Tag: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

  • ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি নতুন চুক্তি: ভূরাজনীতিতে কার লাভ, কার সংকেত?

    ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি নতুন চুক্তি: ভূরাজনীতিতে কার লাভ, কার সংকেত?

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি অস্থিরতার মধ্যেই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে ভারত-ইসরায়েল ও পাকিস্তান-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক চুক্তি। একদিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা জোট—এই দুই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘বাইল্যাটেরাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে ভারত। এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধি, রপ্তানি ও বিনিয়োগে গতি আনা এবং ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ করিডর (আইএমইসি) সচল রাখা। এই করিডরকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের পাল্টা বাণিজ্য রুট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে চুক্তিটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে।

    অন্যদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি সরকার। ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স প্যাক্ট’ নামে এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা বহন করছে।

    পাকিস্তান অতীতে সৌদির কাছ থেকে বড় আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল। আর এখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হলো। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একক নিরাপত্তা ভরসা হিসেবে দেখার নীতি থেকে সরে এসে সৌদি নতুন অংশীদার খুঁজছে।

    অন্যদিকে ভারত-ইসরায়েল চুক্তি ইসরায়েলকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিছুটা স্থিতি এনে দেবে, আর ভারত বাড়াবে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। একইসঙ্গে পাকিস্তান-সৌদি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

    দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন চুক্তিগুলো কেবল বাণিজ্য বা সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

  • মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের আহ্বান

    মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের আহ্বান

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রশাসনের চাপ ও অতিরিক্ত শুল্কের হুমকির মাঝেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে নতুন করে জোর দিচ্ছে ভারত। মস্কো সফরের প্রথম দিনেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

    রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মন্তুরেভের সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের বাজারে রাশিয়ার সংস্থাগুলোর জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আরও কাজে লাগানো উচিত। তিনি জানান, গত চার বছরে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে ১ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, “বিশ্ব রাজনীতির জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব অটুট রেখেছে এবং সেটি আরও প্রসারিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মন্তুরেভ জানান, গত পাঁচ বছরে দুই দেশের বাণিজ্য ৭০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং বর্তমানে ভারত রাশিয়ার শীর্ষ তিন বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে রয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও নগরায়ণ প্রক্রিয়া বিদেশি ব্যবসার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব উদ্যোগ রাশিয়ার কোম্পানির জন্য ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সরকার ও ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।”

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ২৭ আগস্ট থেকে আরও ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এতে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। এই প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করার বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত।

  • বন্ধুত্বে ফাটল, শুল্কে চাপ: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি রুশ তেলের বলি?

    বন্ধুত্বে ফাটল, শুল্কে চাপ: মোদি-ট্রাম্প সম্পর্ক কি রুশ তেলের বলি?

    এবিএনএ:  ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের প্রশংসায় সরগরম ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মোদির অনুসারীরাও ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন উদযাপন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে সেই উষ্ণতা এখন শীতলতায় রূপ নিয়েছে।

    সম্প্রতি ভারতের বেনারসে এক সমাবেশে মোদি বলেন, “আমরা এখন শুধুমাত্র সেই পণ্যই কিনব, যা ভারতীয়দের ঘামে তৈরি।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫% শুল্ক আরোপের জবাব।

    তবে শুধু শুল্ক নয়, বিষয়টির পেছনে রয়েছে বৃহৎ কৌশলগত চাপ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হোক। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ভারতের রুশ তেল আমদানি সরাসরি যুদ্ধ অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, “ভারত রাশিয়ার তেল কিনে ইউক্রেনে হত্যাযজ্ঞে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। এর জবাবে শুল্ক অনেক বাড়ানো হবে।”

    এই অভিযোগে নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বরং বরাবরের মতো আত্মনির্ভর নীতিতে অনড় থেকেছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও স্থানীয় শিল্প রক্ষার জন্য তারা মার্কিন শর্তে সাড়া দিতে আগ্রহী নয়।

    ভারতের প্রায় ৫০% মানুষ কৃষিজীবী হওয়ায় সরকার বারবার কৃষিপণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিতে অনিচ্ছুক। ভারতীয় কর্মকর্তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্কও আর আগের মতো নেই। রাশিয়ার একটি ট্যাবলয়েড তাদের সম্পর্ককে “দুটি ট্রেন বিপরীত দিক থেকে এক লাইনে ধেয়ে আসছে”—এইভাবে ব্যাখ্যা করেছে।

    ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ১০ দিনে আনা হয়। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষের পথে, কিন্তু পুতিনের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেখা যাচ্ছে না।

    এই পটভূমিতে ট্রাম্প যেন ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন ভারতের দিক থেকে চাপ প্রয়োগে। ভারতের রাশিয়ার প্রতি কৌশলগত নির্ভরতা, বিশেষত জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে, ওয়াশিংটনকে ক্রমেই অস্বস্তিতে ফেলছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ভারত এখন ‘বন্ধু হলেও বিশ্বাসযোগ্য নয়’।

    তবু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নয়, বরং নিজের স্বার্থেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আর এই নীতিগত অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মোদি-ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • শান্তি আলোচনায় রাশিয়াকে নতুন প্রস্তাব ইউক্রেনের, নেতৃত্ব পর্যায়ে বৈঠকের ইঙ্গিত জেলেনস্কির

    শান্তি আলোচনায় রাশিয়াকে নতুন প্রস্তাব ইউক্রেনের, নেতৃত্ব পর্যায়ে বৈঠকের ইঙ্গিত জেলেনস্কির

    এবিএনএ:  রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথ খুলে দিতে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। কয়েক সপ্তাহ বিরতির পর পূর্ব ইউরোপের এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি আবারও কূটনৈতিক সমাধানে অগ্রসর হচ্ছে।

    আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী সপ্তাহে শান্তি আলোচনায় বসার জন্য ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির নতুন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, যিনি সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছেন।

    শনিবার এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধ থামানোর জন্য যা কিছু করা দরকার, তা আমরা করব। এখন রাশিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”

    জেলেনস্কি আরও বলেন, শান্তি অর্জনের জন্য নেতৃত্ব পর্যায়ে সরাসরি বৈঠক হওয়া উচিত। তার মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের আলোচনার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সংকটের বাস্তব সমাধান সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।

    আল জাজিরা জানায়, সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রুস্তেম উমেরভ এর আগে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে শান্তি আলোচনা দ্রুততর করার জন্য বিশেষ দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যদি রাশিয়া ইতিবাচকভাবে নেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথে এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো রাশিয়া। মস্কোর কড়া বক্তব্য—এই সংকটে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-কে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে সেনা বা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটি একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুটি বিপরীত শিবিরে

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় দুটি পরাশক্তি এখন স্পষ্টভাবে দুই বিপরীত অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, অন্যদিকে রাশিয়া তেহরানকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রক্ষা করছে। এ বছরের শুরুতে পুতিন ও ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হয় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, যাতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের শঙ্কা: বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যও নাড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে থাকলেও এই ইস্যু তা আবার উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ যে কত বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, সেটাই যেন রাশিয়া বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।

  • রাজা চার্লসের সঙ্গে মুখোমুখি অধ্যাপক ইউনূস, বাকিংহাম প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাজপ্রাসাদে আলোচনার ঝলক

    রাজা চার্লসের সঙ্গে মুখোমুখি অধ্যাপক ইউনূস, বাকিংহাম প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে রাজপ্রাসাদে আলোচনার ঝলক

    এবিএনএ:

    ব্রিটেন সফরের সময় ঐতিহাসিক এক সৌজন্য সাক্ষাৎ হলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেসে।

    সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিশেষ মুহূর্তের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে রাজা চার্লস ও অধ্যাপক ইউনূসকে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপে মগ্ন দেখা যাচ্ছে।

    বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছালে রাজা চার্লস নিজেই অধ্যাপক ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানান। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য নির্মূল এবং পৃথিবীকে টেকসইভাবে রক্ষা করার জন্য ড. ইউনূসের ‘তিন শূন্যের’ আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, রাজা চার্লস বহুদিন ধরেই অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে আসছেন। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম হোক কিংবা সমাজকল্যাণে সামাজিক উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই ব্রিটিশ রাজা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি আরও জানান, রাজা চার্লস এক সময় ড. ইউনূসের একটি গ্রন্থের ভূমিকাও লিখেছিলেন, যা দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির মনের মিল ও মূল্যবোধের অভিন্নতার প্রমাণ।

    এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধু দুই দেশের বন্ধুত্বের ইঙ্গিত নয়, বরং বিশ্বব্যাপী শান্তি, মানবতা ও টেকসই উন্নয়নের দিশাও দেখায়।

  • লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এয়ারবাস কর্মকর্তার গোপন বৈঠক: আলোচনার ইঙ্গিত কী?

    লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এয়ারবাস কর্মকর্তার গোপন বৈঠক: আলোচনার ইঙ্গিত কী?

    এবিএনএ:

    লন্ডনের এক বিলাসবহুল হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াউটার ভ্যান ওয়ার্শ।

    মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। যদিও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পরদিন মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে তিনি হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সফরের শুরুতেই এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব আসছে! পুতিনকে সমর্থন ট্রাম্পের, হুঁশিয়ারি দিলেন নিজেই

    এবিএনএ:

    ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেই আলোচনায় পুতিন জানান, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেন যে আক্রমণ চালিয়েছে, তার জবাব রাশিয়াকে দিতেই হবে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মস্কো আগে থেকেই বলেছিল—যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামরিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো শান্তি আসছে না, বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।”

    এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পুতিন ও ট্রাম্প উভয়েই রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘সম্ভাবনাময়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।

  • কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    এবিএনএ: 

    কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর নতুন করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত পাকিস্তান। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং সৈন্যরা তাদের পূর্ববর্তী শান্তিকালীন অবস্থানে ফিরে যাবে।

    পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টানা চার দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ৭০ জন। নয়াদিল্লি হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

    এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষিত আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ফলে সীমান্তে ড্রোন, বিমান, কামান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ হয় এবং বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের মধ্যেই সব সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে।”

    ভারতের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানায়, কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘেঁষা অঞ্চলসহ সীমান্ত এলাকার অতিরিক্ত সেনা কমানো নিয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে দুই দেশ

    যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে দুই দেশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান কৌশলগত উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ১৩১ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে, যা ‘ফরেন মিলিটারি সেলস’ পদ্ধতির অধীনে বাস্তবায়ন হবে।

    চুক্তিটি মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও উপস্থাপন করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সহায়তার ফলে ভারতের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অনেক গুণ বাড়বে। পাশাপাশি ভারত-আমেরিকার কৌশলগত বোঝাপড়া আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

    স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই সামরিক সহায়তা কেবল ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইন্দো-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, বরং সামরিক কৌশলগত ভারসাম্যের একটি শক্ত ভিত্তিও তৈরি করবে।

    এ বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি দুই দেশের যৌথ সামরিক কৌশলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।