
বাগেরহাট প্রতিনিধি: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া দেশের সমৃদ্ধির পথে সহায়ক নয়। বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রোববার বাগেরহাট জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুরুতেই পুলিশিং প্রাঙ্গণে একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মাদ বাতেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ, পুলিশের প্রতি আস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমেই নিরাপদ ও সুশাসিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মাদ বাতেন, বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আবু সাইদ (শুনু) অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা পুলিশিং কমিটির আহ্বায়ক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, এস এম আবদুল্লাহ ও মো. ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। অপরাধের তথ্য গোপন না করে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তাঁরা সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তৃণমূল ও মাঠপর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সমাবেশ শেষে আইজিপি ও উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তাঁরা।



