকদের সিনিয়র সহকারী বিচারক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

    তবে একই বৈঠকে কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা পুনর্বহালের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফুলকোর্ট। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি এক ধর্ষণ মামলায় স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় আসামিকে জামিন দেওয়ায় তাঁর বিচারিক ক্ষমতা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর ফৌজদারি বিচারিক দায়িত্ব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

    সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় তাঁর বিচারিক ক্ষমতা ফেরানোর প্রস্তাব পাঠালেও, বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় ফুলকোর্ট সেটি নাকচ করেছে।

    এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডারও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে, কারণ সরকারের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার এখনো প্রকাশিত হয়নি।

    বিচারকদের এই ব্যাপক পদোন্নতি দেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন গতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন চেম্বার জজ নিয়োগ, দায়িত্বে রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব

    এবিএনএ:  সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দুই বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির মনোনয়নে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক। আর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি স্বাক্ষর করেছেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহা. হাসানুজ্জামান।

    নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ৮, ৯, ১০, ১৫, ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে আপিল বিভাগের ১নং চেম্বার কোর্টে জরুরি বিষয়াদি শুনানি করবেন। অপরদিকে, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ২১, ২৩, ২৫, ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর এবং ৫, ৭, ৯, ১২ ও ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপিল বিভাগের ২নং চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।

    অবকাশকালীন সময়ে আপিল বিভাগে এসব চেম্বার জজ মামলাসংক্রান্ত জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলে কার্যকারিতা কবে থেকে: প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

    এবিএনএ:  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। বুধবার আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আগামী ২১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, আপিল বিভাগ কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং এমন একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা চান, যা দেশে গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করবে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকালীন সংকট এড়াতে সহায়তা করবে।

    তিনি প্রশ্ন রাখেন—“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে সেটি কার্যকর হবে কবে থেকে?” তবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, রায়ের পর এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কী হতে পারে। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ন্যায়বিচার নষ্ট হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে সিস্টেম। সেই কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। জনগণের ইচ্ছাই নির্ধারণ করেছে কে প্রধান বিচারপতি ও কে সরকারপ্রধান হবেন। এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করলে বিপ্লবের জন্ম হয়। তিনি ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও আদালতে স্মরণ করিয়ে দেন।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া ও আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা

    এবিএনএ:  বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিলের রায় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম দিনের শুনানি শেষে এ তারিখ ধার্য করা হয়।

    এর আগে বুধবার ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে আসামিপক্ষের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করেন। এ সময় তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, হাইকোর্টে যে খালাস দেওয়া হয়েছিল সেটিই বহাল থাকবে।

    চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এ রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা বাতিল হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যা ১ জুন আপিল বিভাগে গ্রহণযোগ্য হয়।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও জঙ্গি সংগঠনের নেতারা। একই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং আহত হন দলের শতাধিক নেতাকর্মী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ হামলায় গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার রায় নিয়ে এখনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

  • একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু

    এবিএনএ: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। অন্যদিকে আসামি পক্ষের হয়ে শুনানি করছেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

    এর আগে মঙ্গলবারও একই বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে বিষয়টি আজকের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছিল।

    এ বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। আদালত তখন বলেন, মামলাটি আইনগতভাবে টেকসই ছিল না এবং অভিযোগপত্রটি গ্রহণযোগ্য ছিল না।

    পরে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং ১ জুন আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দেয়।

    উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন।

    ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে খালাস দেন।

    বর্তমানে আপিল বিভাগে সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চলছে, যা মামলার ভবিষ্যৎ বিচারিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ইসি, আদেশের কপি হাতে পেল কমিশন

    ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ইসি, আদেশের কপি হাতে পেল কমিশন

    এবিএনএ, ঢাকা:

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আদালতের দেওয়া আদেশের অনুলিপি হাতে পেয়েছে। এই আদেশ পর্যালোচনা করে আগামীকাল (রবিবার) কমিশনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে শপথ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, “আদালতের আদেশের অনুলিপি আমরা হাতে পেয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে কমিশনে আলোচনা হবে।”

    এর আগে বিকেলে আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “ইশরাক হোসেনের বিষয়েও আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ইসি সূত্রে জানা গেছে, কালকের বৈঠকে আদেশের সারসংক্ষেপ ও আইনি দিক বিবেচনা করে গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এর আগে, ২৯ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক আবেদনের নিষ্পত্তি করে ইশরাক হোসেনের শপথ নিতে আর বাধা নেই বলে পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি রয়েছে।

    শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী ইসি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও তারা আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে, যা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যত্যয়। বরং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল ইসিকে সহযোগিতা করা, বাধা নয়।

    সবমিলিয়ে, আদালতের রায়ের আলোকে এখন সবার নজর ইসির আগামী দিনের পদক্ষেপের দিকে। ইশরাক হোসেন কবে নাগাদ শপথ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে সম্ভাব্য ঘোষণা আসতে পারে আগামীকাল।