জেলার খবর

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে উত্তাল আশুলিয়া, চার কারখানায় কর্মবিরতি অব্যাহত

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। শ্রমিক অসস্তোষ, কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে চলছে পুলিশের মাইকিং।

গতকাল শনিবার শুরু হওয়া আন্দোলন গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত ছিল। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও অন্তত চারটি কারখানায় কর্মবিরতি পালনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নরসিংহপুর এলাকার নিউ এইজ ও আল মুসলিম কারখানার শ্রমিকরা পরে কাজে ফিরেছেন। তবে ট্রাউজার লাইনসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি ও উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও কোথাও কোথাও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার নাঈম নীটওয়্যার কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটের আঘাতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হন। সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় শনিবার নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও কাঠগড়াসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৬টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তবে রবিবার সকালে এসব কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

এদিকে রবিবার সকালে নরসিংহপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর কর্মবিরতি শুরু করেন। শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হলেও তাতে আন্দোলনকারীদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা যায়নি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনের মধ্যে নতুন করে সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকায় সুমিত্রা কারখানার পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।

অন্যদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়ক ও কারখানার সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অটোরিকশা ও পুলিশের গাড়িতে মাইক লাগিয়ে শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং কোনো কারখানায় হামলা, ভাঙচুর না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে শ্রমিকদের আশ্বন্ত করা হচ্ছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। এতে মালিকপক্ষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্প পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button