Tag: আইন প্রণয়ন

  • তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    এবিএনএ: সংসদে তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। বিলটি অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান বিরোধী দল অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে।

    শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিলটি ভোটে পাস হওয়ার পর বিরোধী দল তাদের আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করে।

    পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগের ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে একে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

    বিরোধী দলের দাবি, বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং তাদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বিলটি পাসের পক্ষে অবস্থান নেয়।

    ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া হয়।

  • একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একদিনেই ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার অধিবেশনের ১২তম দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন খাতের সংশোধনী আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অবিকল রেখে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংশোধন, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী, শ্রম আইন, ইউনিয়ন পরিষদ, আইনগত সহায়তা প্রদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংশোধনী বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ, বাংলাদেশ গ্যাস, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণসহ একাধিক নতুন আইনও পাস হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর—পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ সম্পর্কিত সংশোধনী বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    এছাড়া ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন সংশোধন বিলও পাস হয়েছে।

    অন্যদিকে কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করেছে সংসদ। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশও রহিত করা হয়েছে।

    এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে কমিশনের কার্যক্রম পূর্বের আইনি কাঠামোতে পরিচালিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

  • গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা এলেও, এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা অধ্যাদেশ জারি হলে তবেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারবে।

    বুধবার নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন। তিনি জানান, গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বারবার প্রশ্ন এলেও, আইন ছাড়া এখন এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

    সংলাপে সিইসির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ও বাসদ মার্কসবাদীসহ ছয়টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এদিনের সংলাপ। চার দিনে মোট ৪৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন।

    সমাপনী বক্তব্যে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে ঘোষণা এলেও, আইন না হলে ইসির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু হয় না। আইনের মাধ্যমে বলা হবে—কী বিষয়ে ভোট হবে, কতগুলো ব্যালট বাক্স লাগবে, কীভাবে ভোট গ্রহণ হবে, এগুলো সবই নির্ধারণ করবে সেই আইন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। তবে আমাদের চলতে হবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার আলোকে। তাই ধীরে সুস্থে, কম কথায় বেশি কাজ করার নীতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’

    সিইসি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসি প্রস্তুত রয়েছে দক্ষতার সঙ্গে যে কোনো নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য, তবে আইনি কাঠামো ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার আলোকে আমরা স্লো অ্যান্ড স্টেডি অগ্রযাত্রায় আছি। এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগোতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ সামনে আরও এগোবো।’

  • পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও এগোচ্ছে কমিশন

    পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও এগোচ্ছে কমিশন

    এবিএনএ:  দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অংশ হিসেবে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই), রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ২৩তম দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির পর এই ঘোষণা দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

    তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনা চললেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য আসেনি। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের উপরই পড়ে। কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।

    কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—

    • উচ্চকক্ষে নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না।

    • অর্থবিল ছাড়া সংসদের প্রতিটি বিল উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    • এক মাসের মধ্যে বিল অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান না হলে তা অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

    • প্রত্যাখ্যান হলে বিল সংশোধন করে নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে।

    • নিম্নকক্ষ সংশোধন গ্রহণ বা বাতিল করতে পারবে।

    এছাড়া উচ্চকক্ষে ১০% নারী প্রার্থী রাখা বাধ্যতামূলক এবং জাতীয় নির্বাচনের সময়ই উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা জমা দিতে হবে।

    তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট মতবিরোধ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।
    বিএনপি, লেবার পার্টি, এনডিএম, জাতীয়তাবাদী জোট এবং ১২ দলীয় জোট পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের ঘোর বিরোধিতা করেছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কাঠামো নিয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। তাই চূড়ান্ত প্রস্তাবে একমত হতে পারছি না।”

    সিপিবি, বাসদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামআমজনতার দল উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
    নাগরিক ঐক্য বলেছে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা না থাকায় উচ্চকক্ষ অনর্থক হয়ে যাবে।

    দলগুলোর বিভক্ত মতের মধ্যেও কমিশন চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয় কি না।