Tag: আন্তর্জাতিক সংঘাত

  • মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    এবিএনএ:ভারতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে ডুবে গেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডেনা। শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৮৭ জন নৌসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬২ জনের খোঁজ মেলেনি।

    ইরানের এই ফ্রিগেট চলতি বছরের মিলান ২০২৬ মহড়ায় অংশ নিতে ভারতের জলসীমায় আসে। এর আগেও ২০২৪ সালে একই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাহাজটি। মহড়া শেষ করে নিজ দেশে ফেরার পথে এই বিপর্যয় ঘটে।

    মহড়ার লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট

    ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘মিলান’ মহড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সামুদ্রিক আয়োজন। এতে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী অংশ নিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা, সমন্বিত অভিযান ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুশীলন করে। হারবার ও সি-ফেজে সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মতো জটিল মহড়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রকাশ্যে এলো বিস্ফোরণের ভিডিও

    ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে, যা সাবমেরিনের পেরিস্কোপ থেকে ধারণ করা। ভিডিওতে দূরে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সামরিক অভিযানের এমন তাৎক্ষণিক চিত্র প্রকাশের ঘটনা বিরল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    অনুসরণ করছিল কি সাবমেরিন?

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান থেকে ভারত পর্যন্ত যাত্রাপথে মার্কিন সাবমেরিনটি গোপনে আইরিস ডেনা-কে নজরদারিতে রেখেছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এক দেশের নৌবাহিনীর অন্য দেশের জাহাজকে অনুসরণ করা অস্বাভাবিক নয়।

    এই ঘটনার পর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

  • কৃষ্ণ সাগরে আগুনের লেলিহান শিখা: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তামান বন্দর কার্যত অচল

    কৃষ্ণ সাগরে আগুনের লেলিহান শিখা: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তামান বন্দর কার্যত অচল

    এবিএনএ: ইউক্রেনীয় ড্রোন অভিযানে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর তামান বন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে তেল ও তেলজাত পণ্য, শস্য, কয়লাসহ নানা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়। হামলার পর বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং একাধিক স্থাপনা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

    রাশিয়ার ক্রাসনোদার প্রদেশ–এর গভর্নরের বরাতে জানা গেছে, ড্রোন আঘাতে তেলের স্টোরেজ ইউনিট, গুদামঘর ও টার্মিনাল ভবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ঘটনায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বন্দর এলাকার বিভিন্ন অংশে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

    একই রাতে কৃষ্ণ সাগর উপকূলের পর্যটন শহর সোচি এবং কাছের শহর আনাপা–সংলগ্ন একটি গ্রামেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    এদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী তামান বন্দরে হামলার কথা স্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, সামনের দিনগুলোতে রাশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তরের পাল্টা উত্তরের মাধ্যমে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

    এই হামলার জবাবে ইসরায়েল রাজধানীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজিয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

    তবে এখন পর্যন্ত এই নতুন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    এর আগে শনিবার রাতভর দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তাতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার রেশ না কাটতেই আবারও ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে মরিয়া।