রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় অগ্রগতি, প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইউনিটটির বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পরবর্তী ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু করা যাবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।
পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা, অপেক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ের ফিজিক্স টেস্টও শেষ হয়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির অনুমোদন পাওয়ার পর ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে। এরপর শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে প্রতিটি পর্যায়ে নির্ধারিত পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।
রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফর করেছে রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সফরকালে প্রতিনিধিদল প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেয়।
রাশিয়ার দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে আসে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। সেখানে প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়সহ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই পক্ষের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
ধাপে ধাপে বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে।
তবে এ সময়সূচি চূড়ান্ত নয়। পরীক্ষার পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপরই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহের সময় নির্ভর করবে।
সার্বিকভাবে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ হলেও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।




