মাদকাসক্তির ছায়ায় ম্যারাডোনা:বোকার সাবেক সভাপতির বিস্ফোরক স্মৃতিচারণায় নড়েচড়ে বসেছে ফুটবল মহল

এবিএনএ: আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা-র ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনে বড় ভূমিকা রেখেছিল শৈশবের ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। দুই দফায় প্রায় সাত বছর ক্লাবটিতে কাটালেও দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর সময়টা ছিল বিতর্ক আর ব্যক্তিগত সংগ্রামে ঘেরা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে ক্লাবটির সাবেক সভাপতি মাউরিসিও ম্যাক্রি ম্যারাডোনাকে নিয়ে এমন কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা ফুটবল মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।

ম্যাক্রির ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় বোকায় ফেরার পর ম্যারাডোনার ফিটনেস ও মনোসংযোগে বড় ধস নেমেছিল। এক মৌসুমে টানা একাধিক পেনাল্টি মিস করার ঘটনাকে তিনি সেই সময়কার মানসিক ও শারীরিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবে দেখেছেন। তাঁর দাবি, আসক্তির সমস্যার কারণে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচের প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা ছিল না।

ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ম্যাক্রি তাতে সায় দেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে দল পরিচালনার মতো স্থিতিশীলতা তখন ম্যারাডোনার মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ক্লাব পরিচালনায় ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়—এই নীতিতে অনড় থাকতেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল।

পরে কোচ কার্লোস বিয়াঞ্চি দায়িত্ব নেওয়ার পর বোকা জুনিয়র্স সাফল্যের ধারায় ফেরে—লিগ শিরোপা ও আন্তর্জাতিক ট্রফিতে ক্লাবের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। ম্যাক্রির মতে, সাফল্যের পেছনে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাই ছিল মূল চাবিকাঠি।

দলের সাবেক অধিনায়ক হুয়ান রোমান রিকেলমে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফুটবলে একা কেউ জেতে না—দল, কোচিং স্টাফ ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয়েই সাফল্য আসে। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্রির সতর্কবার্তা ছিল স্পষ্ট—যে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করে, সেখান থেকেই পতনের বীজ রোপণ হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *