Tag: অবৈধ স্থাপনা

  • মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলা পৌর শহরের কমলার মোড় সংলগ্ন ৭ নং কলেজ রোডে মূল সড়কের নবনির্মিত ড্রেনের উপরে ভবনের পিলার গেঁথে ড্রেন দখল ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্বে।

    বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত একজন দেশী মদ বিক্রেতা সরোয়ার। তবে সরকারের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি করে পুরো শহর জুড়ে আতকং সৃস্টি করে রাখেন। প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে অর্থের বিনিময়ে আতাঁত করেন তিনি। মোংলা শহরে তিনি অসাধু ক্ষমতাবান লোকদের তার মদের ভাট্টি থেকে নিজ খরচে উপঢৌকন হিসাবে পাঠিয়ে থাকেন।

    সোমবার ২ মার্চ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার কমলার মোড় সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ড্রেনের উপর ১০ ইঞ্চি পিলার গেঁথে মূল ভবনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচল করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় বাড়ির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো সড়কের ড্রেনের উপর পিলার গেঁথেছে।

    পৌরসভার প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার বলার পরও পৌর কর্তপক্ষ এবিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ন ভবনের একাংশ সম্পূর্ণ ড্রেন জুড়ে। ভবন মালিককে বলার পরও আমলে না নিয়ে উল্টো ড্রেন দখল করেছে।

    স্থানীয়রা মনে করছেন পৌর কর্তপক্ষের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ভবন মালিক ম্যানেজ করে এমনটা করেছে। তার অপকর্ম সর্বদলীয় প্রভাবশালী অসাধু ব্যাক্তিদের অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে থাকেন।

    নিরাপদ সড়ক চাই মোংলা উপজেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ এবং ড্রেনের উপর এ ধরনের দখলদারিত্ব মোটেই কাম্য নয়। আশা করছি বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলো নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি জানান বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    খাল-নদীর পথ আটকে রাখলে রেহাই নেই: দখলদারদের কড়া বার্তা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুলের

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পরিবেশ বন ও জলবায়ু পারিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবে না, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন দীর্ঘ চার দশক পর এই খালগুলো খননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের সুবিধা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন শেষ। মোংলা-রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, স্চ্ছোয় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, শহীদ জিয়ার খাল খনন বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায় এই প্রকল্পের আওতায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোংলার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মাদুরপাল্টা খাল, ভোলা নদী খাল, পালেরখন্ড খাল এবং বেনীরখন্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন শুভ উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন।

    শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই ঐতিহাসিক খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ খালের উদ্বোধনের মাধ্যমেই সূচিত হলো মোংলা-রামপালের কৃষকদের এক নতুন স্বপ্নযাত্রা।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এই খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানা যায়, মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ও বেনীরখন্ড খালের সাড়ে ৮ কিলোমিটার জুড়ে চলবে এই খনন কাজ। ৪টি খাল থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে। খালগুলোর উপরের প্রস্থ হবে ২৫ ফিট, নিচের প্রস্থ হবে ৫ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট নিশ্চিত করা হবে, যাতে অনায়াসে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করতে পারে। আর এ প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন সহ সিএনআরএস এর প্রতিনিধি সহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের প্রবাহ সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    মাটি কাটার কাজ শুরু হতেই স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ এক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ৪০ বছর পর এই খালে আবার পানির কলকল শব্দ শুনব, এটা ভাবতেই চোখ ভিজে আসছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লোনা পানির অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে বলে বিশ্বাস এই উপকূলীয় জনপদের মানুষের। তাই দীর্ঘ চার দশক পর অবরুদ্ধ এই খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি কাটা নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক লড়াই, এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেতে সকলেই সহায়তা করবে। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের অধীনে এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহাগ এন্টার প্রাইজ-এর কারিগরি সহায়তায় এই কাজ মোংলার মানচিত্র বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন “মোংলা-রামপালের কোনো সরকারি খাল আর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, সব হবে জনগণের। উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন বিপ্লব আজ থেকে এই জনপদে পুনরায় শুরু হলো। কোনো ইজারা নয়, কোনো দখল নয়, প্রতিটি সরকারি খাল হবে উন্মুক্ত। যারা এতদিন সাধারণ মানুষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে পকেট ভরেছে, তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্তা নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।