Tag: অর্থনৈতিক ক্ষতি

  • ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ১৮ লাখ কোটি টাকা, ধ্বংস হাজারো অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি

    ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ১৮ লাখ কোটি টাকা, ধ্বংস হাজারো অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি

    এবিএনএ: মাত্র ৪০ দিনের সংঘাতে ইরানের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির দাবি উঠেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, শিল্পকারখানা ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে দেশটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে বহু বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প এলাকা, সেতু এবং বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানান, সংঘাতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি রয়েছে, যেগুলোর কিছু আংশিক এবং কিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    এছাড়া প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে— ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    শিক্ষা খাতেও ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রেডক্রসের ২০টি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

    এছাড়া ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান অন্তর্ভুক্ত। বেসামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি সামরিক স্থাপনাগুলোরও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ইরানের চারটি বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র— খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ ও শারাউদ— গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

  • ৮৭ ঘণ্টার সংঘাতে ভারতের ৮৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি: আধুনিক যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা

    ৮৭ ঘণ্টার সংঘাতে ভারতের ৮৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি: আধুনিক যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা

    এবিএনএ:   সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মাত্র ৮৭ ঘণ্টায় ভারতের অর্থনীতিতে প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা আধুনিক যুদ্ধের ব্যয়বহুল বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। অপারেশন সিঁদুর নামে পরিচিত এই অভিযানে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালায়।

    ভারতের এই অভিযানে ব্যবহৃত হয় ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল যুদ্ধবিমান, যা স্কাল্প ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এএএসএম হ্যামার বোমা বহন করছিল। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা তিনটি রাফায়েল, একটি মিগ-২৯ এবং একটি সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত না করলেও, সংঘাতে বিমান হারানোর বিষয়টি অস্বীকার করেনি।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে, ভারতের শেয়ারবাজারে প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। উত্তর ভারতের আকাশপথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক বিমান ক্ষতি হয়েছে। আইপিএল স্থগিত হওয়ায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে সম্প্রচার বিজ্ঞাপন খাতে। সামরিক অভিযানে খরচ হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার, এবং রাফায়েল যুদ্ধবিমানের ক্ষতির মূল্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নে ক্ষতি হয়েছে বিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেএসই-১০০ সূচক ৪.১ শতাংশ কমে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। পিএসএল স্থগিত হওয়ায় ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে সম্প্রচার খাতে। আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান খাতে ২০ মিলিয়ন ডলারের লোকসান হয়েছে। সামরিক অভিযানে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

    এই সংঘাতের ফলে বোঝা যাচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং মানবিক দিক থেকেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যুদ্ধের কৌশল পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।