Tag: আন্তর্জাতিক

  • ২৬ এপ্রিল: ইতিহাসের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

    ২৬ এপ্রিল: ইতিহাসের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

    এবিএনএ: পৃথিবীর প্রতিটি দিনই ইতিহাসের অংশ। সময়ের ধারাবাহিকতায় কিছু ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং মানুষের মনে স্থায়ী হয়ে থাকে। আজ ২৬ এপ্রিল। ইতিহাসের এই দিনে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যু এবং বিশেষ দিবসের তথ্য তুলে ধরা হলো এক নজরে।

    উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

    ১৫২৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
    ১৫৫৫ সালে জার্মানির অগসবার্গ শহরে কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
    ১৭০১ সালে ব্রিটিশ প্রতিনিধি জন মরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
    ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন জেমস কুক নিউ সাউথ ওয়েলসে পৌঁছান।
    ১৭৮৯ সালে ফ্লেচার ক্রিশ্চিয়ানের নেতৃত্বে ব্রিটিশ জাহাজ বাউন্টিতে নাবিক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
    ১৯১৫ সালে লন্ডনের গোপন চুক্তিতে ইতালিকে বিভিন্ন অঞ্চল দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়া।
    ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লীগ অব নেশনস।
    ১৯২০ সালে আজারবাইজান সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং একই বছরে পোল্যান্ড-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়।
    ১৯৫২ সালে জাপান সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়।
    ১৯৬৫ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
    ১৯৬৯ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস দ্য গল পদত্যাগ করেন।
    ১৯৭২ সালে লাইবেরিয়া বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
    ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
    ১৯৯৫ সালে হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
    ২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম মহাকাশ পর্যটক হিসেবে পরিচিতি পান ডেনিস টিটো।
    ২০০৪ সালে সার্স ভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় অগ্রগতি আসে।

    এই দিনে যাদের জন্ম

    ১৭১২ সালে ফরাসি দার্শনিক জঁ-জাক রুসোর জন্ম।
    ১৭৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৮৮৯ সালে অস্ট্রীয় দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের জন্ম।
    ১৮৯৫ সালে ঢাকার শেষ নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৯২৪ সালে জনপ্রিয় লেখক নারায়ণ সান্যাল জন্ম নেন।
    ১৯৩৭ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইনের জন্ম।
    ১৯৪৭ সালে লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদের জন্ম।
    ১৯৬৩ সালে মার্শাল আর্ট তারকা জেট লির জন্ম।
    ১৯৭০ সালে মেলানিয়া ট্রাম্প জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৯৭৪ সালে স্প্যানিশ অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজের জন্ম।

    এই দিনে যাদের মৃত্যু

    ১৭৪০ সালে ভারতীয় সেনাপতি প্রথম বাজিরাও মৃত্যুবরণ করেন।
    ১৮১৩ সালে রুশ সেনাপতি মিখাইল কুতুজভ মারা যান।
    ১৯২০ সালে ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজনের মৃত্যু হয়।
    ১৯৪৫ সালে ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনি নিহত হন।
    ১৯৫৭ সালে শোতোকান কারাতে প্রতিষ্ঠাতা গিচিন ফুনাকোশি মারা যান।
    ১৯৭৮ সালে আফগান নেতা মোহাম্মদ দাউদ খানের মৃত্যু হয়।
    ১৯৮৯ সালে মার্কিন অভিনেত্রী লুসিল বল মৃত্যুবরণ করেন।
    ২০১৭ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা জোনাথন ডেমি মারা যান।

    দিবস

    ২৬ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিনটি পালন করা হয়।

  • পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    এবিএনএ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এবারের প্রথম ধাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

    এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট হয়েছে ১৫২টি আসনে। এই আসনগুলোতে তিন কোটির বেশি ভোটার রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

    নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে না। পুরো নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে, তখনই জানা যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসছে।

    পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালে। সে সময় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১৫টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।

    সেই নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও দলটি ক্ষমতা ধরে রাখতে মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দলটির শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।

    প্রথম ধাপের ভোটে উচ্চ উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দ্বিতীয় ধাপের ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই নজর সবার।

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    এবিএনএ: লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। আলোচনার পর দুই দেশ নির্দিষ্ট সময় থেকে ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ঘোষণায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি, যদিও ইসরায়েলের সঙ্গে মূল সংঘাত এই গোষ্ঠীকে ঘিরেই চলছে।

    ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, দুই নেতার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত সময় থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ধারাবাহিকতায় স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন।

    এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত থামাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি সফল হলে এটি তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

    বাণিজ্যপথ বন্ধের হুমকি

    বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

    তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের পরই এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজে বাধা দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

    তেলের বাজারে প্রভাব

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

    বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে।

    ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সরকার কর কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

  • মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    এবিএনএ: আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিক কিংবা সৌদি আরবের বাসিন্দাদের কেউই মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন না। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেক বিদেশির কাছে বৈধ পারমিট থাকতে হবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাদের কাছে হজ ভিসা নেই কিংবা কাবা শরিফ সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদন নেই, তাদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনুমতিহীন প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্টে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্টদের ফেরত পাঠানো হবে।

    এদিকে, যেসব ব্যক্তির কাছে ওমরাহ ভিসা রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মক্কা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এসব ভিসাধারীদের শহর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি প্রশাসন বলছে, হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপটিতে একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়। একই দিনে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সেতু, বিমানবন্দর ও শিল্প স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। ফলে সেখানে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় দ্বীপের উত্তরাংশে বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক বাঙ্কার, গুদাম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়। এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    ট্রাম্পের ওই বার্তায় তিনি ইঙ্গিত দেন, সময়সীমা অতিক্রম করলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, খারগ দ্বীপে হামলা কোনো নতুন কৌশলের অংশ নয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেল ও সড়ক সেতু, একটি বিমানবন্দর এবং পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। কাশান এলাকায় একটি রেলসেতুতে হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করলে ইরানের প্রতিক্রিয়া শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সূচনা তারা করেনি, তবে এমন হামলার জবাব দিতে দেরি করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

  • মার্কিন যুদ্ধের শঙ্কায় ইরানে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত—৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

    মার্কিন যুদ্ধের শঙ্কায় ইরানে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত—৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

    এবিএনএ: পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় ইরানে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি ঐতিহ্য ভেঙে বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নেননি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন—মহামারির সময়ও ব্যতিক্রম হয়নি। এবারই প্রথম তাঁর অনুপস্থিতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এই অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর ৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক এক ঘটনার স্মরণে আয়োজিত। সেদিন ইরানি বিমানবাহিনীর একাংশ ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানায়। গত চার দশকে দিনটি রাষ্ট্রীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব পেয়েছে। এ বছর খামেনির বদলে বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ কর্মকর্তা আবদোলরহিম মুসাভি।

    খামেনির অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরান-ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন তীব্র আকার নিয়েছে। অঞ্চলে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে, সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার না আসা নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা কিংবা চলমান হুমকির ইঙ্গিত হতে পারে।

    তেহরান আগেই সতর্ক করেছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অতীতের সীমান্তসংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার রেশ এখনো কাটেনি। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে কি না—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান বিপরীত মেরুতে থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

    এরই মধ্যে আরব সাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও আকাশ নজরদারি জোরদার হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির এই প্রেক্ষাপটে খামেনির সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি একটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য।

    ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো জানান, গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “তখনই আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তিনি এই পুরস্কারের উপযুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।”

    ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মাচাদো। তিনি বলেন, “৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হয়ে থাকবে। এটি শুধু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাচাদোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন।

    তবে মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। নোবেল পাওয়ার পর মাদুরো তাঁকে কটাক্ষ করে ‘ডাইনি’ বলেও আখ্যা দেন।

    ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।

    এদিকে, মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। শপথগ্রহণের পর তিনি মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।