Tag: আইন ও বিচার

  • কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তার নতুন যুগ: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি

    কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তার নতুন যুগ: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি

    এবিএনএ: কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার জারি করেছে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি বিস্তৃত ও সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক আইনি কাঠামো কার্যকর হলো।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে অবস্থিত সরকারি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানেও প্রযোজ্য হবে।

    এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো—ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জেন্ডার পরিচয় বা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে একটি নিরাপদ, সম্মানজনক এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    আইনে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শারীরিক, মৌখিক ও অ-মৌখিক আচরণের পাশাপাশি অনলাইন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। শাস্তির পরিধি তিরস্কার থেকে শুরু করে চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশে সার্ভাইভার-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের পর কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অসংগঠিত খাতের কর্মীদের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে কেউ অভিযোগ জানাতে বঞ্চিত না হন।

    এছাড়া আইন বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সরকারের আশা, এই অধ্যাদেশ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা নতুন মোড়: সামীরাসহ ১১ আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন

    ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলা নতুন মোড়: সামীরাসহ ১১ আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন

    এবিএনএ: প্রয়াত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। মামলার বাদীপক্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে, আসামিদের মধ্যে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনের সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হোক।

    মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে সালমান শাহর মায়ের পক্ষে বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ এ আবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটির বিষয়ে পরবর্তী তারিখে আদেশ দেওয়ার কথা জানান। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালতের কার্যক্রমে অনুপস্থিত থেকে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ জোরদার করতেই এই সম্পদ জব্দের আবেদন করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা মডেল থানায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ১২ জুন এ ঘটনায় দাখিল করা আগের সব তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় সালমান শাহর বাবার করা মূল অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের জবানবন্দি যুক্ত করে মামলাটি নতুনভাবে নথিভুক্ত করা হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের একটি বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরবর্তীতে তা হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের আবেদন করা হয়, যা আজও দেশের অন্যতম আলোচিত মামলাগুলোর একটি।

  • একাধিক বিয়েতে কড়াকড়ি বহাল: সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়—রুল খারিজ হাইকোর্টের

    একাধিক বিয়েতে কড়াকড়ি বহাল: সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়—রুল খারিজ হাইকোর্টের

    এবিএনএ: বিদ্যমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করা যাবে না—এ সংক্রান্ত বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

    বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ রায় প্রদান করেন। এর মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা কার্যকর থাকল।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বহুবিবাহ বিষয়ে আইনের কিছু ধারা সংবিধানবিরোধী দাবি করে রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি কাউন্সিলের অনুমতির বাধ্যবাধকতা আইনগতভাবে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

    এর আগে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে জানতে চেয়েছিলেন—পারিবারিক শান্তি ও স্ত্রীর সম অধিকার নিশ্চিত করতে বহুবিবাহের অনুমতি প্রক্রিয়া কেন নীতিমালার আওতায় আনা হবে না।

    দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রুলটি খারিজ করে দেন। ফলে আইন অনুযায়ী সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা নিবন্ধনযোগ্য হবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

    আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে বহুবিবাহ বিষয়ে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী হলো। তবে রিটকারীর পক্ষ থেকে বিষয়টি আপিল বিভাগে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

  • রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    রামপুরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ, সাফাই সাক্ষ্য ১৩ জানুয়ারি

    এবিএনএ: রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে। এ মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুর রউফকে এদিন অবশিষ্ট জেরা করেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। জেরা শেষে একমাত্র গ্রেপ্তার থাকা আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

    আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন।

    এই মামলায় হাবিবুর রহমান ছাড়াও পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিন সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিমসহ অন্য আইনজীবীরা।

    মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে পুলিশ ছয় রাউন্ড গুলি চালায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন এবং মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা মারাত্মকভাবে আহত হয়, যে এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না।

    এই ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

  • রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    রবিবার শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বিচার বিভাগে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। আগামীকাল রবিবার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

    আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে যাচ্ছেন। বয়সসীমা অনুযায়ী তার ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।

    এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে রবিবার বঙ্গভবনে নতুন প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

    দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার আলোকে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে বিচার বিভাগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।

  • ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    ভুয়া খবর ছড়ালে এবার জেল ও জরিমানা: নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ এ বিষয়ে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অপরাধের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    নতুন সংযোজিত ৭৩(ক) ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র ঘোষণার পর থেকে ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে কিংবা নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত করতে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রচার করে—তবে তা ‘দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    এই অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    সংশোধিত আরপিও-তে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় বট, ভুয়া সামাজিক অ্যাকাউন্ট বা সিনথেটিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরিও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি এই ধরনের ভুয়া তথ্য বা মিডিয়া কনটেন্ট শুধুমাত্র কোনো প্রার্থীকে নয়, বরং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বা জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়, তাহলেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি আইন সংস্কারের ধারাবাহিকতা সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন বিধান অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি প্রকাশ করবে ইসি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ নির্বাচনে তথ্যভিত্তিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

  • বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি ধরতে আর অনুমতির প্রয়োজন নেই: চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল

    এবিএনএ:  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তারে আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন নেই—এমন নির্দেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

    বুধবার (মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের রায়েই স্থির থাকেন। এর ফলে এই সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো বাড়তি প্রশাসনিক অনুমতির দরকার হবে না। একইসঙ্গে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

    এর আগে এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক অফিস আদেশে জানিয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে। তাই এমন মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এই আদেশে অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার নিষিদ্ধও করা হয়।

    তবে এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন একটি রিট দায়ের করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    জানা গেছে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া অনেক মামলায় অভিযোগপত্রে এমন অনেকের নাম রয়েছে যাদের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ক্ষেত্রে বাদী নিজেই মামলার বিস্তারিত জানেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার বন্ধের উদ্যোগ নেয়। তবে আদালতের রায়ে সেই নির্দেশনা কার্যকর থাকছে না, ফলে এখন বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামিদের সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে।