Tag: অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

  • এনবিআর সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি, সরকারের কঠোর অবস্থান

    এনবিআর সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি, সরকারের কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অস্থিরতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    রবিবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এই কমিটি এনবিআর সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেবে।” তবে কমিটিতে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

    এদিকে, এনবিআরের ছয় কর্মকর্তা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, কারণ এটি তার অধিক্ষেত্র নয় বলে জানান।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবি, এফবিসিসিআই, বিসিআই, এলএফএমইএবি, ডিসিসিআই এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানও।

    এনবিআরের অচলাবস্থার জেরে সরকার এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে এনবিআরের আওতাধীন সকল কাস্টমস হাউস, বন্ড অফিস, শুল্ক স্টেশন ও আইসিডির সব শ্রেণির চাকরি ‘অত্যাবশ্যকীয় সেবা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ বড় চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব ব্যবস্থায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘাটতি দূর করতে এনবিআরের পুনর্গঠন অপরিহার্য। কিন্তু গত দুই মাস ধরে কিছু কর্মকর্তা সচেতনভাবে রাজস্ব আদায় ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা দিয়ে যাচ্ছে, যা পরিকল্পিত এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

    সরকার বলেছে, বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার পরও আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করেছে এবং অর্থনীতির ক্ষতি করছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

    সরকার আশা প্রকাশ করেছে, এনবিআরের কর্মকর্তারা দ্রুত কর্মস্থলে ফিরবেন। তা না হলে জনস্বার্থ ও অর্থনীতির সুরক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

  • চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে ‘মার্চ টু এনবিআর’, অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে ‘মার্চ টু এনবিআর’, অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    এবিএনএ:  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে আন্দোলনরত কর্মকর্তারা অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে শনিবার ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে, যদি এর আগেই এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণ না করা হয়।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর নেতারা। সংগঠনের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও সহসভাপতি মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছিল— এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এটি বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র বিভাগে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টা এক সাক্ষাৎকারে জানান, এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের কোনো বিকল্প নেই— যা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।

    ঐক্য পরিষদ দাবি করে, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় এনবিআর ভাঙার পরিকল্পনা এগোচ্ছে এবং অর্থ উপদেষ্টা এ নিয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। তারা এই গোষ্ঠী কারা— তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে কর ও শুল্ক ক্যাডারের প্রতিনিধিদের বৈঠকের ঘোষণা এলেও, ঐক্য পরিষদ জানায়, তাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল আমন্ত্রণ পৌঁছেনি। তাছাড়া চেয়ারম্যান অপসারণ না হলে তারা আলোচনায় বসবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন।

    আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালিত হবে এবং এরপর ‘মার্চ টু এনবিআর’-এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা রাজস্ব ভবনে জমায়েত হবেন।

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারের দমন-পীড়নমূলক নীতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করছেন। তার অপসারণই হবে রাজস্ব সংস্কারের সূচনা। তাই বৃহস্পতিবারও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিসে কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি কার্যক্রম এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনের কারণে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি বা অবসরের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে।

    এর আগে ২১ জুন দ্বিতীয় দফায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় এবং ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান ও কলম বিরতি চলেছিল। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পেয়ে তখন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও তাকে অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

    ২০ জুন এনবিআর গঠনগত সংস্কারে ছয় সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠিত হলেও ঐক্য পরিষদ অভিযোগ করে, তাদের কাউকে না রেখে বিতর্কিত সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।