Tag: অর্থ মন্ত্রণালয়

  • হঠাৎ বদলে গেল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব: আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিল, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

    হঠাৎ বদলে গেল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব: আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিল, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

    এবিএনএ: সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট সময় বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়–এর পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেওয়া নিয়োগ অনুযায়ী আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ জনস্বার্থে বাতিল করা হলো।

    অন্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ তার যোগদানের দিন থেকে চার বছরের জন্য গভর্নরের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই পাবেন। নিয়োগসংক্রান্ত বাকি বিষয় চুক্তিপত্রে নির্ধারিত থাকবে।

    সূত্র জানায়, মোস্তাকুর রহমান ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি–এর সদস্য। তিনি একটি পোশাক কারখানার মালিকও। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

    এর আগে বুধবার দুপুরে গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবন ত্যাগ করেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি পদত্যাগ করেননি; সংবাদমাধ্যমে খবর শুনেছেন মাত্র।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন গভর্নরের পদত্যাগের পর আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল হয়ে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো।

  • কর রাজস্ব ঘাটতিতে আইএমএফের অব্যাহতি চাইবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

    কর রাজস্ব ঘাটতিতে আইএমএফের অব্যাহতি চাইবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আসন্ন পর্ষদ সভায় দেশটিকে অব্যাহতির আবেদন জানাতে হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে অন্যান্য সব শর্ত পূরণ হওয়ায় ঋণ কিস্তি অনুমোদনে বড় কোনো বাধা দেখা দেবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।

    আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সভায় বর্তমান ঋণ কর্মসূচি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

    আইএমএফের ডেভেলপমেন্ট মাইক্রো ইকোনমিক্স বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জির নেতৃত্বে একটি দল ২৯ অক্টোবর ঢাকা সফরে আসছে। তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ষষ্ঠ কিস্তির (প্রায় ৮০ কোটি ডলার) ছাড়ের শর্তগুলো পর্যালোচনা করবে।

    ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা—অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও অন্য পাঁচটি সূচক পূরণ হয়েছে, যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর আদায় ছাড়া আইএমএফের অন্য সব শর্ত প্রায় পূরণ হয়েছে—যেমন ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, আর্থিক খাত সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ। এ কারণে রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে ব্যাখ্যা করে অব্যাহতি চাওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। তাই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল হতে পারে। তবে বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ায় চাপ থাকবে।”

    এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এটি সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা আইএমএফকে আশ্বস্ত করবে। পূর্বে রিজার্ভ ঘাটতিতেও অব্যাহতি পাওয়া গিয়েছিল, ফলে এবারও ইতিবাচক ফল আসবে বলে প্রত্যাশা।

  • দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে নতুন রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক

    দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে নতুন রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে।

    গত রোববার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একত্রিত করার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়। নতুন ব্যাংকের সম্ভাব্য নাম ধরা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    এই ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকরা। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী সম্মানী পাবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই পাঁচ ব্যাংক সংকটে পড়ে। সেগুলোকে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকের মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরাসরি সরকার দেবে, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বীমা তহবিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে।

    নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনা এবং ইসলামী ব্যাংক খাতকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • প্রাইজবন্ডের ১২০তম ড্র অনুষ্ঠিত: লাখ টাকার পুরস্কার জিতল যেসব নম্বর

    প্রাইজবন্ডের ১২০তম ড্র অনুষ্ঠিত: লাখ টাকার পুরস্কার জিতল যেসব নম্বর

    এবিএনএ:  ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২০তম ড্র বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার জিতেছে নম্বর ০৫৪৪২২২

    ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

    ড্রয়ের অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে —

    • দ্বিতীয় পুরস্কার (৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা): ০২৪১৭৬৮

    • তৃতীয় পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ১ লাখ টাকা): ০৯৬৪০৫২ ও ০৫৫৩৮৪৫

    • চতুর্থ পুরস্কার (প্রতি পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা): ০১৯৭১৪২ ও ০০৫৪৩৮২

    এছাড়া পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ জন বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ী নম্বরগুলো হলো:
    ০০০৬৭৫৪, ০০৩১২৯৬, ০০৫৩৮১১, ০০৬৭৫৬৬, ০১০৪৩৩৪, ০১১১৩৭১, ০১৪৯৯৯২, ০১৬৪৬০৬, ০১৯৩৩৫৪, ০২২২০৯৫,
    ০২৫৪৯৪০, ০২৯৮২৬৬, ০৩২৩৩৬২, ০৩২৮১২২, ০৩৭৬৪২৩, ০৪০৩৬৩৫, ০৪১৯৬১৪, ০৫২৪৯৩৫, ০৫৪১৭৩৪, ০৫৮২৯৮৬,
    ০৬১৩৭০৪, ০৬২৯৬৩৮, ০৬৫৭৭৩৪, ০৬৫৭৯৯৪, ০৬৬৫৭৫৭, ০৬৭৪৫২৪, ০৬৮৯৪১৯, ০৭০২৬৯৬, ০৭০৮০৩৩, ০৭৩৫১০২,
    ০৭৫১১৬৫, ০৭৫৫৭২৪, ০৭৭২৫৮০, ০৮২৪৯৮৮, ০৮৪১৫০৩, ০৮৪৮১৩৭, ০৮৭০২২২।

    এই ড্রয়ে ৮২টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। প্রতিটি সিরিজের জন্য ড্রয়ের সংখ্যা একই থাকায় ঘোষিত নম্বরগুলো সব সিরিজেই পুরস্কারের জন্য প্রযোজ্য।

    ড্রয়ের আওতায় আসবে সেসব প্রাইজবন্ড, যেগুলো নির্ধারিত ড্রয়ের ৬০ দিন আগে বিক্রি হয়েছে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে।

  • স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ৪ খাতকে এগিয়ে নিতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

    স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ৪ খাতকে এগিয়ে নিতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এই উত্তরণকে সামনে রেখে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—চামড়া, পাটজাত পণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস—এর রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি।

    মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এলডিসি স্ট্যাটাস হারানোর পর থেকে বাংলাদেশ আর রপ্তানিনির্ভর ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দিতে পারবে না। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে টিকিয়ে রাখতে বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে অর্থ বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির পর্যালোচনায় ভিত্তি করে সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব।

    কমিটিতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ ও বাণিজ্য সচিব, কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিএসটিআই, বিসিক, ড্রাগ অ্যাডমিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং এফবিসিসিআই-এর প্রতিনিধিরা।

    এই কমিটির মূল কাজ হবে—বিদ্যমান প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশগুলোর মধ্যে কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য তা নির্ধারণ, বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমাসহ পরিকল্পনা তৈরি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

    তাছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন কোনো প্রণোদনা বা সুবিধার সুপারিশও করতে পারবে এই কমিটি।

    দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, এই চার খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দিকেই এখন নজর সরকারের।

  • সরকারি ব্যয়ে কড়াকড়ি: গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর সাময়িকভাবে স্থগিত

    সরকারি ব্যয়ে কড়াকড়ি: গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর সাময়িকভাবে স্থগিত

    এবিএনএ: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের কৌশলের অংশ হিসেবে গাড়ি, জাহাজ ও বিমান কেনা এবং বিদেশে সরকারি খরচে কর্মশালা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে বুধবার জারি করা একটি পরিপত্রে এই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়, এই অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে সরকারিভাবে খরচ হ্রাস করে কৃচ্ছ্রসাধন করা।

    তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে। যেমন:

    • স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা বিদেশি অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগে ভ্রমণ করা যাবে।

    • উন্নয়ন সহযোগীদের আমন্ত্রণে প্রশিক্ষণেও বিদেশ যেতে কোনো বাধা থাকবে না।

    এছাড়া PSI (প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন)FAT (ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপট্যান্স টেস্ট) সফরের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই সফরের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    গাড়ি, জাহাজ বা বিমান কেনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে বাজেট থেকে ব্যয় করা যাবে।

    পরিচালন বাজেটে থোক বরাদ্দের অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন বাজেটের ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ বা মন্ত্রণালয়ের অধীন থোক বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করতে চাইলে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে।

    নতুন ভবন নির্মাণেও সীমাবদ্ধতা জারি করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য কোনো খাতে নতুন আবাসিক বা অনাবাসিক ভবন নির্মাণ পরিচালন বাজেটের আওতায় করা যাবে না। তবে চলমান প্রকল্প ৫০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি দেখাতে পারলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনে ব্যয় করা যেতে পারে।

    ভূমি অধিগ্রহণের খরচ পরিচালন বাজেটের আওতায় বন্ধ থাকলেও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় তা অর্থ বিভাগের অনুমতিতে করা যাবে।

    সরকারের এই নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যয়ের পথেই অগ্রসর হচ্ছে চলতি অর্থবছর, যা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • আন্দোলন থামিয়েও রেহাই নেই! এনবিআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিপাকে মধ্যস্থতাকারীরা

    আন্দোলন থামিয়েও রেহাই নেই! এনবিআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিপাকে মধ্যস্থতাকারীরা

    এবিএনএ:  এনবিআরের চলমান উত্তেজনার মাঝেই সরকার চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবসর ও এক কমিশনারকে বরখাস্ত করেছে। এদের মধ্যে আছেন এনবিআরের কর, শুল্কনীতি, মূসক নীতি ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধে আন্দোলন থামিয়ে কাজে ফিরেছিলেন। সরকারের আশ্বাস ছিল—কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু বর্তমানে যা ঘটছে, তা পুরোপুরি উল্টো। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী নেতারাও।

    বুধবার যাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন এনবিআরের কর বিভাগের আলমগীর হোসেন, শুল্কনীতি ও আইসিটি বিভাগের হোসেন আহমদ, মূসক নীতি বিভাগের আবদুর রউফ ও কমিশনার মো. শব্বির আহমেদ। এর আগে মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার জাকির হোসেনকে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজনকে জনস্বার্থে অবসর দেওয়া হয়েছে।

    বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ বলেন, “ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করা হয়েছিল দেশের স্বার্থে। সরকার আশ্বস্ত করেছিল, কারও চাকরি যাবে না। এখন যা হচ্ছে, তাতে আমরাও বিব্রত।”

    আন্দোলন প্রত্যাহারকারী কর্মকর্তারা জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি ও মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ীদের সম্মান রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন বন্ধ করেন। কিন্তু এখন সেই কর্মকর্তারাই শাস্তির মুখে।

    দুদক একাধিক দফায় এনবিআরের সদস্য ও অতিরিক্ত কমিশনারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অর্থ উপার্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের।

    ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করে আন্দোলন করা সমর্থনযোগ্য নয়, তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা উচিত ছিল। যেভাবে কর্মকর্তাদের মনোবল ভাঙা হচ্ছে, তা দেশের জন্যও ক্ষতিকর।”

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে বিভাজনের পর থেকেই এনবিআরের কর্মকর্তারা সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক বন্ধ হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব প্রশাসনে।

    সরকারের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা এখন আরও সতর্ক এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চান বলে জানিয়েছেন।

  • চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে ‘মার্চ টু এনবিআর’, অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে ‘মার্চ টু এনবিআর’, অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    এবিএনএ:  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে আন্দোলনরত কর্মকর্তারা অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে শনিবার ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে, যদি এর আগেই এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণ না করা হয়।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর নেতারা। সংগঠনের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও সহসভাপতি মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছিল— এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এটি বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র বিভাগে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টা এক সাক্ষাৎকারে জানান, এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের কোনো বিকল্প নেই— যা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।

    ঐক্য পরিষদ দাবি করে, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় এনবিআর ভাঙার পরিকল্পনা এগোচ্ছে এবং অর্থ উপদেষ্টা এ নিয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। তারা এই গোষ্ঠী কারা— তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে কর ও শুল্ক ক্যাডারের প্রতিনিধিদের বৈঠকের ঘোষণা এলেও, ঐক্য পরিষদ জানায়, তাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল আমন্ত্রণ পৌঁছেনি। তাছাড়া চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে তারা আলোচনায় বসবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন।

    আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালিত হবে এবং এরপর ‘মার্চ টু এনবিআর’-এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা রাজস্ব ভবনে জমায়েত হবেন।

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারের দমন-পীড়নমূলক নীতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করছেন। তার অপসারণই হবে রাজস্ব সংস্কারের সূচনা। তাই বৃহস্পতিবারও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিসে কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি কার্যক্রম এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনের কারণে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি বা অবসরের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে।

    এর আগে ২১ জুন দ্বিতীয় দফায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এবং ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান ও কলম বিরতি চলেছিল। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পেয়ে তখন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও তাকে অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

    ২০ জুন এনবিআর গঠনগত সংস্কারে ছয় সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠিত হলেও ঐক্য পরিষদ অভিযোগ করে, তাদের কাউকে না রেখে বিতর্কিত সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।