Tag: আইএসপিআর

  • পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে: ২৭৪ তালেবান নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের

    পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে: ২৭৪ তালেবান নিহত ও ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের

    এবিএনএ: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে বড় ধরনের দাবি করেছে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর। শুক্রবার ইসলামাবাদে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ২৭৪ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৩টি চৌকি ধ্বংস ও ১৭টি চৌকি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করা হয়।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে আফগান বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও কামান অচল করা হয়েছে। অপরদিকে আফগানিস্তান থেকে চালানো হামলায় পাকিস্তানের ১২ সেনা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সীমান্তে অভিযান অব্যাহত আছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

    সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর সীমান্ত অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে, অনেক স্থানে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

    এদিকে কাবুলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংঘাত বাড়াতে চায় না। আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তান আগ্রাসন চালালে আফগানিস্তান পাল্টা জবাব দিতে সক্ষম। তার ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের মাধ্যমে তারা ‘বার্তা’ দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

    দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে এই উত্তেজনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

  • নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর জন্য কড়া বার্তা: নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

    নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর জন্য কড়া বার্তা: নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণকালে এসব দিকনির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআরের তথ্যমতে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন সেনাবাহিনী প্রধান। পরিদর্শনকালে তিনি মাঠপর্যায়ের সেনা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    সফরের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষেও অনুরূপ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মতবিনিময় সভাগুলোতে নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই সেনাবাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেটিই জনগণের আস্থার মূল ভিত্তি।

  • সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে গভীর শোক জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে গভীর শোক জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    এবিএনএ: সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ উপলক্ষে তিনি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন।

    রোববার সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত ফোনালাপে গুতেরেস বলেন, এই দুঃখজনক ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। হামলার ভয়াবহতায় তিনি গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান, যেন নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারগুলোর কাছে তার গভীর সমবেদনা পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ফোনালাপে ড. মুহম্মদ ইউনূস নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আহত সেনাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক ও উচ্চমানের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং শহীদদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন।

    গুতেরেস জানান, আহত শান্তিরক্ষীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সুদানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তৎপরতা দেখানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    এ সময় দুই নেতা গুতেরেসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উল্লেখ্য, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সুদানের আবেই অঞ্চলের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি স্থাপনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আরও আটজন আহত হন।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

  • সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    সুদানে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর, পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানাল আইএসপিআর

    এবিএনএ: সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় পরিচালিত কাদুগলি লজিস্টিক বেসে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার শহীদ ও আহতদের পরিচয়সহ সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি জানিয়েছে।

    আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা (রাজবাড়ী), সৈনিক শান্ত মন্ডল (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান (কুষ্টিয়া), সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন (দিনাজপুর), কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি (ঢাকা), ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম (বরগুনা), সৈনিক মো. মেজবাউল কবির (কুড়িগ্রাম), সৈনিক উম্মে হানি আক্তার (রংপুর), সৈনিক চুমকি আক্তার (মানিকগঞ্জ) ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান (নোয়াখালী)।

    আইএসপিআর জানায়, আহত আটজনের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত।

    এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকারের গৌরবোজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

  • সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ শান্তিরক্ষী নিহত, ৮ জন আহত

    সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ শান্তিরক্ষী নিহত, ৮ জন আহত

    এবিএনএ: সুদানের আবেইতে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও আটজন সেনা আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, নিহত ও আহত সেনারা শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। হামলার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনারা নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত সেনাদের পরিবারকে যথাযথভাবে সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা একবার আরও বড় হুমকির মুখে পড়েছে। দেশের বাইরে মিশন পরিচালনায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ সেনাদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে আইএসপিআর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।

  • সুদান যুদ্ধের ১৯ বছর পর দেশে ফিরলেন ময়নুল: সেনাবাহিনীর অসাধারণ মানবিক সহায়তা

    সুদান যুদ্ধের ১৯ বছর পর দেশে ফিরলেন ময়নুল: সেনাবাহিনীর অসাধারণ মানবিক সহায়তা

    এবিএনএ:  দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে পরিবারের কোলে ফিরেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান অঞ্চলে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিক মো. ময়নুল হক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তায় রোববার দেশে ফেরেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

    আইএসপিআর জানায়, ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেই (UNISFA)-তে বাংলাদেশের ব্যানব্যাট-৩ মোতায়েন রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে আবেই বাজার এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সেনাসদস্যরা একাকী ও বিপর্যস্ত অবস্থায় ময়নুলের সন্ধান পান।

    ✅ যুদ্ধের ধাক্কায় হারানো জীবন

    প্রায় দুই দশক আগে ঠিকাদারির কাজে সুদানের রাজধানী খার্তুমে যান ময়নুল। পরে আকস্মিক গৃহযুদ্ধে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আশ্রয় নেন আবেই অঞ্চলে। সে সময় তিনি হারান পাসপোর্টসহ সব কাগজপত্র, ফলে দেশে ফেরার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

    সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান—এমন আকুতি জানান।

    ✅ সেনাবাহিনীর আন্তরিক তৎপরতা

    ময়নুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইথিওপিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করে এবং অর্থসহায়তাও দেয়।

    গত ২৯ অক্টোবর আবেই থেকে জুবা পৌঁছান তিনি। এরপর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে রোববার ঢাকায় পৌঁছান।

    ✅ আবেগে ভাসলেন ময়নুল

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
    তিনি সেনাবাহিনী, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    ✅ সেনাবাহিনীর গর্ব

    আইএসপিআর জানায়,
    যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আটকে পড়া একজন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার মতো মানবিক কাজে অংশ নিতে পেরে সেনাসদস্যরা গর্ব অনুভব করছেন।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক

    শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক

    এবিএনএ: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাত ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টা ১৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দেয়। আগুনের কারণে এক পর্যায়ে বিমানবন্দরের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

    ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার খায়রুল ইসলাম রনি জানান, রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুনের তীব্রতা কমে আসে এবং রাতের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত ৯টা ৬ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

    অগ্নিনির্বাপণে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করেছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।

    উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আনসার বাহিনীর ২৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    আগুন লাগার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করে অবতরণ করে। এছাড়া চেন্নাই ও দিল্লি থেকে আসা দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে কলকাতায় জরুরি অবতরণ করে।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফের গুলিবিনিময়, অস্ত্র-গুলিসহ সরঞ্জাম উদ্ধার

    খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফের গুলিবিনিময়, অস্ত্র-গুলিসহ সরঞ্জাম উদ্ধার

    এবিএনএ:  খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার দুর্গম জগাপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফ (মূল) সদস্যদের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল অভিযানে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

    আইএসপিআর জানায়, অভিযানের সময় ইউপিডিএফের ১৫ থেকে ২০ জন সশস্ত্র সদস্য টহল দলের ওপর গুলি চালায়। পাল্টা জবাব দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ গুলিবিনিময় চলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি রাশিয়ান পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, আট রাউন্ড গুলি, ২০০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, একটি ওয়াকিটকি সেট ও ইউনিফর্মসহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    তবে এলাকার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

    প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সশস্ত্র গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে সেনা মোতায়েন গুজব: আইএসপিআরের স্পষ্ট ঘোষণা

    কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে সেনা মোতায়েন গুজব: আইএসপিআরের স্পষ্ট ঘোষণা

    এবিএনএ: আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেনাবাহিনী মোতায়েনের গুঞ্জন ছড়ালেও এ নিয়ে কোনো বাস্তবতা নেই বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে আইএসপিআর।

    বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে দাবি করা হচ্ছে যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। তবে সরকার এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীকে এ কাজে সম্পৃক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ নিয়ম মেনে নির্বাচন সম্পন্ন করবে।

    এছাড়া সেনাবাহিনী সবাইকে শুভকামনা জানিয়ে বলে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদে কান না দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একসঙ্গে কাজ করাই হবে সর্বোত্তম পথ।

  • অবশেষে না ফেরার দেশে মাহিয়া তাসনিম, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৩

    অবশেষে না ফেরার দেশে মাহিয়া তাসনিম, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৩৩

    এবিএনএ: রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে দগ্ধ হওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া তাসনিম (১৫) অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাহিয়ার শ্বাসনালিতে গুরুতর ক্ষত ছিল এবং শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বার্ন ইউনিটে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনে।

    এর আগে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে একই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১৫ বছর বয়সী মাহতাব রহমান, যার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। মাত্র তিন ঘণ্টা ব্যবধানে দুজন কিশোর প্রাণ হারাল।

    মাহিয়ার পরিবার রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক প্রজেক্টের ডি-ব্লকে বসবাস করে। পাঁচ বছর আগে তার বাবা মোহাম্মদ বিশ্বাস মারা যান। মা আফরোজা খাতুন এবং ফুফু মিলে তিন কন্যাকে বড় করে তুলছিলেন। মাহিয়ার মৃত্যুর খবর এখনো তার মা জানেন না; তিনি উত্তরার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে এ পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও শিক্ষার্থী।

    দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ আরও ৫৭ জন বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউট, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

    ইতিপূর্বে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

    মানবিক বিপর্যয় আর অকাল মৃত্যুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা জাতি শোকাহত। মাহিয়া তাসনিমের চলে যাওয়া সেই বেদনার আরেক নতুন অধ্যায়।