Tag: অমিতাভ বচ্চন

  • “দিনশেষে মানুষ একাই”—জীবনের কঠিন সত্য নিয়ে অমিতাভ বচ্চনের আবেগঘন বার্তা

    “দিনশেষে মানুষ একাই”—জীবনের কঠিন সত্য নিয়ে অমিতাভ বচ্চনের আবেগঘন বার্তা

    এবিএনএ: বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন শুধু অভিনয়েই নয়, জীবন নিয়ে গভীর ভাবনাতেও ভক্তদের মুগ্ধ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত ব্লগে নিয়মিতই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি তুলে ধরেন। সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি জীবনের একটি কঠিন বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন—দিনশেষে মানুষ একাই নিজের লড়াই লড়ে।

    নিজের ব্লগে অমিতাভ লিখেছেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানুষকে নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আশপাশে পরামর্শদাতা থাকলেও চূড়ান্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধেই এসে পড়ে। এই একাকীত্বকে তিনি দুর্বলতা নয়, বরং ব্যক্তিগত শক্তির উৎস হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তার বক্তব্যের সঙ্গে তিনি দার্শনিক অ্যালান ওয়াটসের একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি বলেন, মানুষ নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও চিন্তার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি শক্তি খুঁজে পায়। তাই নিজের ভেতরের শক্তিকে চিনে নেওয়া জরুরি।

    অমিতাভ বচ্চনের মতে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এমন একটি অদৃশ্য ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় উপলব্ধি করা কঠিন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সেই শক্তিই সবচেয়ে বড় সহায়ক হয়ে ওঠে। তিনি লেখেন, নিজের এই অন্তর্নিহিত শক্তিকে সযত্নে ধরে রাখতে হবে এবং সময়মতো তা কাজে লাগাতে হবে।

    ৮০ পেরিয়েও কর্মব্যস্ত এই অভিনেতার এমন জীবনদর্শন ভক্তদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কঠিন সময় পার করতে তার এই কথাগুলো আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নিঃসঙ্গতার রাতে ছেলের হাত ধরে ভরসা পেলেন অমিতাভ বচ্চন

    নিঃসঙ্গতার রাতে ছেলের হাত ধরে ভরসা পেলেন অমিতাভ বচ্চন

    এবিএনএ: বয়স কেবল একটি সংখ্যা—এই কথার জীবন্ত উদাহরণ অমিতাভ বচ্চন। পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতির আড়ালে বাস্তব জীবনে মাঝেমধ্যে নিঃসঙ্গতা ও মানসিক চাপ ভর করে তাঁর মনে—এ কথাই সম্প্রতি নিজের ব্লগে অকপটে তুলে ধরেছেন তিনি।

    অমিতাভ লিখেছেন, গভীর রাতে যখন দুশ্চিন্তা আর লক্ষ্যহীনতার অনুভূতি তাঁকে আচ্ছন্ন করে, ঠিক তখনই সবচেয়ে কাছের বন্ধুর মতো পাশে এসে দাঁড়ান তাঁর ছেলে অভিষেক বচ্চন। বাবা–ছেলের সম্পর্ক এখানে কেবল পারিবারিক বন্ধনেই সীমাবদ্ধ নয়; পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের জায়গাটাই তাঁদের শক্তির মূল ভরকেন্দ্র।

    বিগ বি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এমন এক মুহূর্তে কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই অভিষেক তাঁর ঘরে এসে হাজির হন। ছেলের এই আকস্মিক উপস্থিতিতেই মুহূর্তের মধ্যে হালকা হয়ে যায় তাঁর মন।

    ছেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অমিতাভ লেখেন, অভিষেক শুধু সন্তানই নন—তিনি একজন সহানুভূতিশীল সঙ্গী, ভরসার মানুষ এবং প্রকৃত বন্ধু। দীর্ঘদিন লাইমলাইটে থাকার পর এই বয়সে এসে পরিবারই যে তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়—সে কথাও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

    ক্যারিয়ারের দিক থেকেও বাবা–ছেলে দুজনেই এখন পরিণত এক সময় পার করছেন। সম্প্রতি অমিতাভের অভিনীত তামিল অ্যাকশন-ড্রামা ‘ভেটাইয়ান’-এ তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে, যেখানে সহশিল্পী ছিলেন রজনীকান্তফাহাদ ফাসিল

  • রাগের ইমোজিসহ এক শব্দে তোলপাড়—‘চুপ!’ পোস্টে কী ইঙ্গিত দিলেন অমিতাভ বচ্চন?

    রাগের ইমোজিসহ এক শব্দে তোলপাড়—‘চুপ!’ পোস্টে কী ইঙ্গিত দিলেন অমিতাভ বচ্চন?

    এবিএনএ: বলিউডের বর্ষীয়ান তারকা অমিতাভ বচ্চন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরাবরই সক্রিয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি, দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা কিংবা জীবনের উপলব্ধি—ভক্তদের সঙ্গে খোলামেলা ভাগ করে নিতে তার জুড়ি নেই। তবে এবার তার এক লাইনের পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য ও জল্পনা।

    সম্প্রতি মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম X-এ তিনি শুধু একটি শব্দ লিখেছেন—‘চুপ!’ সঙ্গে যোগ করেছেন রাগের ইমোজি। ক্ষণিকের এই পোস্টই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। কী কারণে এমন সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র প্রতিক্রিয়া—তা নিয়ে নেটিজেনদের কৌতূহল তুঙ্গে।

    মন্তব্যঘরে ভক্তদের ভিড় লেগে যায়। কেউ জানতে চান, প্রিয় অভিনেতার মন খারাপের কারণ কী। আবার কেউ বিষয়টিকে নিছক রাগ নয়, বরং কোনো কিছুর বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এই এক শব্দ যেন সময়ের সাক্ষ্য বহন করছে।

    কেউ কেউ মজা করে পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে আনলেও বেশিরভাগ অনুরাগী অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে তার স্পষ্টভাষী ভঙ্গির প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, তারকারা যখন খোলাখুলি অনুভূতি প্রকাশ করেন, তখন ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মানবিক হয়।

    তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই ‘চুপ!’ কি ব্যক্তিগত কোনো বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ, নাকি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কোনো বিষয়ে ক্ষোভের ইঙ্গিত? নাকি কেবল মুহূর্তের আবেগ? অভিনেতা নিজে ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত রহস্যটা রহস্যই থেকে যাবে।

  • বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই: শেষবিদায়ে তারকাদের ঢল মুম্বাইতে

    বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই: শেষবিদায়ে তারকাদের ঢল মুম্বাইতে

    এবিএনএ: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং কিংবদন্তি তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। সোমবার সকালে মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর, আর মাত্র কয়েকদিন পরই তিনি পা দিতেন জীবনের ৯০তম বছরে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো দেওয়া হয়নি, তবে দ্য হিন্দু, এনডিটিভি ও ফিল্মফেয়ারসহ ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

    মুম্বাইয়ের পবন হংসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাঁর শেষকৃত্য। যেখানে উপস্থিত হয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, আমির খান, অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্তসহ অনেক তারকা। ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী হেমা মালিনী, দুই মেয়ে এষা দেওল ও আহনা দেওল এবং প্রথম সংসারের সানি ও ববি দেওলও ছিলেন সেখানে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, করণ জোহর, কারিনা কাপুর থেকে শুরু করে অসংখ্য তারকা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন।

    গত কয়েকদিন ধরেই ধর্মেন্দ্রর অসুস্থতা নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। কিছু গণমাধ্যম ভুল সংবাদও প্রকাশ করে। পরে এষা দেওল সবাইকে জানান, তাঁর বাবার অবস্থা স্থিতিশীল। হেমা মালিনীও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এমন ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো আশঙ্কা। রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়; চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাঁকে আর বাঁচাতে পারেননি।

    ১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া ধর্মেন্দ্রর প্রকৃত নাম ছিল ধর্মসিং দেওল। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই তাঁর সিনেমার প্রতি অদম্য আগ্রহ ছিল। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি মুম্বাইয়ে আসেন। ‘ফুল অউর পাথর’ ছবিটি তাঁকে প্রথম সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি দেয়।

    পরবর্তী দুই দশকে ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘ধর্মবীর’, ‘দোস্ত’সহ অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে। সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অধ্যায়।

    দুই স্ত্রী ও চার সন্তানের জনক ধর্মেন্দ্র ছিলেন বহু প্রজন্মের দর্শকের প্রিয় অভিনেতা। ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবন শেষে বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা রেখে গেলেন অমর স্মৃতি ও অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া সিনেমা।