Tag: অপরাধ সংবাদ

  • হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার পর বিচারপতিদের স্বাক্ষরযুক্ত আদেশ পরিবর্তন করে নতুনভাবে জাল নথি তৈরি করা হয়। সেই ভুয়া আদেশ কারাগারে দাখিল করে আসামি সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান।

    এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতে আরেক আসামির জামিন শুনানির সময় সামনে আসে। বিষয়টি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নজরে আনেন। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

    বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি রয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

    প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এত বড় ধরনের জালিয়াতি অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনার গভীরে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    মামলার পটভূমি

    ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় অবস্থিত রিংভো অ্যাপারেলস কারখানার গুদাম থেকে প্রায় ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ ছিল, এসব পোশাক পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫), অর্ডারদাতা গোলাম আজম (৪১) এবং নিয়াজ হায়দার (৩৯)।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদন ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামানকে জব্দ অভিযানের সাক্ষী করা হয়।

    সংগঠনটির প্রেক্ষাপট

    পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে সশস্ত্র সংগঠনটির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের দিকে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বড় অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে বাহিনীটি জানতে পারে যে সুন্দরবনের সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা চিলা ইউনিয়নের ফেলুরখন্ড-বৈদ্যমারী এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে বৈদ্যমারী বাজারের আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ইয়াছিন শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি ছোট সুমন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে সুন্দরবনের ধানসিঁড়ির চর খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি একনালা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    আটক ইয়াছিন শেখ মোংলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে ভূমিকা রাখছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলিও জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

  • মীরসরাইয়ে প্রবাসী অপহরণ ও হামলা: দীর্ঘদিন পলাতক আসামি অবশেষে পুলিশের জালে

    মীরসরাইয়ে প্রবাসী অপহরণ ও হামলা: দীর্ঘদিন পলাতক আসামি অবশেষে পুলিশের জালে

    এবিএনএ,মীরসরাই: চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার হাদি ফকিরহাট এলাকায় প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিমকে হামলা ও অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ সালমান (৩০), যিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি। সোমবার (২৩ মার্চ) তাকে গ্রেফতার করে মীরসরাই থানা পুলিশ।

    মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইশতিয়াক রুবেল জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

    ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নিজ জমিতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছিল।

    গত ১৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার পিঠে আঘাত ও ডান গালে ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

    ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে হাদি ফকিরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

  • বাগেরহাটে র‍্যাবের বড়সড় অভিযান: ৬৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

    বাগেরহাটে র‍্যাবের বড়সড় অভিযান: ৬৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

    এবিএনএ,বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় র‍্যাব-৬ এর এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মুঞ্জারুল শিকদার (৪২), যার বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার চালিতাখালী গ্রামে।

    রবিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৬ এর টুআইসি মেজর নাজমুল ইসলাম।

    র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-০৬৬২) থামানো হয়। এসময় গাড়ি তল্লাশি করে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মুঞ্জারুল শিকদারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছিলেন। উদ্ধার হওয়া এই চালানটি পিরোজপুর জেলার চালিতাখালী গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জব্দ করা গাঁজার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। এ ঘটনায় র‍্যাব-৬ এর ডিএডি কুদ্দুছ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কারাবন্দি স্বামীর হতাশা! ৯ মাসের শিশুকে হত্যা করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    কারাবন্দি স্বামীর হতাশা! ৯ মাসের শিশুকে হত্যা করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় ৯ মাসের শিশু সন্তানকে হত্যার পর এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ওই নারী ও তার শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত গৃহবধূর নাম কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২)। পুলিশ জানায়, ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় স্বর্ণালীর মরদেহ পাওয়া যায় এবং মেঝেতে পড়ে ছিল তার শিশুসন্তান নাজিম হোসেনের নিথর দেহ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর তিনি নিজে গলায় ফাঁস দেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    স্বর্ণালী বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের কন্যা। দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল নিহত শিশু নাজিম। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

    নিহতের ভাই শুভ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে তিনি নানাভাবে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। হতাশা ও মানসিক চাপ থেকেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে পরিবারের ধারণা।

    স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। ময়নাতদন্ত শেষে প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেটাই মানব।”

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সাভারের ‘সম্রাট’ রহস্য ভাঙল: ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের আসল পরিচয় জানলে চমকে উঠবেন

    সাভারের ‘সম্রাট’ রহস্য ভাঙল: ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের আসল পরিচয় জানলে চমকে উঠবেন

    এবিএনএ: সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আলোচিত ‘সম্রাট’ নামের সেই সিরিয়াল কিলার আসলে এই নামের কেউ নন। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে যে তথ্য দিয়েছে, তার সত্যতা বিভিন্ন সূত্রে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের একজন। জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রাম। আত্মীয়স্বজনের একটি অংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।

    তদন্তে জানা গেছে, শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ভবঘুরে নারীদের নির্জন ও পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যেত সে। পরে তাদের আচরণ বা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহ থেকে ক্ষোভের বশে হত্যাকাণ্ড ঘটাত বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত।

    সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের জেরে প্রথমে যুবককে এবং পরে তরুণীকে হত্যা করা হয়। এরপর দুজনের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

    পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সবুজ ওরফে সম্রাট। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    সাভার মডেল থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে সে কখনো ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নামে পরিচয় দিত। নামের মিল থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ঘিরেও বিভ্রান্তি ছড়ায়।

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছে—ঠিকানা, পারিবারিক পরিচয় এমনকি হত্যার কারণ নিয়েও রয়েছে অসঙ্গতি। ফলে তার বক্তব্যকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করে যাচাই-বাছাই চলছে।

    সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকৃত ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভার এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সবুজ শেখকে শনাক্ত ও আটক করা হয়।

    এ ঘটনায় সাভারজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

  • সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    সুন্দরবনে ফের বন্যপ্রাণী নিধনের ছায়া, বস্তাভর্তি হরিণের মাংসসহ এক ব্যক্তি আটক

    এবিএনএ,শরণখোলা: সুন্দরবন থেকে হরিণের মাংস পাচারের সময় রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাতে আড়াই মণ হরিণের মাংসসহ বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়েছে এক হরিণ চোরাশিকারী। আটক শিকারীকে মোবাইল কোর্টে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে পাথরঘাটার চরদুয়ানী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারী লিটন হাওলাদার (৪৯) নামে একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বস্তায় ভরা ১০২ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করেন বনরক্ষীরা। আটক শিকারী পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের রুস্তম হাওলাদারের পুত্র। সে সুন্দরবনে হরিণ শিকার করে মাংস দুটি বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছিলো বলে বনরক্ষীরা জানান।

    পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) রানা দেব বলেন, চরদুয়ানী বাজার এলাকায় হরিণের মাংসসহ আটক শিকারীকে পাথরঘাটা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ পনির মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক বছরের স্বশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করেন। জব্দকৃত হরিণের মাংস কেরোসিন দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।

  • বারবার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিনেত্রী রূপা দত্ত, বলিউড ক্যারিয়ার ছেড়ে অপরাধজগতে!

    বারবার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিনেত্রী রূপা দত্ত, বলিউড ক্যারিয়ার ছেড়ে অপরাধজগতে!

    এবিএনএ:  একসময় বলিউডে নিজের অভিনয় দক্ষতায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী রূপা দত্ত। কিন্তু আজ তিনি আলোচনায় একেবারে ভিন্ন কারণে— বারবার চুরি ও পকেটমারির ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ, কলকাতার বড়বাজার এলাকা থেকে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর এক নারীর ব্যাগ থেকে সোনার অলঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে রূপার বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত বৃহস্পতিবার রাতে নন্দরাম মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করে কলকাতা পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৬৩ গ্রাম সোনার গয়না।

    রূপা দত্ত যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর টলিউডে অভিনয়ের সুযোগ না পেয়ে মুম্বাই যান। সেখানে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘জয় মা বৈষ্ণো দেবী’তে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এছাড়া অঙ্কুশ হাজরার সঙ্গে ‘কেল্লাফতে’ সিনেমায়ও কাজ করেন তিনি। কিন্তু অভিনয় জীবনের সেই উজ্জ্বল অধ্যায় ম্লান হয়ে যায় তার অপরাধ প্রবণতায়।

    এর আগেও ২০২২ সালে কলকাতা বইমেলায় পকেটমারির ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন রূপা। তখন তার ব্যাগ থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও একাধিক মানিব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনায় তাকে কারাভোগও করতে হয়।

    শুধু তাই নয়, ২০২০ সালে পরিচালক অনুরাগ কশ্যপের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন রূপা দত্ত, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, তিনি অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগকে ভুলবশত কশ্যপের বলে দাবি করেছিলেন।

    বর্তমানে সোনার গয়না চুরির মামলায় রূপাকে আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত চলছে এবং তিনি পেশাদার চোরচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

  • মেয়ের খাবার পৌঁছে ফেরার পথে ইউপি সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ময়মনসিংহে

    মেয়ের খাবার পৌঁছে ফেরার পথে ইউপি সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ময়মনসিংহে

    এবিএনএ: ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মেয়ের জন্য খাবার পৌঁছে ফেরার পথে এই নৃশংস হামলার শিকার হন তিনি।

    নিহত ইউপি সদস্যের নাম জামাল উদ্দিন (৬০)। তিনি বানিহালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর নলচাপড়া ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

    রোববার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন— কছিম উদ্দিন (৫৫)আনোয়ার হোসেন (৪৫)

    ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নষ্ট করার অভিযোগ নিয়ে জামাল উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, রোববার রাতে জামাল উদ্দিন মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়ের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

    কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. শফিকুল ইসলাম

    স্থানীয়রা বলছেন, বহুদিনের জমি ও পুকুরসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে, তাদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

    পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।

    মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।