Tag: আন্দোলন

  • গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    এবিএনএ, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাঙ্খিত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখনজনক। ঐ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায়কে বাতিলের মাধ্যমে সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যােগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলী দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিনতি ভালো হবেনা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ।

    তিনি বলেন, সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছেন। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যুবদল যেভাবে চট্রগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করা, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।

    ১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

    এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সহ সভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, বিডিপি মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ফারুকে আজম, মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল টি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম জিইসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের নেতারা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই সময়ের মধ্যে গণমিছিল ও সেমিনারের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।

    ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল দেশের সব বিভাগীয় শহরে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। সর্বশেষ ২ মে প্রতিটি জেলা শহরে গণমিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরো সময়জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে গণরায় উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, জনগণের দাবিকে অবজ্ঞা করে সরকার উল্টো দমননীতির পথে হাঁটছে।

    তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণ, জ্বালানি সংকট এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন তিনি।

    জোট নেতারা জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    এবিএনএ: সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এবার সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা Shafiqur Rahman জানিয়েছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ১১ দল একসঙ্গে বসে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে, সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে তারা ‘সংস্কার’ চেয়েছিলেন, যা গণভোটে জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও সেটি ছিল সংবিধান সংশোধনকেন্দ্রিক। বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের দাবি হলো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবও তারা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ‘সংস্কার’-এর কথা বলেছিলেন, ‘সংশোধন’-এর নয়।

    স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন, তবে স্পিকার জানান—প্রস্তাবটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, গৃহীত হয়নি।

    এ ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের গণভোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবসময় জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

    শফিকুর রহমান জানান, সংসদে সমাধান না হওয়ায় এখন তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনই তাদের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।

  • শাহবাগে ফের উত্তেজনা, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ধাওয়া

    শাহবাগে ফের উত্তেজনা, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ধাওয়া

    এবিএনএ: শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এলাকায় কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখে আন্দোলনকারীরা দ্রুত সরে যেতে বাধ্য হন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শাহবাগ মোড় প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে পুলিশের ধাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা আবারও শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। পরে তাদের একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়।

    পুলিশের তৎপরতায় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকা ছেড়ে কাঁটাবনের দিকে সরে যান। ঘটনার পর শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের বিক্ষোভে অচল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবা বন্ধ দেশে

    দাবি আদায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের বিক্ষোভে অচল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবা বন্ধ দেশে

    এবিএনএ: বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ছয় দফা দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চত্বর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাজারো স্বাস্থ্য সহকারী প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো এলাকা জিও জিও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষুব্ধ সহকারীরা। তারা জানান, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে।

    এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে সারাদেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে টিকা নিতে আসা মায়েরা ও নবজাতকরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। শীতের সকালে টিকা না পেয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য দেখা গেছে অনেক টিকাকেন্দ্রে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্য সহকারীরা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া বন্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু বহু বছর ধরে দাবি উপেক্ষার কারণে তারা অবস্থান কর্মসূচিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি বাস্তবায়নের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলেই তারা কাজে ফিরে যাবেন বলে জানান।

    সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৭ বছর ধরে বারবার দাবি যৌক্তিক স্বীকার করলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, দেশে এমন বৈষম্যের শিকার আর কোনো সরকারি বিভাগ নেই।

    এদিন সকাল থেকে দেশের ৬৪ জেলা থেকে স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা মহাখালীতে এসে অবস্থান নেন। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গত ২৯ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি চলছে। এর আগে ২৩ নভেম্বর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—২৮ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে।

    স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
    • নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমান যোগ্যতা যুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান
    • ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমাধারীদের ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ
    • ধারাবাহিক পদোন্নতি নিশ্চিত করা
    • প্রশিক্ষণ ছাড়াই সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা
    • বেতন স্কেল পূর্ননির্ধারণে পূর্বপ্রাপ্ত টাইম স্কেল ধরে রাখা
    • ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমর্যাদা প্রদান

    গত অক্টোবরে একই দাবিতে আন্দোলন হলেও প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠন।

  • সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কাল থেকে আমরণ অনশনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

    সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কাল থেকে আমরণ অনশনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

    এবিএনএ:  বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের ৫ শতাংশ বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য ও বাস্তব চাহিদা পূরণ করে না। ফলে সোমবার থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

    রোববার সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়, এই ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পরবর্তীতে সমন্বয় করতে হবে এবং এর সঙ্গে কোনো বকেয়া প্রাপ্য যুক্ত হবে না।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিতু মরিয়ম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা এই ঘোষণাকে ‘অপর্যাপ্ত ও প্রহসনমূলক’ বলে দাবি করেছেন।

    এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমাদের দাবি ছিল ২০ শতাংশ বাড়ি ভাতা, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা। এর কম কিছু মেনে নেওয়া হবে না। আমরা সোমবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করছি।”

    তিনি জানান, সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকরা অনশন শুরুর আগে সমাবেশ করবেন।

    এর আগে রোববার বিকেলে শিক্ষকদের একদল থালা-বাটি হাতে ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু হাইকোর্ট মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে ফিরে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।

    শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, “সরকার শিক্ষকদের দাবি বিবেচনা করছে। আমি আশা করি, তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।”

    অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিরা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষ, গাড়ি ও বাসে ভাঙচুর

    সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সংঘর্ষ, গাড়ি ও বাসে ভাঙচুর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার দুপুরে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সরিয়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

    দুপুর সোয়া একটার দিকে ঘটনাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা সংসদ এলাকা থেকে বেরিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তারা পুলিশের গাড়ি, ট্রাক ও বাসে ভাঙচুর চালান।

    টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে থমথমে পরিস্থিতি

    পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আশপাশের জনসাধারণ আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে।

    এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সংসদের দক্ষিণ গেটের সামনের সড়কে ও তাবু এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    সংসদ এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে

    দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পুলিশ পুরো সংসদ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালায়।

    অন্যদিকে খামারবাড়ি সড়কেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে একাধিক টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

    সংঘর্ষের সূত্রপাত

    এর আগে সকাল ১০টার দিকে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত’ সদস্যরা বিভিন্ন দাবিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো ও আহতদের স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা প্রয়োজন।

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদ এলাকা এক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। যদিও বিকেলের দিকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে, তবু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি সামাজিক সংলাপ ও সহনশীলতার প্রয়োজন এখন আরও বেশি বেড়েছে।

  • আন্দোলন থামিয়েও রেহাই নেই! এনবিআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিপাকে মধ্যস্থতাকারীরা

    আন্দোলন থামিয়েও রেহাই নেই! এনবিআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিপাকে মধ্যস্থতাকারীরা

    এবিএনএ:  এনবিআরের চলমান উত্তেজনার মাঝেই সরকার চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবসর ও এক কমিশনারকে বরখাস্ত করেছে। এদের মধ্যে আছেন এনবিআরের কর, শুল্কনীতি, মূসক নীতি ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধে আন্দোলন থামিয়ে কাজে ফিরেছিলেন। সরকারের আশ্বাস ছিল—কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু বর্তমানে যা ঘটছে, তা পুরোপুরি উল্টো। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী নেতারাও।

    বুধবার যাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন এনবিআরের কর বিভাগের আলমগীর হোসেন, শুল্কনীতি ও আইসিটি বিভাগের হোসেন আহমদ, মূসক নীতি বিভাগের আবদুর রউফ ও কমিশনার মো. শব্বির আহমেদ। এর আগে মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার জাকির হোসেনকে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজনকে জনস্বার্থে অবসর দেওয়া হয়েছে।

    বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ বলেন, “ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করা হয়েছিল দেশের স্বার্থে। সরকার আশ্বস্ত করেছিল, কারও চাকরি যাবে না। এখন যা হচ্ছে, তাতে আমরাও বিব্রত।”

    আন্দোলন প্রত্যাহারকারী কর্মকর্তারা জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ীদের সম্মান রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন বন্ধ করেন। কিন্তু এখন সেই কর্মকর্তারাই শাস্তির মুখে।

    দুদক একাধিক দফায় এনবিআরের সদস্য ও অতিরিক্ত কমিশনারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অর্থ উপার্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের।

    ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করে আন্দোলন করা সমর্থনযোগ্য নয়, তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা উচিত ছিল। যেভাবে কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙা হচ্ছে, তা দেশের জন্যও ক্ষতিকর।”

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে বিভাজনের পর থেকেই এনবিআরের কর্মকর্তারা সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক বন্ধ হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব প্রশাসনে।

    সরকারের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা এখন আরও সতর্ক এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চান বলে জানিয়েছেন।

  • বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    এবিএনএ: সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বুধবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল বের হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সচিবালয়ের বাদামতলা এলাকায় জড়ো হন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী। সেখানে বাংলাদেশ সচিবালয় ঐক্য ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির, মো. নুরুল ইসলাম এবং কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

    নেতারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলোচনায় বলেছেন যে, কর্মচারীদের আন্দোলন নাকি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আসলে কি আন্দোলন কমে আসছে? বরং আজকের জমায়েত গতকালের চেয়েও দ্বিগুণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বুধবার প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা মিছিল আসবে সচিবালয়ের দিকে।”

    তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, এই দাবি আমাদের সবার এবং পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

    ফোরামের আরেক কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবির বলেন, “এই আন্দোলন এখন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশে আমাদের সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছেন। আমরা অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

    বুধবার সকাল ১১টায় আবারও সবাইকে সচিবালয়ের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা আবারও বাদামতলায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলন থামবে না, জরুরি সেবা চলবে আগের মতো

    ইশরাক হোসেনের হুঁশিয়ারি: আন্দোলন থামবে না, জরুরি সেবা চলবে আগের মতো

    এবিএনএ:

    বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রার্থী ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, তাকে মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এ আন্দোলনের কারণে নগরবাসীর জরুরি নাগরিক সেবা ব্যাহত হবে না।

    রবিবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ইশরাক এই ঘোষণা দেন। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছি। জনগণের সেবা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ নজর থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “ডিএসসিসির দায়িত্ব নেওয়ার বৈধ অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই আমার শপথ গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

    এদিকে, সকাল থেকেই বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ইশরাকের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন এবং তাকে দ্রুত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

    আন্দোলনের ফলে জনজীবন কিছুটা প্রভাবিত হলেও ইশরাক নিশ্চিত করেন যে, চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা চালু থাকবে।

    ডিএসসিসির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও, সাধারণ নাগরিকদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন—আন্দোলন চললেও সেবামূলক কার্যক্রম থেমে থাকবে না।