Tag: অপহরণ

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ জন

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান: দেড় বছরে আটক ৬১, উদ্ধার ৮১ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট:  বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান চললেও বনদস্যুদের তৎপরতা পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। বনজীবী, বিশেষ করে জেলে ও মৌয়ালদের এখনও চাঁদাবাজি ও অপহরণের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে।

    গত দেড় বছরে কোস্টগার্ডের পরিচালিত একাধিক অভিযানে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় সাতটি বনদস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে তাদের কবল থেকে মুক্তিপণের জন্য অপহৃত ৭৮ জন জেলে এবং ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    অভিযানগুলোতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং প্রায় ১৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি। পাশাপাশি বনদস্যুদের কয়েকটি আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল সুন্দরবনের বাইনতলা খালে পরিচালিত অভিযানে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য—মো. সোহাগ হাওলাদার ও বাবুল সানাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মোংলা কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ ‘বিজিসিএস স্বাধীন বাংলা’র কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকিব ইমরান জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে করিম-শরিফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, আসাবুর, ছোট জাহাঙ্গীর ও জোনাব বাহিনীসহ বেশ কয়েকটি দস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। তারা নিয়মিত বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে।

    এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড গত দেড় বছর ধরে টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নদী-খাল ও দুর্গম বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার: জিম্মি তিন জেলেকে উদ্ধার, স্বস্তি ফিরছে নদীপাড়ে

    জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার: জিম্মি তিন জেলেকে উদ্ধার, স্বস্তি ফিরছে নদীপাড়ে

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক ২টি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্য আটক এবং জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ৩ জেলে উদ্ধার।

    শুক্রবার ০৩ এপ্রিল দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক ডাকাতদের ধাওয়া করে ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) বাগেরহাটের শরণখোলা এবং বাবুল সানা (৪২) খুলনার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। উভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

    অপরদিকে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি নৌকাসহ ৩ জন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপন দাবি করছে।

    প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত এলাকায় গত ১ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া এবং স্টেশন কৈখালী কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকা হতে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১টি নৌকাসহ ৩ জন জেলে এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত ১টি নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

    আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য, গত দেড় বছর হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন ডাকাত সদস্য আটক করা হয়েছে। অভিযানগুলোতে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ এবং দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

    এছাড়া কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনে ব্রিফিং প্রদান করেন লেঃ শেখ সাদমান বিন মাহমুদ, (এক্স), বিএন। নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস সোনার বাংলা।

  • সুন্দরবনে হাত-পা বাঁধা জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে হাত-পা বাঁধা জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ১ জেলেকে উদ্ধার করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন ।

    মঙ্গলবার ৩১ মার্চ দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনী খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা জিম্মিকে নৌকায় রেখে বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত জেলে মজিবর গাজী (৫০) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। জেলে মজিবর গাজী কাকড়া আহরনের জন্য সুন্দরবনে গিয়েছিলেন ।

    উদ্ধারকৃত জেলেকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • মীরসরাইয়ে প্রবাসী অপহরণ ও হামলা: দীর্ঘদিন পলাতক আসামি অবশেষে পুলিশের জালে

    মীরসরাইয়ে প্রবাসী অপহরণ ও হামলা: দীর্ঘদিন পলাতক আসামি অবশেষে পুলিশের জালে

    এবিএনএ,মীরসরাই: চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার হাদি ফকিরহাট এলাকায় প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিমকে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ সালমান (৩০), যিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি। সোমবার (২৩ মার্চ) তাকে গ্রেফতার করে মীরসরাই থানা পুলিশ।

    মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইশতিয়াক রুবেল জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নিজ জমিতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছিল।

    গত ১৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার পিঠে আঘাত ও ডান গালে ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে হাদি ফকিরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতায় ২ ঘণ্টায় অপহরণ নাটকের অবসান:চামেলীবাগ থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্র

    প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতায় ২ ঘণ্টায় অপহরণ নাটকের অবসান:চামেলীবাগ থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্র

    এবিএনএ: রাজধানীতে অপহরণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সরকারি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পরপরই অভিযান জোরদার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোর রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    ঘটনার দিন বিকেলে সাইকেল চালাতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোর। কিছুক্ষণ পর পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে পৌঁছালে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    এরপর ডিএমপির একটি দল রাজধানীর চামেলীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে অপহৃত কিশোরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। অভিযানে রমনা বিভাগের কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দেন। উদ্ধার-পরবর্তী মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।

    উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ছেলেকে সুস্থভাবে ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। অপহরণকারীরা প্রথমে বেশি অঙ্কের টাকা দাবি করলেও পরে দ্রুত অর্থ দিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং কাউকে জানালে ক্ষতির হুমকি দেয়।

    পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতরা ওই এলাকার অপরাধচক্রের সদস্য। বিষয়টি আরও তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রাজধানীতে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • সুন্দরবনে সশস্ত্র দস্যুদের হাতে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক অপহৃত

    সুন্দরবনে সশস্ত্র দস্যুদের হাতে রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটক অপহৃত

    মাসুদ রানা,এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিকসহ  তিন পর্যটক অপহৃত হয়েছেন। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার কেনুর খাল হতে তাদের অপহরন করেছে সশস্ত্র বনদস্যু বাহিনী।
    শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটলেও কথিত রির্সোট সংগঠন এ নিয়ে লুকোচুরিসহ নানা নাটকীয়তার জন্ম দিচ্ছে। অপহৃত দুই পর্যটক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দ বলে জানা গেলোও তাদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রির্সোট সংগঠনের নেতারা রির্সোট মালিকসহ দুই পর্যটককে ছাড়িয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে দেনদরবার করছে বলে জানা গেছে। তবে অপহরনের শিকার পর্যটকদের ভাগ্যে কি জুটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ জানাতে পারেনি।
    বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি)  চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত ‘রিসোর্ট গোলকানন’ এ বুকিং নিয়ে রাত যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকালে গোলকানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
    রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল হতে  পর্যটকদের তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা মুক্তিপন দাবি করেছে। তবে মুক্তিপন হিসেবে কত টাকা দাবি করেছে তারা, তা জানা যায়নি।
     এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড়।
    এদিকে এ ঘটনা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের ঢাংমারী স্টোশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী। তবে কোন দস্যু বাহিনী এ পর্যটকদের অপহর করেছে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
    বনে পর্যটক অপহরনের ঘটনায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনব্যাপী রিসোর্ট এলাকায় কোন ট্যুর নৌযান কিংবা পর্যটক যাতায়াত করেনি। পর্যটাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছন স্থানীয়রা।
    দাকোপ থানা পুলিশের তথ্য মতে, অপহৃত দুই পর্যটক মো: সোহেল ও জনি বলো জানানো হয়েছে।
    এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আতিকুর রহমান জানান, সুন্দরবনে অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধারে থানা ও নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালাছে।
  • ছয় বছরে অপহরণের রেকর্ড: আট মাসেই সর্বাধিক মামলা, বেড়েছে খুন ও দস্যুতা

    ছয় বছরে অপহরণের রেকর্ড: আট মাসেই সর্বাধিক মামলা, বেড়েছে খুন ও দস্যুতা

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও চলতি বছরে অপরাধের হার বেড়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঘটনা রেকর্ড ছুঁয়েছে নতুন মাত্রা। পুলিশি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৭১৬টি অপহরণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বাধিক।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অপহরণের ঘটনা ছিল ৬৪২টি, ২০২৩ সালে ৪৬৩টি, ২০২২ সালে ৪৬০টি, ২০২১ সালে ৪৪৫টি এবং ২০২০ সালে ৪৮৬টি। অর্থাৎ চলতি বছরের আট মাসেই আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে অপহরণের হার বেশি।

    শুধু অপহরণই নয়, অন্যান্য অপরাধেও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের আট মাসে ডাকাতি ঘটেছে ৪৮৮টি, যা ২০২৪ সালের ৪৯০টির কাছাকাছি। দস্যুতার ঘটনাও বেড়েছে—এ বছর ১ হাজার ৩১৪টি রেকর্ড হলেও গত বছর তা ছিল ১ হাজার ৪০৫টি।

    দাঙ্গার চিত্রও জটিল। ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মোট দাঙ্গার ঘটনা ছিল ৭৭টি, ২০২৪ সালে তা হঠাৎ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫টিতে। তবে চলতি বছরের আট মাসে এই সংখ্যা ৫৯।

    অন্যদিকে, চুরির হার কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের আট মাসে ৬ হাজার ৩৪৫টি চুরির ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যেখানে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৫৯১টি চুরির ঘটনা ঘটেছিল।

    পুলিশি পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের আট মাসে ২ হাজার ৬১৬টি খুন এবং ১৫ হাজার ৪৯টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও কমেছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপরাধের হার কিছুটা বেড়েছে মনে হলেও এর একটি বড় কারণ হলো—এখন মানুষ রাজনৈতিক প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ভয় ছাড়াই মামলা করতে পারছে। এছাড়া, গত ১৩ মাসে খুনের হার বেশি মনে হলেও তার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ১৩০টি খুন শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত হলেও মামলা দায়ের হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর।

  • কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, অপহরণের শিকার ৩ কিশোর উদ্ধার

    কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, অপহরণের শিকার ৩ কিশোর উদ্ধার

    এবিএনএ:  কক্সবাজারে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল চট্টগ্রামের তিন কিশোর। পর্যটন শহরের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে এনে বৃহস্পতিবার সকালে র‍্যাবের অভিযানে পাহাড়ি আস্তানা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া তিন কিশোর হলো—মো. সাইদুল ইসলাম জিহাদ (১৬), মিজবাহ উদ্দিন (১৪) ও ওবায়দুল ইসলাম মুন্না (১৫)। তারা সবাই চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দা। অপহরণের পর চক্রটি তাদের পরিবার থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।

    গোপন তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে র‍্যাব-১৫ জানতে পারে, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের পাহাড়ি এলাকায় কিশোরদের আটকে রাখা হয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতে সেখানে অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযানের সময় প্রায় ১২-১৫ জন অপহরণকারী পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করে র‍্যাব সদস্যরা মো. রিয়াদ (১৯) নামের এক অপহরণকারীকে আটক করে।

    র‍্যাব সূত্র জানায়, রিয়াদ কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানার ঘোনা এলাকার নবী হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এই অপহরণ চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্রমাণ মিলেছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ও এএসপি আ ম ফারুক বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানে এক অপহরণকারী ধরা পড়েছে, বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

    র‍্যাব আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এবং আটক রিয়াদকে বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভ্রমণ নিরাপত্তা ও পর্যটন শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে। র‍্যাবের দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত বলে মনে করছেন অনেকে।