বাংলাদেশ

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বাগেরহাটে দোকানে তালা, থানায় অভিযোগ

এবিএনএ: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নিয়ে রুপশ্রী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী অপু কর্মকার (৫২) নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও বাজার কমিটির সহ-সম্পাদক মামুন শেখের বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, ভুক্তভোগী অপু কর্মকারের স্বর্ণের দোকানে বাজার কমিটির সিল সম্বলিত তালাও লাগিয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত ওই নেতা। এ বিষয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

অভিযোগকারী অপু কর্মকার জানান, সাইনবোর্ড বাজারে প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি স্বর্ণের ব্যবসা করছেন। বাজারে তার মালিকানাধীন আরও তিনটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে থেকেই মামুন শেখ ওই ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া চাইতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একবার মীমাংসা হলেও, সম্প্রতি মামুন আবারও নতুন করে ভাড়া দাবি করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অপু কর্মকার বলেন, “ভাড়া দিতে নিষেধ করায় মামুন লোক পাঠিয়ে আমাকে বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নেয়। ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেনের কাছে কেন নালিশ করেছি—এই অজুহাতে আমাকে মারপিট শুরু করে। মামুন মারতে মারতে আমাকে নিয়ে দোকানের সামনে আসে এবং দোকানে ঢুকেও আমাকে আবার মারে। শেষে আমার দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।”

“আমার স্বামী একজন নিরীহ ব্যবসায়ী। গায়ের জোরে তার দোকান থেকে ভাড়া তুলে নিতে চায়। ভাড়া দিতে নিষেধ করায় তাকে মারধর করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”— অর্পিতা কর্মকার, ভুক্তভোগীর স্ত্রী

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা ও বাজার কমিটির সহ-সম্পাদক মামুন শেখ। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, অপু কর্মকারের ছোট ভাই সঞ্জয় স্বর্ণকার স্ত্রীকে ফেলে পালিয়ে গেছেন। সঞ্জয়ের স্ত্রী বাজার কমিটিতে অভিযোগ দিলে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিষয়টি দেখভাল করছিলেন।

মামুন শেখ বলেন, “দোকানের ডিড বা মালিকানা দলিল সঞ্জয়ের নামে। তাই আমি রায় দিয়েছি যে সঞ্জয়ের অবর্তমানে ভাড়ার টাকা তার স্ত্রী পাবেন। এটা বলার পরেই অপু কর্মকার আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাকে মারপিট করা হয়নি, কথা বলার সময় হয়তো দু-একটি ধাক্কা লেগেছে।”

***

এদিকে অভিযুক্ত নিজ দলের নেতা হলেও তার কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাজার কমিটির সভাপতি ও রাড়িপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার রেজাউল হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মামুন শেখ একজন ব্যবসায়ীকে এভাবে মারধর ও দোকানে তালা দিতে পারে না। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। এ বিষয়ে আমরা জরুরি সভা আহ্বান করেছি এবং সেখানে আলোচনা সাপেক্ষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেক্ষাপট

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ১১ মাসে সারা দেশে প্রায় ৫,০০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বাগেরহাটের এই ঘটনাটিও দলের ভাবমূর্তির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button