Tag: অবরোধ

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।

    এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি হামলার নির্দেশ নয়। বরং প্রথমে কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরবর্তী ধাপে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, হরমুজ অবরোধে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। তবে কোন দেশগুলো এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    তিনি আরও বলেন, ইরানে এখনো যেসব লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ বক্তব্যকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

    ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে টোল আরোপের কথা বলছে তা চাঁদাবাজির শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ প্রদান করবে সেগুলোকে আটক করা হতে পারে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ট্রাম্প।

  • খাগড়াছড়িতে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ নিহত, সেনা-পুলিশসহ বহু আহত

    খাগড়াছড়িতে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ৩ নিহত, সেনা-পুলিশসহ বহু আহত

    এবিএনএ:  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় ভয়াবহ সহিংসতায় তিনজন পাহাড়ি প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় মেজরসহ অন্তত ১৩ সেনাসদস্য এবং থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয়ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আগে এই সংঘর্ষ ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং জানানো হয়েছে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, অবরোধের সমর্থনে রামসু বাজার এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দিয়ে পিকেটিং চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে উত্তেজনা বাড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    অবরোধকারীরা বাজারের সরকারি অফিস, দোকান ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত সম্পত্তিও পুড়ে যায়।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রামসু বাজারের আশপাশের এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রশাসনের অবস্থান

    গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে ১৪৪ ধারা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসন জানায়, সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে পরিস্থিতি শান্ত করার।

    সহিংসতার পেছনের ঘটনা

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ২৪ সেপ্টেম্বর তিনজনকে আসামি করে মামলা হয় এবং পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে।

    অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি ডাকা হয়। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অবরোধকে কেন্দ্র করে শহরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়, যেখানে অন্তত ২৫ জন আহত হন। এর পরই প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে বিজিবি মোতায়েন করে।

    খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি পাহাড়ি জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

  • অশান্ত খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা, বিজিবি মোতায়েন – অচল সড়ক যোগাযোগ

    অশান্ত খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা, বিজিবি মোতায়েন – অচল সড়ক যোগাযোগ

    এবিএনএ:  খাগড়াছড়িতে এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির সাত প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষিতে দুপুরে জেলা প্রশাসক এ বিএম ইফতেখারুল ইসলাম খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেন। পরে গুইমারা উপজেলাতেও একই সিদ্ধান্ত নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আকতার।

    এদিকে অবরোধকে ঘিরে সদর উপজেলার নারাইখাইয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসব ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    পরিস্থিতির কারণে সাজেক ভ্রমণে যাওয়া প্রায় দেড় হাজার পর্যটক নিরাপত্তার স্বার্থে দীঘিনালায় অবস্থান করছেন। খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    অবরোধের ফলে খাগড়াছড়ির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার, দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধে গাছ কেটে ও টায়ারে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ চালাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

    গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শায়ন শীল (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা।

  • বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বাগেরহাটে চার আসন বহালের দাবিতে হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ,বাগেরহাট:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ৩৬ ঘণ্টা শেষে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক জরুরি সভায় কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী রোববার জেলার সব সরকারি অফিস-আদালতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি সোম, মঙ্গল ও বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তিন দিনের হরতাল চলবে। তবে রাতের সময় হরতালের বাইরে থাকবে।

    সভায় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা মোজাফফর রহমান আলম, শেখ মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ একাধিক কর্মসূচি পালনের পরও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমএ সালাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কমিশন যদি চারটি আসন বহালের দাবি না মানে তবে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি আসন রক্ষায় আগামী সপ্তাহে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

    হরতাল চলাকালে জেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি হওয়ায় বাগেরহাট কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যাত্রী ও স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বাড়তি ভাড়া, কখনও হেঁটে, কখনও ইজিবাইক বা ভ্যানে যাতায়াত করতে হয়েছে তাদের।

    এছাড়া রাতের বেলায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও সর্বদলীয় কমিটির নেতারা এসব ঘটনায় নিজেদের জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটিতে সীমিত করার প্রস্তাব দেয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। এতে বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ নম্বর আসন রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চারটি আসনে নির্বাচন হয়ে আসলেও এবার একটি আসন সংকোচনকে গণমানুষের দাবির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় নেতারা।

  • তিন দফা দাবিতে মৎস্য ভবনের সামনে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের অবরোধে স্থবির রাজধানী

    তিন দফা দাবিতে মৎস্য ভবনের সামনে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের অবরোধে স্থবির রাজধানী

    এবিএনএ:  রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক মৎস্য ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় জটলার সৃষ্টি করেন বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তিন দফা দাবিতে তারা হঠাৎ সড়ক অবরোধ করে বসেন, ফলে পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

    শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদোন্নতি ও ‘প্রকৌশলী’ উপাধি ব্যবহার নিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত করা যাবে না এবং সরকারি চাকরিতে দশম গ্রেডে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেবল স্নাতক প্রকৌশলীদের যোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে।

    বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচির আগে বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন হয়ে প্রেসক্লাব ও হাইকোর্টের সামনে দিয়ে এগিয়ে যান। পরে তারা মৎস্য ভবন এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন।

    এর আগেও শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেন। আর বুধবার (২৭ আগস্ট) পূর্বঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেন তারা, যার ফলে ওই এলাকা এবং আশপাশের সড়ক কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

    আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও কঠোর আকার ধারণ করবে।

  • বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    বাগেরহাটে হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে, স্থবির জনজীবন

    এবিএনএ:  বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতালে জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হেঁটে কিংবা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

    রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে খুলনা থেকে মোড়েলগঞ্জগামী মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় যাত্রা শুরু করলেও হরতালের কারণে বারবার গাড়ি বদল করতে হচ্ছে। কাটাখালি থেকে দশানী পর্যন্ত পৌঁছে আর কোনো পরিবহন পাননি। তার অভিযোগ, আন্দোলন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়িয়ে দিয়েছে।

    একই দুর্দশার মুখোমুখি হয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। খুলনা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার জানান, সকাল থেকে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে তিনি এখনও বাগেরহাটের বাইরে যেতে পারেননি। পরীক্ষার দিন এমন পরিস্থিতি তাকে দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

    মো. মিজান নামের আরেক যাত্রী জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে আটকে যেতে হচ্ছে। রাস্তার উপর গাছ ফেলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুরোধ করলেও পথ অবরোধকারীরা রাস্তা খুলে দেয়নি, তাই মাকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

    অঞ্চলজুড়ে একই দৃশ্য। দূরপাল্লার কোনো বাস চলেনি, অটোরিকশা ও ভ্যানও খুব কম সংখ্যায় চলেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, রোগী ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    হরতালের বিষয়ে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চার আসনের পরিবর্তে তিনটি রাখার প্রস্তাব দিলে আমরা আন্দোলনে নামি। সংবাদ সম্মেলন, অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি। তাই আজ হরতাল ও অবরোধ ডাকতে হয়েছে।”

    তিনি দাবি করেন, জেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের দাবিকে সমর্থন করেছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, মোংলা বন্দর এলাকার বেশিরভাগ অফিসও তালাবদ্ধ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় আন্দোলন ‘সফল’ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    উল্লেখ্য, আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই হরতাল আন্দোলন জেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।