Day: May 5, 2020

  • সরকারকে জীবনের পাশাপাশি জীবিকাকেও দেখতে হচ্ছে : কাদের

    সরকারকে জীবনের পাশাপাশি জীবিকাকেও দেখতে হচ্ছে : কাদের

    এবিএনএ : সরকারি ছুটির মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান চালু রাখার কারণ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারকে আজ জনগণের জীবনের পাশাপাশি জীবিকাকেও দেখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষকে বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাকাকেও সচল করে রাখতে হবে। তাই সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করেছে।

    মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপির জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২১০টি দেশে বিস্তার ঘটেছে। আমাদের প্রতিবেশীসহ পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি। এ সংকটে প্রয়োজন চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে সমন্বয় গড়ে তোলা। চিকিৎসাবিষয়ক দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞদের নিয়ে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনকে নিয়ে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করা।’

    তিনি বলেন, করোনার অভিন্ন টার্গেট দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলেই। টাস্কফোর্স বিভিন্ন দেশে হয়েছে হচ্ছে তবে সেটা ভ্যাকসিন রিলেটেড কিংবা চিকিৎসাবিষয়ক। রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য তথা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক দলের মধ্যে করোনাবিষয়ক অহেতুক প্রয়োজনীয়তা কী?

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এখন প্রয়োজন জনগণের পাশে দাঁড়ানো, নিজেরা সচেতন হওয়া, অন্যকে সচেতন করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই করোনা সংকটকালেও সরকারের কথায় কথায় ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে বিষোদগার করছেন। অথচ তারা কখনো জনগণের রাজনীতি করেননি। দুর্যোগের সময়ও তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেননি বরং সরকারের সাফল্যকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন রাখতে চাই-এই দুর্যোগের সময় তারা কথামালার চাতুরি ছাড়া জনগণকে করোনা মোকাবিলায় কিছুই কী দিতে পেরেছেন? পার্শ্ববর্তী দেশে দেখুন কংগ্রেস তহবিল গঠন করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

  • করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন নতুন শনাক্তের রেকর্ড

    করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন নতুন শনাক্তের রেকর্ড

    এবিএনএ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরো একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুবরণ করা ওই ব্যক্তি একজন পুরুষ এবং তার বয়স ২১ থেকে ৩০ এর মধ্যে। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮৩ জনে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালিস্থ স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

    গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বেই তাণ্ডব চালাচ্ছে। মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৬ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই লাখ। তবে ১২ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

    প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে চলছে ছুটি। বন্ধ বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদের আগে শর্তসাপেক্ষে শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে।

  • চীনের ল্যাবে ভাইরাস তৈরির প্রমাণ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    চীনের ল্যাবে ভাইরাস তৈরির প্রমাণ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    এবিএনএ : চীনের উহানের একটি ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস তৈরি হয়েছে- ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এমন ‘অনুমাননির্ভর’ কথা বলে বেড়ালেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ নাকচ করে আসছে চীনও।

    দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং উহানের ল্যাবে করোনাভাইরাস তৈরির তত্ত্ব নিয়ে কথা বলছেন। যদিও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গত বছরের শেষ দিকে উহানের একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে কোনো পশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে ভাইরাসটি। গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ভাইরাসটি যে উহানের ল্যাবেই তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে ‘প্রচুর প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ ‘প্রমাণের’ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছুই বলেনি।

    এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো ‘প্রমাণ’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছেও পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এমারজেন্সি ডাইরেক্টর ডা. মাইকেল রায়ান। তিনি বলেন, ‘ভাইরাসের উৎসের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাইনি। এ কারণেই আমরা মনে করছি, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুমাননির্ভর’।

    যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলো। সোমবার সিসিটিভির এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান পম্পেও (যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ এবং মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে’। দ্য গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তেমনটাই মনে করে তাহলে তাদের কাছে যে প্রমাণ আছে তা বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করে দিক।

    বেশ কিছু গোয়েন্দা সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, নতুন করোনাভাইরাসটি যে চীনের ল্যাবে তৈরি বা ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে তার কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও ব্রিটেনের গোয়েন্দাদের জোট ‘ফাইভ আইস’ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রম্প প্রশাসনের ল্যাব তত্ত্ব শুধু কিছু সংবাদ মাধ্যমেই এসেছে। বাস্তবে এর প্রমাণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফুচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্যের সঙ্গে একমত। তিনি বলেছেন, ভাইরাসের প্রকৃতি দেখে মনে হয় না যে, এতে ইচ্ছকৃত বা কৃত্রিমভাবে কোনো হেরফের করা হয়েছে।

  • সৌদিতে হিজরতের চেষ্টা কাকরাইল থেকে ১৭ জেএমবি গ্রেফতার

    সৌদিতে হিজরতের চেষ্টা কাকরাইল থেকে ১৭ জেএমবি গ্রেফতার

    এবিএনএ : তাবলীগের নামে সৌদি আরব গিয়ে ইমাম মাহদী সাথে সাক্ষাতের আশায় একমাস পূর্বে কথিত ‘হিজরত’ করা জেএমবির ১৭ অনুসারীকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের এডিসি তহিদুল ইসলাম জানান, ৪ মে সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় কাকরাইল মসজিদ এর বিপরীত পাশে পাবলিক হেলথ্ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের নিকট হতে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন ফোন, ২ লক্ষ ৩৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা ও ৯২২ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করেছেন।

    তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান নামে একজন বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ইমাম মাহদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেফতারকৃতরা তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করে ইমাম মাহদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন।

    এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. হায়দার আলী (৪৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মোঃ জামিরুল ইসলাম (২৪), মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮), মোঃ শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মোঃ ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), মোঃ মোজাম্মেল হক (৩৩), মোঃ শাহজালাল(৩৪), মোঃ আক্তারুজ্জামান (৩০), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মোঃ আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মোঃ সোহাইল সরদার (৩৩), মোঃ ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মোঃ মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মোঃ সোহাগ হাসান (২০)।

    গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা পলাতক রবিউল সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন। তাবলীগ-জামায়াতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাদেরকে বলা হয়েছিলো করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে একধরনের গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াছন্ন হয়ে যাবে তখন সীমান্তে কোন পাহারা থাকবেনা। এই সময় তারা যেন চলে আসেন। এই বিশ্বাস নিয়ে গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। তাদেরকে আরো জানানো হয়েছিলো আগামী চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, কাফিররা সবাই মারা যাবে, ইমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে। ইমাম মাহদীর আগমন এই রমজানে সমাগত তাই তারা যেভাবে পারে সেভাবে যেন আসার চেষ্টা করে। তারা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসেন।

    এডিসি তোহিদ বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সাথে যোগাযোগ করে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে গমন করে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ইমাম মাহদীর সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব হিজরত করেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা জানান। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • করোনা পজেটিভ হলে ঘরে যেভাবে চিকিৎসা করবেন

    করোনা পজেটিভ হলে ঘরে যেভাবে চিকিৎসা করবেন

    বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। দেশেও এর সংক্রমণ বাড়ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব করোনা রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই। তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় রোগীকে ঘরে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কী হবে সেই চিকিৎসা পদ্ধতি? করোনা পজেটিভ রোগীর ঘরোয়া চিকিৎসা বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের কনসালট্যান্ট ডা. রাজীব কুমার সাহা।

    তিনি বলেন, ‘অনেকের ধারণা করোনা পজেটিভ হলেই মনে করেন, তিনি আর বাঁচবেন না। আমি প্রথমেই বলতে চাই- করোনা মানেই জীবনঘাতী কোনো রোগ নয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীর সমস্যা জটিল নয়। অন্যসব সাধারণ ঠান্ডা, কাশি, জ্বরের মতো তাদেরও বাসায় চিকিৎসা করা সম্ভব। অবশ্য এক্ষেত্রে তাদের বাসায় কিছু পরিবর্তন এবং কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।’

    পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের রোগীরও করোনার চিকিৎসা বাসায় থেকে হচ্ছে। এটি খুব স্বাভাবিক। বিষয়টিকে ‘হোম আইসোলেশন’ পদ্ধতি উল্লেখ করে ডা. রাজীব কুমার সাহা করোনা পজেটিভ রোগীর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরামর্শ দেন:

    * বাসায় রোগীর জন্য অবশ্যই আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    * আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে।

    * রোগীর জামা-কাপড়, ব্যবহারের জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।

    * রোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে চার সপ্তাহ আলাদা থাকবেন। তবে একই পরিবারের সবাই কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে তারা একসঙ্গে থাকতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পরিবারের কেউ বাইরে যেতে পারবেন না অথবা বাইরে থেকে কেউ বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

    * বাসায় রোগী এবং অন্যান্য সবার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

    * হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

    * রোগীকে বাসায় পর্যাপ্ত পরিমাণে (দিনে দুই থেকে তিন লিটারের মতো) পানি খেতে হবে।

    * গরম পানি দিয়ে দিনে ২-৩ বার গার্গেল করতে হবে। তবে গরম পানি পানের প্রয়োজন নেই।

    * সব ধরনের স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে। তবে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। লেবু, কমলা, মাল্টা বেশি খেতে পারেন।

    * বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। এতে রোগ সংক্রমণ আশঙ্কা কমানো সম্ভব।

    * বাসার মেঝে জীবাণুমুক্ত করতে বারবার অ্যান্টিসেপ্টিক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

    করোনায় আক্রান্ত রোগী কী ধরনের ওষুধ গ্রহণ করবেন। এ প্রসঙ্গে ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। তিনিই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। তবে-

    * সাধারণভাবে জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথার জন্য রোগী তিন বেলা প্যারাসিটামল খাবেন। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে।

    * ঠান্ডা, শুকনো কাশির জন্য এন্টি হিস্টামিন যেমন ফেক্সোফেনাডিন, লরাটিডিন, রুপাটিডিন ইত্যাদি খাওয়া যাবে।

    * বাসায় নেবুলাইজার দিয়ে গ্যাস দেওয়া যাবে না।

    * অন্যান্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে পারবেন। যেমন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।

    * ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ আগে থেকে যারা খাচ্ছেন তারা সেগুলো চালিয়ে যাবেন।

    মনে রাখতে হবে, রোগী মানসিকভাবে সুস্থ থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন। তাছাড়া যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। কী কারণে হাসপাতালে যেতে হতে পারে এ প্রসঙ্গে ডা. রাজীব কুমার সাহা বলেন, যাদের বাসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ আলাদা কক্ষ নেই, দেখাশোনা করার লোক নেই বা পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনেক। এছাড়া-

    * রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে।

    * রোগীর যদি কাশি বা জ্বর অনেক বেড়ে যায়।

    * রোগী যদি অতিরিক্ত দুর্বল অথবা অজ্ঞান হয়ে যায়।

    * যাদের অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যানসারসহ জটিল রোগ আছে।

    সবশেষে এই মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, এ সময় সব ধরনের গুজব এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার এড়িয়ে চলতে হবে। সারাদিন করোনা নিয়ে চিন্তায় পড়ে থাকবেন না। নিজ ধর্ম চর্চার প্রতিও তিনি এ সময় মনোযোগী হতে বলেছেন। তবে অবশ্যই তা সম্মিলীতভাবে নয়।

  • লকডাউন শিথিলের পর ভারতে মৃত্যু এবং আক্রান্তের রেকর্ড

    লকডাউন শিথিলের পর ভারতে মৃত্যু এবং আক্রান্তের রেকর্ড

    এবিএনএ : ভারতে লকডাউন শিথিলের পর গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯৫ জন মারা গেছেন করোনায়। এছাড়া প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে সোমবার; দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন রেকর্ড ৩ হাজার ৯০০ জন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, করোনাভাইরাসে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে ভারতে। করোনায় আক্রান্ত ১৯৫ জন রোগী গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন; এ নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৮ জনে। নতুন ৩ হাজার ৯০০ জনকে নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪৬ হাজার ৪৩৩।

    মঙ্গলবার সকালের দিকে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮২ হাজার ৭৯২ জনের। তাদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৩৩। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১২ হাজার ৭২৭ জন। সুস্থ হওয়ার হার ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ ভারতে প্রথম দফায় লকডাউন জারি করা হয়। এই লকডাউনের মেয়াদ এখন পর্যন্ত দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লকডাউনের বিধি-নিষেধ শিথিলের পাশাপাশি গ্রিন জোন এলাকার অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বেশ কিছু নতুন শর্তজুড়ে দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়া হয়। দেশটিতে রোববারও করোনায় মারা গেছেন অন্তত ৮৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৫৭৩ জন।

    দীর্ঘ সময়ের লকডাউনের কারণে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় দেশটির ১৪ কোটি অভিবাসী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৩০ কোটি মানুষের এই দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের বিকল্প নেই। লকডাউন কার্যকর না থাকলে করোনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে; যা ইতোমধ্যে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি ভয়াবহ চাপ তৈরি করেছে।