Category: এবিএনএ স্পেশাল

  • ওবামার ‘সবচেয়ে বড় ভুল’

    ওবামার ‘সবচেয়ে বড় ভুল’

    এবিএনএ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাতের পর সেখানে প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হওয়া তাঁর প্রেসিডেন্সির ‘সবচেয়ে বড় ভুল’। নিজ মেয়াদের ভালো ও খারাপ সময় সম্পর্কে ফক্স নিউজের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ মন্তব্য করেন। যদিও তিনি এও বলেন, লিবিয়ায় হস্তক্ষেপ ‘সঠিক’ ছিল।

    ২০১১ সালে লিবিয়ায় অভ্যুত্থান চলার সময় দেশটির বেসামরিক লোকদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু লিবিয়ার একনায়ক গাদ্দাফিকে হত্যার পর জঙ্গি দখল কায়েম ও তথাকথিত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের উত্থানে দেশটি বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রে লিঙ্গান্তরিতদের টয়লেট আইন নিয়ে বিতর্ক

    যুক্তরাষ্ট্রে লিঙ্গান্তরিতদের টয়লেট আইন নিয়ে বিতর্ক

    এবিএনএ : যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে দু সপ্তাহ আগে ‘পাবলিক ফেসিলিটিস্ প্রিভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট’নামে বির্তকিত এক আইন পাশ করা হয়। সংক্ষেপে এর নাম দেয়া হয়েছে ‘টয়লেট আইন’। এই আইনে বিশেষভাবে যারা লিঙ্গান্তর করেছেন তাদের টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করে বলা হয়েছে। জন্ম সনদে তাদের যে লিঙ্গ লেখা আছে তারা সেই লিঙ্গের জন্য নির্ধারিত টয়লেটই শুধু ব্যবহার করতে পারবেন।

    অর্থাৎ জন্মের সময় যে নারী ছিল, সে পরবর্তীকালে লিঙ্গ বদলে পুরুষ হলেও তাকে ব্যবহার করতে হবে নারীদের টয়লেট এবং জন্মের সময় যারা পুরুষ ছিলেন তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই আইনে অবশ্য সমকামীদেরও বৈষম্যের শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তাদের বক্তব্য, সমকামীদের সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত কোনো বিধি এই আইনের কারণে পাশ করা যাবে না।

    নর্থ ক্যারোলিনার এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকারের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের লংঘন বলে বিভিন্ন রাজ্যে মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংটিন নর্থ ক্যারোলাইনার সবচেয়ে বড় শহর গ্রিনসবরোয় তাঁর রবিবারের সঙ্গীতানুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছেন। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিকরাও এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

  • কে বেশি যোগ্য, হিলারি না বার্নি?

    কে বেশি যোগ্য, হিলারি না বার্নি?

    এবিএনএ : নিউইয়র্কে প্রাইমারি নির্বাচন সামনে রেখে দুই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স তুমুল বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। দুজনই হাতের মখমলের দস্তানা খুলে হাওয়ায় কথা চালাচালি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কে বেশি যোগ্য, তা নিয়ে চলছে এই যুদ্ধ।

    কথাটা প্রথমে তুলেছিলেন হিলারি। বার্নি স্যান্ডার্স অযোগ্য—আক্ষরিকভাবে এ কথা তিনি বলেননি। তবে পরোক্ষভাবে হলেও তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত এক সপ্তাহে একাধিকবার আক্রমণের তির ছুড়েছেন। প্রথমে নিউইয়র্কে, পরে ফিলাডেলফিয়ার জনসভায় হিলারি প্রশ্ন তোলেন, স্যান্ডার্স নানা প্রস্তাব করেছেন বটে, কিন্তু তাঁর বেশির ভাগই বাস্তবসম্মত নয়।

    নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির পরবর্তী প্রাইমারি নির্বাচন ১৯ এপ্রিল। এই নির্বাচন সামনে রেখে সেখানকার ডেইলি নিউজ পত্রিকায় গত সপ্তাহে বার্নি একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেন। এগুলোর জন্য হিলারির শিবির থেকে তাঁকে অস্বচ্ছ ও অগভীর বলে সমালোচনা করা হয়েছে। হিলারি বলেন, এসব কথা বলার আগে বার্নি ‘হোমওয়ার্ক’ করেননি।

    বার্নির ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হিলারি। তিনি বলেন, ভারমন্টের এই প্রবীণ সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সিনেটে ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও নিজেকে ‘স্বতন্ত্র’ ও ‘সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন।

    জবাবে পাল্টা আঘাত হেনে বার্নি প্রশ্ন করেন, তাঁকে অযোগ্য বলার আগে হিলারি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি না, ভাবা দরকার। তিনি বলেন, ওয়ালস্ট্রিট থেকে কোটি কোটি ডলার চাঁদা নেওয়ার পর হিলারি নিজেকে আর যোগ্য ভাবতে পারেন না।

    আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বার্নির বিরোধিতা নিয়ে হিলারি বলেছেন, বেপরোয়া গুলিবর্ষণে যেসব স্কুলছাত্র মারা গেছে, তাদের মা-বাবার কাছে বার্নির ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাল্টা অভিযোগ তুলে বার্নি বলেন, ইরাক যুদ্ধে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল, হিলারির উচিত হবে তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তিনি দাবি করেন, ইরাক যুদ্ধ প্রস্তাবে সমর্থন অথবা পানামা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সমর্থনের কারণে হিলারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

    হিলারির যোগ্যতা নিয়ে বার্নির এই সমালোচনা হিলারির মিত্রদের কাছে ভালো লাগেনি। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ও মিসৌরির সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাককস্কাল কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ভারমন্টের এই স্বতন্ত্র সিনেটর ‘সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন’।

    ক্লিনটনের সমর্থকেরা অবশ্য এ নিয়ে সচেতন যে স্যান্ডার্সকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলে তার উল্টো ফল হতে পারে। হিলারি নিউইয়র্কে জনমত জরিপে বার্নির চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে তিনি পিছিয়ে। জাতীয় পর্যায়ে মাত্র ৪৬ শতাংশ হিলারিকে সমর্থন করে। ৫০ শতাংশ সমর্থন করে না। মেয়েদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ হিলারিকে সমর্থন করে না। হিলারি জাতীয় পর্যায়ে বার্নির চেয়ে এখন পর্যন্ত সামান্য এগিয়ে থাকলেও আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের মধ্যে বার্নির সমর্থন দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই স্বঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’–এর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হলে তার নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে।

    এই আশঙ্কা মাথায় রেখে হিলারি গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, বার্নি যোগ্য নন, এ কথা তিনি মোটেই বলেননি। যেকোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর জায়গায় বার্নিকে সর্বদাই সমর্থন করবেন বলে তিনি জানান।

    ডেলিগেট ও সুপার ডেলিগেট সংখ্যার হিসাবে হিলারি সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও বার্নি যে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াবেন না, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তার প্রধান কারণ, গত আট রাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে সাতটিতে তিনি জিতেছেন। এর চেয়েও বড় কথা, গত তিন মাসে হিলারির চেয়ে অনেক বেশি চাঁদা তুলতে সক্ষম হয়েছেন বার্নি। যতক্ষণ তাঁর তহবিলে অর্থ আছে, ততক্ষণ রণে ভঙ্গ দেওয়ার কোনো চাপ তাঁর ওপরে নেই। অনেকেই মানেন, সুপার ডেলিগেটের কারণে জুলাই মাসের পার্টি কনভেনশনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে হিলারিরই মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে বার্নি ডেমোক্রেটিক সুপার ডেলিগেটদের কাছে যুক্তি দেখানো শুরু করেছেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, একমাত্র তিনিই সব রিপাবলিকান প্রার্থীকে সহজে পরাস্ত করতে সক্ষম। অতএব সুপার ডেলিগেটদের হিলারিকে নয়, তাঁকেই সমর্থন জানানো উচিত হবে।

    এখন পর্যন্ত কোনো সুপার ডেলিগেট মত বদলাননি। তবে অবস্থা বদলে যাবে, যদি বার্নি নিউইয়র্কে হিলারিকে হারিয়ে দিতে সক্ষম হন। এমনটা ঘটলে বার্নি দলের কাছে শুধু বেশি পছন্দেরই নয় রিপাবলিকানদের ঠেকাতে পারেন এমন প্রার্থী হিসেবেও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারবেন।

    মোট ডেলিগেট
    হিলারি ক্লিনটন (১৭৪৯), বার্নি স্যান্ডার্স (১০৬১)
    মনোনয়নের জন্য প্রয়োজন ২ হাজার ৩৮৩ ডেলিগেট

  • আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র উ. কোরিয়ার হাতে

    আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র উ. কোরিয়ার হাতে

    এবিএনএ : উত্তর কোরিয়া বলেছে দেশটি আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম’এর ইঞ্জিনের সফলপরীক্ষা করেছে। এতে দেশটি আমেরিকার ওপর পরমাণু পরীক্ষা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবে।

    এবিএনএ ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ আজ(শনিবার) খুব ভোরে এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে দেশটির নেতা কিম জং-উন এ পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত ভাবে তা নজরদারি করেছেন। অবশ্য পরীক্ষা কবে চালানো হয়েছে খবরে তা উল্লেখ করা হয় নি।

    এ পরীক্ষা প্রসঙ্গে কিম বলেছেন, এ সফলতা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং অন্যান্য বৈরি শক্তির ওপর ভিন্ন ভাবে পরমাণু হামলা চালানোর নিশ্চয়তা উত্তর কোরিয়াকে দিয়েছে।

    পিয়ংইয়ং চলতি বছরের রাষ্ট্রীয় বাজেটের ১৫.৮ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করেছে। জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া।
    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এর এক মাস পরে কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠায় দেশটি। এ ছাড়া, চলতি বছরে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও করেছে দেশটি। এতে কোরিয় উপদ্বীপে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী কুরুক্ষেত্র এখন নিউইয়র্ক

    যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী কুরুক্ষেত্র এখন নিউইয়র্ক

    এবিএনএ : উইসকনসিনের প্রাইমারি ভোটে মঙ্গলবার বেধড়ক মার খেয়ে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নজর দিয়েছেন নিউইয়র্কের ওপর। তাঁদের পিছু পিছু এই শহরে এসে হাজির হয়েছেন তাঁদের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স ও টেড ক্রুজ। ১৯ এপ্রিল এই রাজ্যে প্রাইমারি নির্বাচন।

    সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, হিলারি ও ট্রাম্প তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে স্বস্তিদায়ক নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন। এটি তাঁদের নিজস্ব রাজ্য এবং এখানে বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া সামনে এগোনো তাঁদের পক্ষে কঠিন হবে। অন্যদিকে, বার্নি স্যান্ডার্স ভারমন্ট থেকে নির্বাচিত সিনেটর হলেও পোলিশ অভিবাসী পিতা-মাতার সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তাঁর শৈশব ও যৌবন কাটিয়েছেন। এই শহরে তাঁর শেকড় বেশ গভীর। একমাত্র টেড ক্রুজই এখানে ‘বহিরাগত’। তাঁর প্রতি সমর্থনও নামমাত্র। এমনকি ওহাইয়োর গভর্নর জন কেইসিক এখানে ক্রুজের চেয়ে জনমত জরিপে এগিয়ে।
    বুধবার ট্রাম্প নিউইয়র্কে একাধিক জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। ‘আহ, ঘরে ফিরে কী ভালো লাগছে’, তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন। ট্রাম্প গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ‘মিথ্যাবাদী ক্রুজকে’ পরাজিত করার ও রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ইতিপূর্বে ক্রুজ ‘নিউইয়র্ক মূল্যবোধের’ জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা স্মরণ করে তাঁকে নতুন করে আক্রমণ করে বলেন, ‘ক্রুজ আজ এই শহরে এসেছেন, কিন্তু তাঁর সভায় এক শ মানুষও আসেনি। আমার মনে হয় তাঁকে আমরা হিসাব থেকে বাদ দিতে পারি।’ লং আইল্যান্ডের জনসভায় তুমুল করতালির মধ্যে তিনি এ কথা ঘোষণা করেন। নিউইয়র্কে তাঁর বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই জেনেও ক্রুজ বুধবার আফ্রিকান-আমেরিকান অধ্যুষিত ব্রঙ্কস ও ম্যানহাটন সফর করেন। প্রতি অনুষ্ঠানেই তিনি প্রবল সমালোচনা ও বিদ্রূপের সম্মুখীন হন। ব্রঙ্কসে তিনি কথা বলার সময় বারবার বাধা দেওয়ায় একজন বিক্ষোভকারীকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
    নিউইয়র্কের ডেইলি নিউজ পত্রিকা ক্রুজের এই সফরকে ঠাট্টা করে লেখে, তিনি এখানে রীতিমতো ‘ক্রুশবিদ্ধ’ হয়েছিলেন। একজন দর্শকের মন্তব্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, হিস্পানিক পদবি আছে বলে যে তিনি নিজে একজন হিস্পানিক, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। উল্লেখ্য, ক্রুজের বাবা কিউবা থেকে আগত অভিবাসী।

    ব্রঙ্কসবরোর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রুবেনডিয়াজও ক্রুজের বহিরাগত অবস্থানের জন্য তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এই লোকটি এখানে এসেছে আমাদের ভোট চাইতে, অথচ দুদিন আগেও সে আমাদের মূল্যবোধের নামে বারবার অপমান করেছে।’
    অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটন এই রাজ্যে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চাইছেন। গত এক সপ্তাহ ধরেই তিনি এখানে একের পর এক রাজনৈতিক সভায় অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার উইসকনসিনে ভোটের দিন, তিনি এই ম্যানহাটনে রাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কুওমোর সঙ্গে ঘণ্টা প্রতি ১৫ ডলার বেতনের সমর্থনে এক সভায় অংশ নেন। সেখানে স্যান্ডার্স বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বিভক্ত করতে চান, অন্যজন বাস্তবসম্মত নয়, এমন সব কাগুজে পরিকল্পনার কথা বলছেন।
    বুধবার স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে হিলারি বলেন, নিজেকে ডেমোক্রেটিক দাবি করলেও তিনি আদৌ ডেমোক্রেটিক দলের কেউ নন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কখনো ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য অর্থ সংগ্রহে সাহায্য করেননি।
    দিন দু-এক আগে ডেইলি নিউজ পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে স্যান্ডার্স বৃহৎ ব্যাংক সমূহ কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করার এক পরিকল্পনা গুছিয়ে বলতে ব্যর্থ হন। সে কথা উল্লেখ করে ক্লিনটন বলেন, স্যান্ডার্স এখনো ঠিক ‘হোম ওয়ার্ক’ করে ওঠেননি। ভোটারদের খুশি করার জন্য যা খুশি বলছেন, কিন্তু সে সব কথা কি তিনি রাখতে পারবেন?
    ​হিলারি ক্লিনটন তাঁকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ‘অযোগ্য’ বলেছেন, এই অভিযোগ তুলে স্যান্ডার্স ফিলাডেলফিয়ায় এক ভাষণে বলেন, হিলারি সম্ভবত ভীত হয়ে অসংলগ্ন কথা বলা শুরু করেছেন। ‘আমার তো মনে তিনি নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন।’ হিলারির সঙ্গে ওয়ালস্ট্রিটের গভীর সখ্যের কথা উল্লেখ করে স্যান্ডার্স বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার চাঁদা তোলার পর তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য যোগ্য, সে কথা আর বলা যায় না।
    হিলারি ইতিপূর্বে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে স্যান্ডার্সের অবস্থান ধোঁয়াটে, সে কথা উল্লেখ করে আবারও কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিচার গোলাগুলিতে নিহত শিশুদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেন। সে কথা উল্লেখ করে স্যান্ডার্স বলেন, হিলারির উচিত হবে ইরাকে নিহত হাজার হাজার মানুষের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়া। উল্লেখ্য, ইরাকে মার্কিন অভিযানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন হিলারি, স্যান্ডার্স ওই অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন।
    সর্বশেষ জনমত গণনা অনুযায়ী হিলারি স্যান্ডার্সের তুলনায় ৮ থেকে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এই রাজ্যের অধিকাংশ ‘সুপার ডেলিগেট’ বা দলীয় কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি ক্লিনটনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। স্যান্ডার্স ‘ডেমোক্রেটিক’ নন, ক্লিনটনের এই সমালোচনার লক্ষ্য যে দলের ‘সুপার ডেলিগেটরা’ তাতে সন্দেহ নেই। তবে সুপার ডেলিগেটদের সমর্থনে বিস্তর এগিয়ে থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থনে হিলারি পিছিয়ে রয়েছেন স্যান্ডার্সের চেয়ে। তাঁর প্রতি ‘অবিশ্বাস’ এখনো প্রবল এবং এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে তিনি ক্রুজ ও কেইসিকের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাস্ত হবেন। একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই তিনি সহজে পরাস্ত করতে সক্ষম। অন্যদিকে স্যান্ডার্স তরুণদের মধ্যে তাঁর সমর্থনের জোরে সব রিপাবলিকান প্রার্থীকেই বড় অঙ্কের ব্যবধানে পরাস্ত করতে সক্ষম।

  • হুমকিতে থাকা বাংলাদেশী ব্লগারদের আশ্রয় দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    হুমকিতে থাকা বাংলাদেশী ব্লগারদের আশ্রয় দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ : দীর্ঘদিন ধরে চরম হুমকিতে আছেন এমন নির্দিষ্ট কয়েকজন বাংলাদেশী ব্লগারকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাতে ঢাকায় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিম উদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনার পর এই আভাস দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র মার্ক সি টোনার জানান, হুমকিতে থাকা বাংলাদেশী ব্লগারদের যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ের শুরুতেই বাংলাদেশে নাজিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন টোনার। তিনি বলেন, ব্রিফিংয়ের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু নিয়ে কথা বলব। আইনের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর সামাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন রয়েছ বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র।

    তিনি বলেন, নাজিমুদ্দিন জানতেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসও দেখিয়েছে যে, সহিংসতা বাংলাদেশের মুক্ত ও স্বাধীন মতকে হারাতে পারবে না। নির্মম হত্যাকাণ্ড বিরোধী বাংলাদেশী জনগণের পাশে আমরা আছি এবং বাকস্বাধীনতা রক্ষায় একটি সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক সমাজের প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। সন্ত্রাসবাদ,সহিংস জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত সমর্থন জানাবে বলেও জানান তিনি। মার্ক টোনার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টানা চরম হুমকিতে আছেন এমন নির্দিষ্ট কয়েকজন বাংলাদেশী ব্লগারকে মানবিক আশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    তবে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আপত্তি আছে বলে জানান তিনি। সাধারণভাবে অনিবার্য জরুরি কারণে কোনো ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক আশ্রয় দেয়া হয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দেখভালে দায়িত্বে থাকা নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দফতরের প্রেস সচিব শিন ইনিওয়ি গোপনীয়তা আইনের কারণে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মার্কিন সরকারের কাছে বাংলাদেশী লেখকদের মানবিক আশ্রয় প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিল। নাজিমকে হত্যার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশী ব্লগারদের আশ্রয় দিতে মার্কিন সরকারের কাছে ফের আবেদন জানায়।

    বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিতে বলা হয়, নাজিমুদ্দিনকে নৃশংস উপায়ে হত্যার ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার রক্ষায় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে। কয়েক ডজন ব্লগার জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি বলে, ধর্মনিরপেক্ষ মতামত ও লেখালেখির কারণে ২০১৫ সালে কমপক্ষে চারজন ব্লগার ও একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে এখনো বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। পেন আমেরিকার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাজিম উদ্দিনের হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা। এ ঘটনা মুক্তচিন্তার মানুষ যে ভীতিকর নিষ্ঠুর পরিস্থিতির মধ্যে আছে, সেটাই নির্দেশ করে। পেন আমেরিকার স্বাধীন মত প্রকাশ বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক কারিন কার্লেকার ঝুঁকিতে থাকা মুক্তচিন্তার মানুষদের আশ্রয় দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, বুধবার রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন লক্ষ্মীবাজারের ঋষিকেশ দাস লেনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পরই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সমালোচনা ঝড় ওঠে।

  • ক্রুজ ও স্যান্ডার্সের বিশাল জয়

    ক্রুজ ও স্যান্ডার্সের বিশাল জয়

    এবিএনএ : উইসকনসিনের প্রাইমারি নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের টেড ক্রুজ ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে একাই এই রাজ্যের ৩৩ জন ডেলিগেট সংগ্রহ করেছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজের বাক্সে মাত্র ৩ জন ডেলিগেট যোগ করতে পেরেছেন। তৃতীয় প্রার্থী জন কেইসিক মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজের জন্য কোনো ডেলিগেট সংগ্রহে ব্যর্থ হন।

    এর ফলে এই তিনজনের মোট ডেলিগেট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়াল যথাক্রমে ট্রাম্প (৭৪০), ক্রুজ (৫১৪) ও কেইসিক (১৭১)। দলের মনোনয়ন পেতে প্রয়োজন ১,২৩৭ ডেলিগেট।

    অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪৭ জন ডেলিগেট সংগ্রহ করেছেন। হিলারি ক্লিনটন তাঁর ৪১ শতাংশ ভোটের সুবাদে পেয়েছেন ৩৬ জন ডেলিগেট। এর ফলে তাঁদের মোট ডেলিগেটের পরিমাণ দাঁড়াল হিলারি (১,৭৪৮), স্যান্ডার্স (১,০২৭)। এর বাইরে হিলারির পক্ষে ৪৬১ ও বার্নির পক্ষে ৩১ জন সুপার ডেলিগেট (যাঁরা দলের কর্মকর্তা ও কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রতিনিধি)। মনোনয়ন পেতে দরকার ২,৩৮৩ ডেলিগেটের সমর্থন।

    এই নির্বাচনের ফলে উভয় দলের নির্বাচনী হিসাবে বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হলো। ডেমোক্রেটিক দলে মোট ডেলিগেট হিসেবে হিলারি এখনো এগিয়ে, তবে তিনিই যে এই দলের ‘অনিবার্য’ প্রার্থী, সে কথা আর বলা যাচ্ছে না। এই নিয়ে গত আট নির্বাচনের মধ্যে তিনি পরপর সাতটি অঙ্গরাজ্যে পরাস্ত হলেন। উইসকনসিনে স্যান্ডার্স জিতবেন, একথা জানা ছিল। কিন্তু যে বিশাল ব্যবধানে তিনি জয় পেয়েছেন, তা হিলারি শিবিরে কিছুটা হলেও হৃৎকম্পের সৃষ্টি করেছে। সমর্থনের ‘ঢেউ’ এখন তাঁর পক্ষে, এই দাবি স্যান্ডার্স যুক্তিসংগতভাবেই করতে পারেন। তরুণ ও অপেক্ষাকৃত অধিক শিক্ষিত এমন শ্বেতকায়দের মধ্যে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ২০০৮ সালে বারাক ওবামা যে উদ্দীপনা জাগিয়েছিলেন, তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। চাঁদা সংগ্রহের ব্যাপারেও তিনি হিলারির চেয়ে এগিয়ে, ফলে ডেমোক্রেটিক নেতৃত্ব বার্নির উপস্থিতিতে যত বিরক্তই হোক না কেন, ভারমন্টের এই স্বঘোষিত ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ বাছাই পর্বের নির্বাচনী দৌড়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

    মঙ্গলবার রাত্রে ওয়েওমিং বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার উৎসাহী সমর্থকের উল্লাস-চিৎকারের মধ্যে বার্নি ঘোষণা করেন, ‘আমেরিকার মানুষ যদি উঠে দাঁড়ায় এবং লড়াইয়ে যুক্ত হয়ে ভোট দিতে আসে, তাহলে আমরা অর্জন করতে পারি না, এমন কোনো কিছুই নেই।’

    উইসকনসিনের ফলাফল হিলারিকে আহত করেছে, কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তাঁকে মৃত ভাবার কোনো কারণ নেই। দুই সপ্তাহ পরে আসছে নিউইয়র্ক ও অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে প্রাইমারি। মুখ্যত আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিকদের বিপুল জনসমর্থনে এখানে হিলারি ভালো করবেন, সব জনমত জরিপে সে কথাই দেখা গেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় নৌমহড়ায় আমেরিকা

    মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় নৌমহড়ায় আমেরিকা

    এবিএনএ : আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌমহড়া শুরু করেছে। সোমবার বাহরাইনে শুরু হওয়া এ মহড়ায় বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ অংশ গ্রহণ করছে। বাহরাইনের মার্কিন ৫ম নৌবহরের ঘাটি রয়েছে। খবর আইআরআইবি।

    মার্কিন নৌ বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড আয়োজিত ইন্টারন্যশনাল মাইন কাউন্টারমেজার এক্সারসাইজ বা আএমসিএমইএক্স নামের মহড়া চলতি মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত চলবে বলে কথা রয়েছে।

    মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলসহ জলদস্যু, সন্ত্রাসবাদ এবং মাইন প্রসঙ্গে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাইস অ্যাডমিরাল কেভিন ডোনেগান এ দাবি করেন।

    সুয়েজখাল, বাবুল মান্দাব প্রণালী এবং হরমুজ প্রণালীসহ বিশ্বের সাগর পথের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এ অঞ্চলে অবস্থিত বলে উল্লেখ করেন অ্যাডমিরাল ডোনেগান। তিনি বলেন, ফলে বিশ্বের দেশগুলোর প্রশিক্ষণের চমৎকার সুবিধা মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে।

    মহড়ায় মাইন বিরোধী অভিযান, অবকাঠামো রক্ষা এবং বেসামরিক জাহাজ রক্ষায় নৌ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে। এ ছাড়া, এতে চালকহীন ডুবোযান এবং দ্রুতগামী জাহাজের মতো নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে।

  • আদিবাসী নেতার মৃত্যু

    আদিবাসী নেতার মৃত্যু

    এবিএনএ : যুক্তরাষ্ট্রের আদি অধিবাসী বিষয়ক ইতিহাসবিদ, সাবেক যোদ্ধা ও মন্টানা অঙ্গরাজ্যের ক্রো আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা জোসেফ মেডিসিন ক্রো গত রোববার ১০২ বছর বয়সে মারা গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বীরত্বপূর্ণ কীর্তির জন্য নিজ আদিবাসী গোষ্ঠীর কাছে তিনি ‘প্রধান সর্দার’ খেতাব পান। তাঁর গোষ্ঠীর মধ্যে জোসেফই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ১৯৩৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি তাঁর আদিবাসী গোষ্ঠীর প্রবীণ সদস্যদের মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁদের যাযাবর জীবন-এর ইতিহাস লিখে পরিণত হন ইতিহাসবেত্তায়। ২০০৯ সালে জোসেফ মেডিসিন ক্রো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমে ভূষিত হন।

  • মুম্বাইয়ের পতিতালয়ে বেশি পাচার হচ্ছে বাংলাদেশি নারী

    মুম্বাইয়ের পতিতালয়ে বেশি পাচার হচ্ছে বাংলাদেশি নারী

    এবিএনএ : বাংলাদেশ থেকে ভারতের মুম্বাইয়ের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচার হওয়া নারীদের সংখ্যা ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি দাতব্য সংস্থা বলছে, পুলিশ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, এসব নারীকে উদ্ধার এবং প্রত্যাবাসন করতে অনেক কিছু করা প্রয়োজন। শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মানবপাচার ও যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি অলাভজনক সংস্থা প্রেরানা বলছে, রেড লাইট জেলা কামাথিপুরায় বাংলা ভাষী যৌনকর্মীদের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেরও অনেক যৌনকর্মী রয়েছেন।

    প্রেরানার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রীতি পাটকর বলেন, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী ও যৌনকর্মীদের পাচারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বিশেষভাবে পাচারের বুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, একটি চাকুরি অথবা ভালো জীবনের প্রলোভনে পড়ে তারা খুব সহজেই পাচার হচ্ছে।

    প্রীতি পাটকর আরো বলেন, কামাথিপুরায় প্রেরানার নাইট কেয়ার সেন্টারে ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে যৌনকর্মীদের ২১৩ সন্তান নিবন্ধন করে। এদের মধ্যে ১২৮ জনই বাংলাভাষী মায়ের সন্তান। এছাড়া উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধপ্রদেশসহ অন্যান্য এলাকায়ও এদের সংখ্যা সমপরিমাণে বাড়ছে।

    ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্তত ৩০ লাখ মানুষ রয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ অবৈধভাবে ভারতে পৌঁছায়। ভাল চাকরি ও সুন্দর জীবনের প্রলোভনে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব নারীরা অনেক সময় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাচারকারী অথবা অ্যাজেন্টের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন পতিতালয়ে গিয়ে ঠাঁই পাচ্ছে।

    জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা ইউএনওডিসি বলছে, বিশ্বে মানব পাচারের জন্য দক্ষিণ এশিয়া দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চল থেকে প্রতি বছর অন্তত দেড় লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যায়। পাচারকারীদের সঙ্গে আড়ালে লেনদেন হওয়ায় এর পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। তবে এশিয়ার মধ্যে এ পাচারের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রেরানার সহ-প্রতিষ্ঠাতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে মুম্বাইয়ে পাচার হয়ে যাওয়া নারীরা তাদের অধিকার নিয়ে আইনী সহায়তার বিষয়ে কিছুই জানে না। এছাড়া অনেক সময় তারা ভীত থাকে। পতিতালয় থেকে উদ্ধার হওয়ার পর তারা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতেও অনিচ্ছুক।

    পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নিশ্চিত ও এ বিষয়ে দুই দেশের তথ্যের আদান-প্রদানে যোগাযোগ বৃদ্ধির করতে গত বছর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তির পর ভারতের পাচার হয়ে যাওয়া অনেক নারীকে পতিতালয় থেকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন করা হয়েছে।