Tag: আইনের শাসন

  • বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম প্রায় শূন্যে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম প্রায় শূন্যে: আইনমন্ত্রী

    এবিএনএ: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির সূচক বর্তমানে উন্নতির দিকে রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুম এখন প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং গায়েবি ও মিথ্যা মামলাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

    এ অগ্রগতি আরও এগিয়ে নিতে আইনজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এল.এল.এম. লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুলা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(এ) ধারা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এই ধারাটি মানুষের অধিকার রক্ষার একটি কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

    তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শত শত মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মানুষকে বছরের পর বছর পুলিশ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হলে তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা নিরসনে উচ্চতর পুলিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    উপস্থিত ডুলা সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সঠিক মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক দর্শন যাই হোক না কেন, দিনের শেষে আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে—আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করছি।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যদি আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের মূল্যবোধের জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ডুলার সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আলী আহমেদ খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন,ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুল ইসলাম, ডুলার সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডুলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী জয়নাল আবেদীন।

  • আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

    আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে। তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং আইনের শাসন কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটাই তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও দলের প্রতিশ্রুতি।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখার বিকল্প নেই—কারণ জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, প্রথম ভোট গণতন্ত্র ও জবাবদিহির পক্ষে দেওয়া হোক।

    ভোটের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলাকার মানুষের দায়িত্ব নেবেন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমপিরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নজরদারিতে রাখা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচারকে মূলনীতি হিসেবে ধরে এগোনোর কথাও বলেন তিনি।

    দলীয় প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। প্রবাসে থাকার সময়ও দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা তুলে ধরেন তিনি।

    অতীতের শাসনামলে বিএনপির কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন কামনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

  • আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংখ্যালঘুর অধিকার কেন বারবার উপেক্ষিত হয়?

    আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সংখ্যালঘুর অধিকার কেন বারবার উপেক্ষিত হয়?

    এবিএনএ: গণতন্ত্র ও আইনের শাসন দুর্বল হলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার কখনোই পূর্ণতা পায় না—এমন মত দিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রান্তিকীকরণ এখন কেবল একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং পুরো অঞ্চলজুড়েই এটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

    রোববার রাজধানীতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘সবার জন্য গণতন্ত্র: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, যখন বলা হয় অধিকার সবার জন্য, তখন দলিত, আদিবাসী বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা সংগঠনের প্রয়োজন কেন—এই প্রশ্ন উঠে আসে। বাস্তবতা হলো, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। এ অবস্থা কাটাতে সমষ্টিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার মূলত মানবাধিকার। যে রাষ্ট্র সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, সেখানে মানবাধিকার সংকট তৈরি হয় না। তবে ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতি মানবিক মূল্যবোধের বিপরীতমুখী হয়ে পড়ায় গণতন্ত্র বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

    তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং সংসদে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ সরকারকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

    ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের কথা শোনার মানসিকতা সরকারের মধ্যে নেই। ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে তারা একাধিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন।

    ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, বর্তমানে দেশে যে সহিংসতা ও ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে, তা সংখ্যালঘুদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই কি সেই বাংলাদেশ, যার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম?

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, সংখ্যালঘুরা কথা বলতে ভয় পায়, কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের কার্যকর সংযোগ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকেই এই ভয়ের পরিবেশ ভাঙতে এগিয়ে আসতে হবে।

    ‘নিজেরা করি’-এর সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, ‘মাইনরিটি’ শব্দটি একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া, যা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিক করে রাখে। গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলেও সংখ্যালঘুরা এখনো মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।

    সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ থাকলেও সংবিধানে তাদের অধিকার বাস্তবায়নের কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সংখ্যালঘুদের কথা থাকলেও বাস্তবে তার বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

    পল্লব চাকমা ও ইলিরা দেওয়ান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে যদি সংখ্যালঘু অধিকার স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে বাস্তবে তাদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

  • গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    গভীর রাতে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া: টিআইবির উদ্বেগে নড়ে উঠল মানবাধিকার প্রশ্ন

    এবিএনএ: বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পর এক সাংবাদিক ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

    টিআইবির মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এভাবে নাগরিককে তুলে নেওয়া আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। সংস্থাটি এটিকে ‘অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিহীন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমালোচনা দমনের ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে।

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবি জানায়, এনইআইআর নীতিমালা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানানোর ফলেই সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। কখনো বলা হয় “তথ্য যাচাইয়ের জন্য”, আবার কখনো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পদবির কারণ দেখানো হয়—যা টিআইবির মতে পরস্পরবিরোধী ও অসংগত ব্যাখ্যা।

    এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মতভিন্নতা দমনে গভীর রাতে কাউকে কারণ না জানিয়ে তুলে নেওয়া কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক প্রথার উদাহরণ। অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী সমন পাঠানো এবং আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “শুধু ব্যক্তিবদল নয়, গোয়েন্দা সংস্থাসহ নজরদারি কাঠামোর মৌলিক সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে এমন নজরদারি সংস্কৃতি চলতে থাকলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কঠিন হবে।”

    সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সমালোচকদের শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতা আত্মঘাতী। সংবাদ সম্মেলন করা বা সরকারী নীতির সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়; বরং সংবিধানের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”

    টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, এনইআইআর সম্পর্কিত মতামত দেওয়ার কারণে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কাপুরুষোচিত আঘাত। এটি শুধু দেশের সংবিধান নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।