Tag: অপরাধ দমন

  • সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    সুন্দরবনে দস্যু দমনে ‘রিস্টোর পিস’ ও ‘ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান জোরদার, জিরো টলারেন্স ঘোষণা কোস্ট গার্ডের

    এবিএনএ,মোংলা :সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সুন্দরবনে একযোগে দুটি বিশেষ অভিযান—‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে সক্রিয় দস্যু চক্র দমনে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও জানান, বনাঞ্চলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দস্যুদের আস্তানা শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে নদীপথে টহলও জোরদার করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    এছাড়া ৫৯৯ রাউন্ড গুলি, ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি শিকারের ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ২৯ জন শিকারিকেও আটক করেছে বাহিনীটি।

    ক্যাপ্টেন মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অপারেশন রিস্টোর পিস ও ম্যানগ্রোভ শিল্ডের মাধ্যমে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দস্যুতা দমন এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনের গহীনে অভিযান! অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সহযোগী আটক

    সুন্দরবনের গহীনে অভিযান! অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সহযোগী আটক

    এবিএনএ,মাসুদ রানা,মোংলা: সুন্দরবনের শেলা নদীর মূর্তির খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গুলিসহ কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর এক সহযোগীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল ও তৈয়বের খাল এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান এর আভিযানিক দল ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা হতে ৪টি একনলা বন্দুক, ১টি ওয়ান শুটার গান, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১০ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজসহ সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

    আটক বনদস্যু বাহিনীর সহযোগীর নাম বাদশা শেখ (২৫)। তিনি বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে কোস্ট গার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরম্ভ করেছে। উক্ত অভিযানে সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর ৫টি আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

    সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।

  • বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    বঙ্গোপসাগরে চার বনদস্যু চক্রের দাপট, ২০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ, মো.শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হানা দিয়ে বনদস্যুরা ২০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে সাগরের নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সুন্দরবন ও সুন্দরবন সংলগ বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দস্যুরা বেপরোয়া হওয়ায় জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে।

    পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সেমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় বনদস্যু বাহিনী দুবলার নারিকেলবাড়ীয়া চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত জেলে বহরে হানা দেয়। দস্যুরা ৮টি ট্রলার থেকে ৮ জেলেকে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে। অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন, হরিদাস বিশ্বাস (৫০),গোপাল বিশ্বাস (৪৫),রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস(৩৫),তুষার বিশ্বাস(৪০),মনিরুল বিশ্বাস (৪৮), ও উজ্জল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। এদের বাড়ী খুলনার পাইকগাছা এলাকায়।
    এ ছাড়া সোমবার দিবাগত রাতে দুবলারচর সংলগ্ন সাগরের আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমনজাহাঙ্গীর বাহিনী হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে ১২টি ট্রলার থেকে আলোরকোলের ১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। অপহৃত জেলেরা হচ্ছে, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস,শিবপদ বিশ্বাস,রশিদ সরদার,প্রকাশ বিশ্বাস,ইয়াসিন মোড়ল,শিমুল,রুপ কুমার বিশ্বাস,গণেশ বিশ্বাস,উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এ সকল জেলেদের বাড়ী পাইকগাছা,কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চারটি বনদস্যু গ্রুপ সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে । দস্যুদের দমন করা না গেলে জেলেরা পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন বলে কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ৬ ককটেল উদ্ধার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

    বাগেরহাটে পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে ৬ ককটেল উদ্ধার, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কার মধ্যে বাগেরহাটে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। সদর উপজেলার হাড়িখালি সুইচগেট এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে এসব ককটেল উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে ২৩ আরই ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত ভবনের পাশের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের বালতি থেকে ৬টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে এসব ককটেল মজুত করে রাখতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগের দিন কিংবা ভোটের দিন নাশকতার উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।

    ঘটনার পরপরই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশের একটি টহল দল মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল (বিডি) ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

  • দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১,৬৬৫ জন, অস্ত্র ও আলামত উদ্ধার

    দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১,৬৬৫ জন, অস্ত্র ও আলামত উদ্ধার

    এবিএনএ:  দেশজুড়ে একযোগে পরিচালিত অভিযানে ১,৬৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তাদের মধ্যে মামলাভুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির সংখ্যা ১,১৫১ জন, বাকিরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ধরা পড়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান সাঁড়াশি অভিযানে সারাদেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ইউনিট অংশ নেয়। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অভিযান চলাকালীন সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি বার্মিজ ছুরি এবং অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত আরও কিছু আলামত।

    পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

  • দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মব জাস্টিস চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

    দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো মব জাস্টিস চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

    এবিএনএ: ঢাকার আশপাশে মব জাস্টিসের ঘটনা কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো এ ধরনের প্রবণতা বিদ্যমান বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১২তম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সভায় সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলার সামগ্রিক পরিস্থিতি, জুলাই মাসের হত্যা মামলার পর্যালোচনা, ছিনতাই-চাঁদাবাজি দমন, মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠে আসে।

    জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই মব জাস্টিস যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। কয়েকদিন আগে রংপুরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় তুলনামূলক কম হলেও আশপাশে এখনও মাঝে মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তিনি জানান, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি বাড়াতে বড় পরিসরে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ১৫ হাজার ৮৫১ জন, বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, আনসারে ৫ হাজার ৫৫১ জন, কারা বিভাগে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ২০৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদ পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ফুল দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি সে বিষয়ে অবগত নই। তবে আমাদের নির্দেশনা ছিল যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”

    সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই কোনো নির্দোষ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। চুনোপুঁটি ধরা হলেও বড় অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা সবসময় সত্য ঘটনা তুলে ধরেন, এজন্য ধন্যবাদ।”

  • র‍্যাব বিলুপ্তি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত সরকারের: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুত ডিজি

    র‍্যাব বিলুপ্তি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত সরকারের: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুত ডিজি

    এবিএনএ:   সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তি নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে, বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, র‍্যাব এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করছে না।

    ১১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিন বিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা এখন ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দস্যুতা বা অপহরণের মতো অপরাধ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তিনি আরও জানান, বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী হত্যা, গাজীপুরের সাংবাদিক হত্যা এবং আট টুকরা লাশের রহস্য উদ্ঘাটনসহ একাধিক ঘটনায় দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

    কক্সবাজার এলাকায় চলমান মাদক বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ডিজি জানান, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। নির্বাচনের জন্য সরকারের বা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পেলে র‍্যাব প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেওয়া হবে।

    পলিথিন বিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ নিয়ে এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, “পলিথিন শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, বরং পুরো পরিবেশ ও প্রাণীজগতের জন্য ক্ষতিকর। আমরা উৎপাদন, পরিবহন ও খুচরা পর্যায়ে পলিথিন ব্যবহারে বাধা দিচ্ছি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি।”

    তার মতে, জনগণ সচেতন হলে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে, যা পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

  • ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের জালে ১ হাজার ৫০১ জন, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি

    ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের জালে ১ হাজার ৫০১ জন, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি

    এবিএনএ: সারা দেশে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫০১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১,০১৮ জন ছিলেন বিভিন্ন মামলার পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত, আর বাকি ৪৮৩ জনকে অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়।

    সোমবার (৭ জুলাই) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় একনলা বন্দুক, বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, এই ধরপাকড়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাস, মাদক, অস্ত্র ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে এই ধরনের সমন্বিত অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    সদরদপ্তর জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দেশজুড়ে এমন অভিযান চলমান থাকবে। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


    পুলিশের এই অভিযান শুধু অপরাধীদের দমন নয়, বরং সাধারণ জনগণের মাঝে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। জনসাধারণের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান পুলিশের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। আগামী দিনগুলোতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

  • দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান: এক সপ্তাহেই গ্রেফতার ১৬৭৬ অপরাধী

    দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান: এক সপ্তাহেই গ্রেফতার ১৬৭৬ অপরাধী

    এবিএনএ: সারাদেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত এক ধারাবাহিক অভিযানে পুলিশ মোট ১,৬৭৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছেএদের মধ্যে ১০৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলা আদালতের ওয়ারেন্ট ছিল, বাকি ৬৩৫ জনকে ধরা হয়েছে অন্যান্য অপরাধের দায়ে।

    মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) ইনামুল হক সাগর তথ্য জানান।

    তিনি জানান, চলমান এই অভিযানে শুধু অপরাধীই নয়, বিদেশি পিস্তল, ওয়ান শুটার গান, রিভলবার নানা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু অবৈধ সামগ্রী সন্দেহভাজন অপরাধ সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্রও জব্দ করা হয়েছে।

    আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধ প্রবণতা দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সমাজবিরোধী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

    দেশজুড়ে এই অভিযানের ফলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের টার্গেটেড অপারেশন নিয়মিত চালালে অপরাধ দমনে দীর্ঘস্থায়ী সুফল আসবে।