চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন: বিএনপি নেতা শেখ আল মামুনের দাবি
বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে অপপ্রচারের শিকার: বিএনপি নেতা শেখ আল মামুন


বাজার কমিটির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ
এবিএনএ: স্থানীয় বাজার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি নেতা শেখ আল মামুনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একটি পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ মীমাংসার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি এই অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বলে জানান।
শেখ আল মামুন বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনার জের ধরে গত কয়েকদিন একটি মহল আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমি চাঁদাবাজির জন্য অপু স্বর্ণকারকে মারধর করেছি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
অভিযোগের পেছনের ঘটনা
মামুন জানান, অপু স্বর্ণকারের ছোট ভাই সঞ্জয় স্বর্ণকারের স্ত্রী বাজার কমিটির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সঞ্জয় স্বর্ণকার বিয়ের পর তার স্ত্রীকে এলাকায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন।
বিষয়টি বাজার কমিটির পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করা হলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিকানা সঞ্জয় স্বর্ণকারের নামেই রয়েছে এবং দোকানের ডিড ডকুমেন্টও তার সঙ্গেই সম্পৃক্ত।
বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত
পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজার কমিটির পক্ষ থেকে ভাড়াটিয়াদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, সঞ্জয় স্বর্ণকার ফিরে না আসা পর্যন্ত দোকানের ভাড়া তার স্ত্রীকে প্রদান করতে হবে। এটি ছিল বাজার কমিটির একটি সাময়িক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
মামুন বলেন, “আমরা শুধু ডিড ডকুমেন্ট অনুযায়ী ন্যায্য সিদ্ধান্ত দিয়েছি। সঞ্জয় অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবারের সদস্য হিসেবে তার স্ত্রীকে ভাড়া দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অপপ্রচারের অভিযোগ
শেখ আল মামুনের অভিযোগ, বাজার কমিটির এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার শুরু করে।
তিনি বলেন, “একদিন বাজারে এসে তিনি আমার অফিসে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় সামান্য বাকবিতণ্ডা হলেও কোনো ধরনের মারধর বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।”
‘চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই’
শেখ আল মামুন আরও বলেন,
“আমি কখনোই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। বাজার কমিটির দায়িত্ব পালন করে একটি ন্যায্য সিদ্ধান্ত দেওয়ার কারণেই আমাকে লক্ষ্য করে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতামত
স্থানীয় কয়েকজনের মতে, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া সিদ্ধান্তটি ছিল পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান
এ বিষয়ে শেখ আল মামুন সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।




