Tag: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনী

  • পলাতক থাকার অবসান: অবশেষে ট্রাইব্যুনালে হাজির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ

    পলাতক থাকার অবসান: অবশেষে ট্রাইব্যুনালে হাজির রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ

    এবিএনএ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় তাকে আদালতে তোলা হয়।

    রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে তাকে হাজির করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

    জানা গেছে, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথমে তাকে শনাক্ত করে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।

    আজ তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করার কথা রয়েছে।

    এর আগে গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। সেই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ট্রাইব্যুনালের এই বিচারপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    এবিএনএ: রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে। এ মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুর রউফকে এদিন অবশিষ্ট জেরা করেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। জেরা শেষে একমাত্র গ্রেপ্তার থাকা আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

    আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন।

    এই মামলায় হাবিবুর রহমান ছাড়াও পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিন সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিমসহ অন্য আইনজীবীরা।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে পুলিশ ছয় রাউন্ড গুলি চালায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন এবং মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা মারাত্মকভাবে আহত হয়, যে এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না।

    এই ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

  • রায়কে ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সেনা মোতায়েনের অনুরোধ সুপ্রিমকোর্টের

    রায়কে ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সেনা মোতায়েনের অনুরোধ সুপ্রিমকোর্টের

    এবিএনএ: মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ আশেপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারাধীন এই মামলাটিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    রবিবার সুপ্রিমকোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে সেনা সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত সেনা সদস্য নিয়োগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার তারিখ প্রকাশ পাওয়ার পরও একই ধরনের অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ওইদিন সুপ্রিমকোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

    দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও মামলাটির সংবেদনশীলতার কারণে আদালতপাড়ায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। এ কারণে ঢাকাসহ চারটি জেলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।

    উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও দুজন আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন এ মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

  • ঢাকা সেনানিবাসের ভবনকে সাময়িক কারাগার ঘোষণা, সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার পরবর্তী পদক্ষেপ

    ঢাকা সেনানিবাসের ভবনকে সাময়িক কারাগার ঘোষণা, সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার পরবর্তী পদক্ষেপ

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (১২ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪১(১) ও দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট ১৮৯৪-এর ধারা ৩(বি) অনুযায়ী, সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত ‘এমইএস’ বিল্ডিং নং–৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

    সরকারের এই ঘোষণা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভবনটি কোন উদ্দেশ্যে সাময়িক কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ অক্টোবর সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, পরোয়ানাভুক্ত ১৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন সেনা হেফাজতে এসেছেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে ‘ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট’ বা পলাতক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেনানিবাসের ভবনটিকে সাময়িক কারাগার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার প্রেক্ষিতেই গৃহীত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে, পলাতক এক জেনারেল: সেনাসদর

    মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে, পলাতক এক জেনারেল: সেনাসদর

    এবিএনএ: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিতে থাকা ১৫ কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা এলপিআরে (লিভ প্রিপারেটরি টু রিটায়ারমেন্ট) আছেন। আরেক কর্মকর্তা এখনো পলাতক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সেনাসদর।

    শনিবার বিকেলে ঢাকার সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান আরও জানান, গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন অবসরে, একজন এলপিআরে এবং বাকিরা চাকরিতে কর্মরত। মামলা হওয়ার পর ১৫ কর্মকর্তা ও ওই এলপিআর কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে আসেন।

    তিনি আরও বলেন, “মেজর জেনারেল কবির আহমেদ গত ৯ অক্টোবর আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন, তবে এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। তিনি এখনো সেনাসদরে যোগ দেননি। তাঁর বিষয়ে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কেউ দেশত্যাগ করতে না পারে।”

    কর্মরত কর্মকর্তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নে সেনা মুখপাত্র বলেন, “বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

    তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুম, হত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার চায়। সেনাবাহিনী ইনসাফে বিশ্বাসী এবং কোনোভাবেই আইনের বাইরে কেউ নয়। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনাল থেকে চার্জশিটের কপি পাওয়া যায়নি। কপি হাতে পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাচাই করা হবে।”

  • উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

    উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

    এবিএনএ: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, ২০২৫’, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (তৃতীয় সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এগুলো লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে সভায় জানানো হয়।

    সরকারি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে, টেলিযোগাযোগ খাত আরও আধুনিক হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

  • সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ২০১৬ সালে গাজীপুরে ‘সাজানো জঙ্গি নাটক’ দেখিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

    সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

    তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট পুলিশের সহায়তায় একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে সাতজন যুবক নিহত হন।

    প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, নিহতদের কাউকে ওই ঘটনার আগে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে এনে বাড়িতে আটকে রেখে নাটক সাজানো হয় এবং পরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ঘটনাটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন।

    গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

    এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থকে ঘিরে সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীসহ ১২৩ জনের অর্থ ও ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নজরদারি শুরু করেছে।

  • গণভবনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের অনুরোধ, পা ধরে কেঁদে ফেলেন শেখ রেহানা!

    গণভবনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের অনুরোধ, পা ধরে কেঁদে ফেলেন শেখ রেহানা!

    এবিএনএ, 

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পা ধরে তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করেছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

    রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে বিচারকদের সামনে লিখিতভাবে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

    চিফ প্রসিকিউটর আদালতে জুলাই-আগস্ট মাসের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে বলেন, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেষ মুহূর্তেও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং রক্তপাতের পথ বেছে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

    তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট শেখ রেহানা গণভবনে শেখ হাসিনার পা ধরে পদত্যাগ করার অনুরোধ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধের পর তিনি পদত্যাগ করতে রাজি হন।

    আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব যে শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের বিচার এবং অপরাধ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে রয়েছে।

    এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

  • আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে চাঞ্চল্য

    আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে চাঞ্চল্য

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সোমবার আইনশৃঙ্খলা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, দলটির বিচারাধীন অবস্থায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল, তাদের অঙ্গসংগঠন কিংবা সমর্থকদের বিরুদ্ধেও বিচার শাস্তি আরোপ করা যাবে। সংশোধনীর অনুমোদনের মাধ্যমে আইনটি আরও কার্যকর রূপ পেয়েছে।

    শনিবার অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তার ভাষায়, দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, এবং চলমান জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম সাইবার জগতসহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    আইন উপদেষ্টা আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্যও এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন, পরবর্তী কর্মদিবসে বিস্তারিত নির্দেশনা পরিপত্র জারি করা হবে।

    একইসাথে, বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে, যার পরিণতি হতে পারে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

  • বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম বন্ধ! সরকারী সিদ্ধান্তে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

    বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম বন্ধ! সরকারী সিদ্ধান্তে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

    এবিএনএ:  আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী কর্মদিবসে বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। এতে আওয়ামী লীগের মূল দল ছাড়াও এর অঙ্গসংগঠন সমর্থকদের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকবে।

    বৈঠকে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল তার সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, “দেশের সার্বভৌমত্ব নিরাপত্তা রক্ষায়, এবং জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মী ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”

    এছাড়াও, বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।