Tag: আদালত

  • ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, বন্ধ হলো জুমার নামাজ

    ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা আদালতের, বন্ধ হলো জুমার নামাজ

    এবিএনএ: ভারতের মধ্যপ্রদেশে বহু বছর ধরে বিতর্কিত একটি ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের ধার এলাকায় অবস্থিত কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ভোজশালা মন্দিরের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের ফলে সেখানে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটিতে প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র ও দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এটিকে মন্দির হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

    মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ

    এর আগে ২০০৩ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (এএসআই)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে সেখানে মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করতে পারতেন। একইসঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও পূজার সুযোগ পেতেন।

    তবে সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর এখন থেকে সেখানে কেবল হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি বিজয় কুমার শুকলা ও অলোক অস্তি তাদের রায়ে বলেন, তদন্ত ও জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোজশালাটি মূলত সরস্বতী দেবীর উপাসনালয় এবং শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

    আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, বর্তমানে লন্ডনের একটি জাদুঘরে থাকা সরস্বতী দেবীর মূর্তি সেখানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

    দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি

    হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এই স্থাপনাটি প্রাচীনকালে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতী মন্দির ছিল। তাদের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয় হওয়ায় অন্য কোনো ধর্মীয় কার্যক্রম সেখানে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়।

    অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায় বলছে, কয়েকশ বছর ধরে স্থানটি কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

    ২০২৪ সালের জরিপের পর নতুন রায়

    ধর্মীয় বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ওই স্থাপনায় জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেয়। জরিপকারী দল দাবি করে, স্থাপনাটির বিভিন্ন কাঠামো ও নিদর্শন পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।

    এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সর্বশেষ রায় দিয়েছে আদালত।

    নতুন মসজিদের জন্য জমি চাওয়ার পরামর্শ

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে।

    এদিকে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ভারতের ধর্মীয় রাজনীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

  • হ্যালোইন পার্টি শেষে নির্মম হত্যাকাণ্ড: ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেনের মৃত্যুর পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    হ্যালোইন পার্টি শেষে নির্মম হত্যাকাণ্ড: ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেনের মৃত্যুর পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ:হ্যালোইন পার্টি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেন। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া, যেখানে তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর তথ্য অনুযায়ী, হত্যার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ২৬ বছর বয়সী ভেকি সানি মাতাবিসওয়ানা নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ।

    কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা?

    ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার অঞ্চলে, গত বছরের ১ নভেম্বর ভোরে। হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত হামলায় হার্ডেন আত্মরক্ষার কোনো সুযোগই পাননি।

    বর্তমানে মামলাটি শুনানি চলছে প্রিস্টন ক্রাউন কোর্ট-এ। বিচার চলাকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ভেকি এবং নিহত হার্ডেন আগে থেকে একে অপরকে চিনতেন না।

    পার্টি থেকে বের হওয়ার পরই বিপর্যয়

    ঘটনার রাতে দুজনই উপস্থিত ছিলেন স্ট্যাকস্টেডস এলাকার ‘রোজমাউন্ট ওয়ার্কিং মেনস ক্লাব’-এ আয়োজিত একটি হ্যালোইন পার্টিতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের দিকে মদ্যপ অবস্থায় ক্লাব ত্যাগ করেন হার্ডেন।

    কিছুক্ষণ পর নিউচার্চ রোডে তার সঙ্গে দেখা হয় ভেকি ও তার বান্ধবীর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই ভেকি হামলা চালান।

    আকস্মিক হামলা ও মৃত্যুর কারণ

    সিসিটিভি অনুযায়ী, ভেকি হার্ডেনকে মাটিতে ফেলে মাথায় জোরালোভাবে আঘাত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুরুতর আঘাতের কারণে হার্ডেন দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন এবং জরুরি সহায়তা চাওয়ার আগেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

    ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাতের ফলে তার খুলিতে ফাটল ধরে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়—যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    আদালতে কী বলা হয়েছে?

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিকোলাস রোডস কেসি আদালতে জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বান্ধবীর সঙ্গে হার্ডেনের কথা বলা দেখে উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান।

    গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা

    ঘটনার পর অভিযুক্ত ভেকি একাধিকবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বর্তমানে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

  • পূজা চেরির বাবার ১৩ কোটি আত্মসাত মামলা, কারাগারে প্রেরণ

    পূজা চেরির বাবার ১৩ কোটি আত্মসাত মামলা, কারাগারে প্রেরণ

    এবিএনএ:  ১৩ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেফতার করেছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয় এবং পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। অভিযোগ দায়েরের দিনই পুলিশ অভিযুক্ত দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আদালত সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগ ও ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ও তার এক বন্ধুর কাছ থেকে নগদ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার নেন দেবু প্রসাদ রায়। পরবর্তীতে একই ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা নেন।

    এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মে তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে নগদ আরও ৬ কোটি টাকা গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠান ভুক্তভোগী।

    মামলায় দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও টাকা ফেরত দেননি দেবু প্রসাদ রায়। বরং টাকা চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখান এবং পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।

    পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

    শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

    এবিএনএ: শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এক আদালতের রায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল ও মেটাকে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া এই রায়ে মোট ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে মেটাকে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং গুগলকে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ডিজাইন নিয়েই মূল অভিযোগ

    আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে উৎসাহিত করে এবং তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মামলাটি করেছিলেন এক তরুণী, যিনি অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়েন। আদালতে তিনি জানান, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও ছবি শেয়ারিং অ্যাপের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার—বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’—তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখত।

    জুরির পর্যবেক্ষণ

    জুরি বোর্ড মনে করেছে, এই ধরনের ডিজাইন ব্যবহারকারীদের আচরণ প্রভাবিত করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অবহেলার দায় এড়াতে পারে না।

    নতুন আইনি দৃষ্টান্ত

    এই মামলার বিশেষ দিক হলো—এখানে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের গঠন ও ডিজাইনকেই দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে সাধারণত কনটেন্টের জন্য কোম্পানিগুলো দায়মুক্তি পায়। কিন্তু এই রায় সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই ধরনের অভিযোগে আরও বহু মামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া

    রায়ের সঙ্গে একমত নয় গুগল ও মেটা। তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

    অন্যদিকে, একই মামলায় জড়িত আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম—স্ন্যাপ ও টিকটক—শুরুতেই সমঝোতায় পৌঁছায়, ফলে তারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে।

    বড় প্রভাবের ইঙ্গিত

    গত এক দশকে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখন আদালত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করতে বাধ্য করা হতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় নতুন আইন ও নীতিমালাও আসতে পারে।

    উপসংহার

    সব মিলিয়ে, এই রায় ডিজিটাল বিশ্বের জবাবদিহিতার প্রশ্নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

  • রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    এবিএনএ: রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে। এ মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুর রউফকে এদিন অবশিষ্ট জেরা করেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। জেরা শেষে একমাত্র গ্রেপ্তার থাকা আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

    আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন।

    এই মামলায় হাবিবুর রহমান ছাড়াও পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিন সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিমসহ অন্য আইনজীবীরা।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে পুলিশ ছয় রাউন্ড গুলি চালায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন এবং মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা মারাত্মকভাবে আহত হয়, যে এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না।

    এই ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

  • “গোলাম হতে চাই না”– আদালতে নিজ বক্তব্য রাখলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

    “গোলাম হতে চাই না”– আদালতে নিজ বক্তব্য রাখলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

    এবিএনএ: ঢাকায় আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন।

    আদালতে রিমান্ড শুনানিতে আনিস আলমগীর বলেন, “একটি নির্দিষ্ট দল আমাকে তাদের গোলাম বানাতে চায়। কিন্তু আমি তাদের হালুয়া-রুটি খাবো না। সাংবাদিক হিসেবে আমার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। আমি তা করবো।”

    এর আগে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার ইন্সপেক্টর মুনিরুজ্জামান আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতে আনিস আলমগীরকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাজির করা হয়। তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও হাতকড়া পরেই আদালতে ওঠেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে আনিস আলমগীর দেশদ্রোহী কার্যক্রম ও উস্কানিমূলক বক্তব্যে জড়িত। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী নাজনীন সুলতানা বলেন, তিনি একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিক্ষক, এবং তার বক্তব্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অংশ।

    আদালতে নিজ বক্তব্যে আনিস আলমগীর বলেন, “যুদ্ধে তালেবানরা আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। মৃত্যু ভয় আমাকে আর তাড়াতে পারে না। খালেদা জিয়ার আমলেও প্রশ্ন করেছি, শেখ হাসিনার আমলেও করেছি, এখনো করি এবং করবো।”

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরও কিছু গ্রুপ দেশের অবকাঠামো ধ্বংস ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম চালানোর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশন টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠন পুনরায় সক্রিয় করার প্রচেষ্টা চলছে।

    আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে রাখার আদেশ দেন।

  • সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত

    সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে পুলিশের হেফাজতে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান আদালতে আনিস আলমগীরকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আংশিকভাবে আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড অনুমোদন দেন।

    এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে বের হওয়ার সময় আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

    ওই রাতেই জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদের করা মামলায় আনিস আলমগীরসহ চারজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তৎপরতা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোর মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন পুনরুজ্জীবনের গুজব ও প্রচারণা চালানো হয়।

    এতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু কর্মী উৎসাহিত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম ও সহিংসতায় জড়াচ্ছে বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

    সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

    এবিএনএ: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান ঢাকার আদালতে এ আবেদন করেন।

    ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে বের হওয়ার সময় আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

    ওই রাতেই জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদের দায়ের করা মামলায় আনিস আলমগীরসহ চারজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন পুনর্বাসনের পক্ষে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

    এ ধরনের প্রচারণার ফলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু কর্মী রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা এবং সহিংস কার্যক্রমে উৎসাহিত হচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • বাগেরহাটে ব্র্যাক কর্মী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বাগেরহাটে ব্র্যাক কর্মী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটে ব্র্যাক এনজিওর এক নারী কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে জিহাদ শেখ (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রোজিনা আক্তার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
    দণ্ডপ্রাপ্ত জিহাদ শেখ সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বেনেগাতি গ্রামের মৃত লুৎফর শেখের ছেলে।

    ব্র্যাকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফকির মো. নওরেশুজ্জামান লালন জানান, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট দুপুরে এনজিওর মাইক্রোফাইন্যান্স বিভাগের এক নারী কর্মী বেনেগাতি এলাকায় অফিসের কাজ শেষে সার্ভে করছিলেন। ওইসময় সনাতন দাস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তথ্য সংগ্রহের সময় আসামি জিহাদ তাকে অন্য একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায়।

    পথিমধ্যে বৃষ্টির কারণে আশেপাশে কেউ না থাকায় জিহাদ শেখ আকস্মিকভাবে তার গলায় দা ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন জায়গায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাগেরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ধারায় মামলা করেন।

    মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেন। দীর্ঘ শুনানি ও নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর, আদালত আদালত আসামিকে দোষী প্রমাণিত করে এ দণ্ড ঘোষণা করেন।

    রায়ের পর আদালতের বেঞ্চ সহকারী জানান, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ঘটনার বিবরণ বিচার করে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অতিরিক্ত সাজা নিশ্চিত করেছেন।

     

  • বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা: রাকিবসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

    বাগেরহাটে নাবালিকা ধর্ষণচেষ্টা: রাকিবসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

    এবিএনএ: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা দিতে না পেরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযোগে বলা হয়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বাদেকাড়াপাড়া এলাকার রাকিব নামের এক যুবক ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়। পরে কৌশলে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল তার সহযোগী রাহুল ও আলমগীরসহ আরও কয়েকজন

    তারা মেয়েটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। তবে অভিযুক্তদের একজনকে হাতে নাতে ধরা হলেও পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাকে ছাড়িয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    জানা গেছে, প্রধান আসামি রাকিব বাগেরহাট সদরের বাদেকাড়াপাড়া গ্রামের মৃত জাকারিয়া আলমের ছেলে এবং কাড়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

    মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)–এর ৭, ১০/৩০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী মহল আসামিদের রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

    এ বিষয়ে ফকিরহাট থানার এক কর্মকর্তা বলেন,

    “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি—ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।