Tag: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

  • সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    এবিএনএ: কিছু রাজনৈতিক শক্তি সংস্কারের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলছে তারা নারীর স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। এসব কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও নারীবিষয়ক কমিশনও রয়েছে। কিন্তু একটি মহল শুধুমাত্র সংবিধান ইস্যু সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা সহজ করা, ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা কিংবা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তারা কোনো বক্তব্য দেয় না।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অতীতেও বিভিন্ন সময় একই কৌশলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু মহল এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে দেশের উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। তখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার নিয়ে কথা বলতেও সাহস পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু বড় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বিএনপি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কমিশনের কাছে বিএনপি নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোন বিষয়ে একমত আর কোন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে—সবকিছুই স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর আগে সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছান তারেক রহমান। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তিনি জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

  • জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করল সরকার

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কূটনীতিকদের আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের সর্বশেষ প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

    ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়।

    এ সময় জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দেশকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক অংশ নেন।

  • একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ১২ ফেব্রুয়ারিতে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: ১২ ফেব্রুয়ারিতে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

    এবিএনএ: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৫ সালের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ তফসিল প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনে ভোটগ্রহণের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

    মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই ও প্রচারণার সময়সূচি

    সিইসি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর
    মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
    রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, আর এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি
    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, এবং ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ।

    এ ছাড়া ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে প্রচারণা চলবে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত—অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত

    ভোটগ্রহণ ও ব্যালট বিবরণ

    ভোট নেওয়া হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত—এ বছর ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
    জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদাকালো, আর গণভোটের ব্যালট নির্ধারিত হয়েছে গোলাপি রঙের। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের বর্ষপূর্তির আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে জাতীয় নির্বাচন।

    পরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়। ১৩ নভেম্বর নিশ্চিত করা হয়—জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

  • জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

    জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

    এবিএনএ:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যেতে পারবেন না।

    পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও অর্থ বিভাগ থেকে বিদেশ ভ্রমণ সীমিতকরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মকর্তা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হলো, যাতে নির্বাচনকালীন সময় বিদেশ ভ্রমণ সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    দপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং একাধিক কর্মকর্তা একই সময়ে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, যা সরকারের পূর্বনির্ধারিত নীতির পরিপন্থী। এ কারণে এবার বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যেন অতি প্রয়োজন ছাড়া কোনো বিদেশ সফরের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো না হয়।

    নতুন পরিপত্রের অনুলিপি সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং উপদেষ্টাদের একান্ত সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছিল। এসব নির্দেশনায় বলা হয়, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, সচিবের অনুমতি ছাড়া আমন্ত্রণ গ্রহণ করা যাবে না এবং বিদেশ সফরের আগে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।

    সরকারি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • মধ্যরাতে নেপালে বিক্ষোভ: নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলার পদত্যাগে জেন-জিদের স্লোগান

    মধ্যরাতে নেপালে বিক্ষোভ: নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলার পদত্যাগে জেন-জিদের স্লোগান

    এবিএনএ:  নেপালে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে জেন-জি আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির পদত্যাগ দাবি জানিয়ে রোববার মধ্যরাতে রাজধানী কাঠমান্ডুর বালুওয়াতারে তার সরকারি বাসভবনের সামনে জড়ো হয় জেন-জি নেতাকর্মীরা।

    এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক সুদান গুরুং। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা যদি আবার রাস্তায় নামি, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না। যাকে বসিয়েছি, তাকেই সরাতে জানি।”

    গুরুং আরও অভিযোগ করেন, আইনজীবী ওমপ্রকাশ আর্যল ভেতর থেকেই নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা করছেন। তার সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন গত সপ্তাহে সহিংসতায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যরাও।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আর্যলকে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। একইসঙ্গে তিনি রমেশ্বর খনালকে অর্থমন্ত্রী এবং কুলমান ঘিসিংকে জ্বালানি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। উল্লেখ্য, আর্যল সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান নিয়োগ নিয়ে আলোচিত মামলাসহ বিভিন্ন জনস্বার্থ মামলা পরিচালনা করেছেন।

    অন্যদিকে, গত সপ্তাহের জেন-জি বিক্ষোভে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্কি বলেন, “এগুলো দেশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজ। তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করতে হবে এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রোববার মধ্যরাতে নতুন করে আন্দোলনে নামে জেন-জি কর্মীরা।

    এর আগে জেন-জিদের চাপেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কে পি শর্মা অলি। তার পরই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান সুশীলা কার্কি, যিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। শপথের পরপরই তিনি প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দিয়ে আগামী ৫ মার্চ নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

  • জুলাই সনদ উপেক্ষা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল: এনসিপি

    জুলাই সনদ উপেক্ষা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল: এনসিপি

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি জানায়, নির্বাচন আয়োজন ইতিবাচক হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে রোডম্যাপ প্রকাশকে তারা সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছে।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জনগণ সংস্কার ও বিচার প্রত্যাশা করেছিল। সেই লক্ষ্যেই সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন থেকে প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে এবং এনসিপিও নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কিন্তু খসড়ায় সনদ বাস্তবায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া না থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ছয়টি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হলেও তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে গণপরিষদ নির্বাচন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সভার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু এসব আলোচনার মাঝেই একতরফাভাবে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। যদিও দলটি বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি মেনে নিয়েছে, তবে আশা করেছিল নির্বাচনী রোডম্যাপের আগে সংস্কার বাস্তবায়নের পরিকল্পনা স্পষ্ট হবে।

    এনসিপির মতে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা ছাড়া নির্বাচন প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। আরিফুল ইসলাম আদীব সতর্ক করে বলেন, “সংস্কার কার্যক্রম চূড়ান্ত না হলে নির্বাচনকালীন সংকটের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এনসিপি নির্বাচন বিরোধী নয়; বরং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। তবে সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কী? ‘এক্সিট পলিসি’ ভাবনার তাগিদ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কী? ‘এক্সিট পলিসি’ ভাবনার তাগিদ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    এবিএনএ: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট পলিসি’ বা প্রস্থানের রূপরেখা তৈরি করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, ভবিষ্যতের সরকার সেগুলোর পূর্ণ বৈধতা দেবে কি না—সে প্রশ্ন আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে।

    বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে ‘ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশ’-এর আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে দেবপ্রিয় এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয়তা তখনই সামনে আসে, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং স্বাধীন নির্বাচনী কাঠামোর অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইতিহাস বলছে, যখন কোনো রাজনীতিক শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হন না, তখনই রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।”

    অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দেবপ্রিয় আরও বলেন, “আমরা যারা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি, তারা প্রত্যক্ষ করেছি কীভাবে একটি জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হয়। আজকে একই বাস্তবতা আমাদের সামনে উপস্থিত।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “এখন সময় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে, একটি গ্রহণযোগ্য ‘এক্সিট পলিসি’ নির্ধারণ করার, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় না পড়ে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয়।”

  • মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    এবিএনএ: গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—ন্যায়বিচার মানে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রক্ষমতা কখনোই ব্যবহার হবে না।”


    🗓️ ‘জুলাই বিপ্লব’-এর স্মরণে এক প্রতিশ্রুতিশীল বার্তা

    ‘জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে জাতিসংঘ ঢাকা কার্যালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, “গত বছর এই সময় দেশের হাজার হাজার মানুষ—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ত্যাগ গোটা জাতির গর্ব।”


    🕊️ জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট কিংবা গত বছরের সংকটকালেও জাতিসংঘ আমাদের পাশে ছিল। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের সহযোগিতায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হয়েছে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়, যা ছিল পরিকল্পিত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত সহিংসতা


    ⚖️ বিচারের দাবি ও চলমান পদক্ষেপ

    ড. ইউনূস বলেন, “এই সহিংসতা শুধুমাত্র নিন্দনীয় নয়, বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। জাতিসংঘের সুপারিশমালার আলোকে আমরা ইতিমধ্যে গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন, দণ্ডবিধির সংশোধন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।”

    তিনি জানান, ঢাকায় গঠিতব্য সহায়তাকারী মিশন সরকার ও সুশীল সমাজকে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেবে।


    🗳️ একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের প্রত্যাশা

    অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।”


    🔚 ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়

    শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা এই স্বপ্নের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেছে—যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র অটল থাকবে।”

    এই প্রতিশ্রুতি শুধু রাষ্ট্রীয় ভাষণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তবায়নের দিকেও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।