Tag: আন্তর্জাতিক বাজার

  • হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    এবিএনএ: দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দামে নতুন সমন্বয় করা হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্য হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    তিনি বলেন, রমজান মাস থেকেই ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে তাদের দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পায়। তবে প্রস্তাবিত পূর্ণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কম থাকে।

    সরকার আশা করছে, নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং রিফাইনারদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান দামেও তাদের ব্যয় পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন খরচ, খালাস ব্যয় ও রিফাইনিং খরচ যুক্ত করেই তারা মূল্য নির্ধারণ করেন বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নির্ধারণের সূত্র উন্মুক্ত।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দেশীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন দামের বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং খুচরা পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

  • এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এলপি গ্যাসের দাম ৩৪% বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার টাকা

    এবিএনএ: দেশের বাজারে গত এক বছরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দেখিয়ে কয়েক দফায় মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে সরাসরি চাপ পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।

    বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর আর কখনো হাজার টাকার নিচে নামেনি এই জ্বালানির দাম।

    চার মাসেই বেড়েছে ৬৩৪ টাকা

    চলতি বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে এলপিজির মূল্য। জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এপ্রিলের শুরুতে বড় ধরনের লাফ দিয়ে দাম হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। পরে আবার বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে বছরের প্রথম চার মাসেই দাম বেড়েছে ৬৩৪ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতিফলন

    এলপিজি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম খরচ সঠিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছিল না। সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণে এসব বিষয় সমন্বয় করায় ব্যবসায়ীদের দাবি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    এলপিজি অপারেটরদের মতে, স্পট মার্কেটে আমদানির প্রিমিয়াম ও জাহাজ বিমার খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সরকারি দামের চেয়ে বেশি বাজারমূল্য

    সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকলেও খুচরা বাজারে সাধারণত তার চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও পরিবহন ও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

    বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্র্যান্ডের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বাড়তি চাপে জনজীবন

    জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার ধারাবাহিকতায় এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম বাড়ায় গৃহস্থালির খরচ বেড়েছে আরও বেশি।

    ভোক্তারা বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে, আবার এলপিজিও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে মাসিক খরচ বেড়ে কয়েক হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    যা বলছে বিইআরসি

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

  • তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    এবিএনএ: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

    সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে পেট্রলের শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায় এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ভোক্তা নাকি কোম্পানি—কে বেশি উপকৃত?

    এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে দেশে জ্বালানির দাম স্থির রাখা হয়েছিল।

    এর ফলে এসব কোম্পানি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। শুল্ক কমানোর মাধ্যমে সেই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    পটভূমি: কেন এই সিদ্ধান্ত

    গত বছর সরকার জ্বালানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো থেকে বিরত থাকতে সরকার দাম বাড়ায়নি।

    ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, সরকারের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হলো জ্বালানির দাম বাড়ানো, অন্যটি হলো আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে জনগণকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরবরাহ পরিস্থিতি

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস

    ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

    সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাস কোনো সংকট ছাড়াই সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আপাতত বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে জ্বালানির দাম।

  • আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড, বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রথমবার দুই লাখ টাকা ছাড়ালো

    আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড, বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রথমবার দুই লাখ টাকা ছাড়ালো

    এবিএনএ: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর কারণে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি ভরি দুই লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা জানিয়েছে।

    বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি দুই লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেট এক লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট এক লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি এক লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দাম ছিল যথাক্রমে ২২ ক্যারেট এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেট এক লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট এক লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন এক লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সুদের হার কমানো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ ক্রয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা স্বর্ণের চাহিদা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের উত্তেজনা, এছাড়া এশিয়ার অর্থনৈতিক অস্থিরতা দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

    স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিশ্লেষক সুকি কুপার জানিয়েছেন, মৌসুমি চাহিদা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হ্রাসের কারণে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটার জানান, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম আরও বাড়িয়েছে।

    দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম উচ্চ থাকায় দেশে স্বর্ণের দামও কমার সম্ভাবনা সীমিত।

  • তেল কমাতে চায় সরকার, আপত্তি জানালেন ব্যবসায়ীরা — নতুন করে বৈঠক শনিবার

    তেল কমাতে চায় সরকার, আপত্তি জানালেন ব্যবসায়ীরা — নতুন করে বৈঠক শনিবার

    এবিএনএ:  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা হলেও, তেল ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা প্রস্তাবিত মূল্য হ্রাসকে অবাস্তব ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন।

    মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, ট্যারিফ কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ও দেশের প্রধান ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি, মেঘনা, টি কে ও বসুন্ধরা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে উপস্থাপিত ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ছিল যথাক্রমে ১০৭৯ ও ১০১৭ ডলার। যা ১৫ এপ্রিলের তুলনায় সয়াবিনে ০.৭% বৃদ্ধি ও পাম অয়েলে ৩% হ্রাস পেয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতি লিটার পাম অয়েলে ১৯ টাকা এবং সয়াবিনে ১ টাকা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, কমিশনের এই বিশ্লেষণ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম আরও বেশি বলে তারা জানান। এছাড়া, কমিশনের হিসাবে ভ্যাট ও আমদানি ব্যয় যুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

    মেঘনা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের হিসাবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ১১০০ ডলারেরও বেশি। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দাম কমানো সম্ভব নয়।’

    সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার মূল্য নতুন করে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ভিত্তিতে ২৭ জুলাই আবার বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    সরকার ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে চাইলেও, ব্যবসায়ীরা বলছেন— আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দাম কমানো সম্ভব নয়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য তেলের মূল্য কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত রয়ে গেছে।