এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি অস্থিরতার মধ্যেই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক চুক্তি। একদিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা জোট—এই দুই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘বাইল্যাটেরাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে ভারত। এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধি, রপ্তানি ও বিনিয়োগে গতি আনা এবং ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ করিডর (আইএমইসি) সচল রাখা। এই করিডরকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের পাল্টা বাণিজ্য রুট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে চুক্তিটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে।

অন্যদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি সরকার। ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স প্যাক্ট’ নামে এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা বহন করছে।
পাকিস্তান অতীতে সৌদির কাছ থেকে বড় আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল। আর এখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হলো। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একক নিরাপত্তা ভরসা হিসেবে দেখার নীতি থেকে সরে এসে সৌদি নতুন অংশীদার খুঁজছে।

অন্যদিকে ভারত-ইসরায়েল চুক্তি ইসরায়েলকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিছুটা স্থিতি এনে দেবে, আর ভারত বাড়াবে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। একইসঙ্গে পাকিস্তান-সৌদি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন চুক্তিগুলো কেবল বাণিজ্য বা সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখাকেও প্রভাবিত করতে পারে।









