আশুলিয়ায় ফুটপাত উচ্ছেদে বাধা, আনসার-হকার সংঘর্ষে আহত ১০

সাভার প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের একটি লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন হকাররা। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডিইপিজেড এলাকায় ফুটপাত ও মহাসড়কের পাশে বসা হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় হকাররা উচ্ছেদে বাধা দিয়ে একপর্যায়ে চন্দ্রাগামী লেন দখল করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
হকারদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ হকারদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আনসার সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাঁদের সরিয়ে দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনার সময় হকাররা বাধা দেন। পরে তাঁরা চন্দ্রাগামী লেন অবরোধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হকারদের অভিযোগ
অন্যদিকে আন্দোলনরত হকারদের অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে আনসার সদস্যরা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে হকারদের উচ্ছেদের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সড়কের পাশে দোকান বসালে আনসার সদস্যরা টাকা দাবি করেন এবং টাকা দিতে না পারলে দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ফুটপাতে ছোট ব্যবসা করে অনেকের সংসার চলে। কয়েক দিন ধরে তাঁদের সেখানে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁরা প্রতিবাদে নেমেছেন।
হকাররা তাঁদের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
যান চলাচল স্বাভাবিক
সংঘর্ষের পর পুলিশ ও আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মহাসড়ক থেকে হকারদের সরিয়ে দেন। পরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। তবে সংঘর্ষের পর ডিইপিজেড এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
হকারদের চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সংঘর্ষের অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




