জাতীয়

গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ নয়, সাইবার আইন প্রয়োগে সতর্ক সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে যেতে চায় না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন ও গণমাধ্যমের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত নয়

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য ইতিবাচক পথ নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে কাজ করছে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যতেও জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এখনো চূড়ান্ত হয়নি সাইবার সুরক্ষা আইন

আলোচনায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আইনটি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন একটি আইনি কাঠামো প্রয়োজন, যা একদিকে মানুষের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট অধিকারগুলোও বিবেচনায় রাখবে।

অপতথ্য ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন

অনলাইনে ডিসইনফরমেশন বা অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গুজব ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে গুজব ও অপতথ্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বা অস্থিরতা তৈরির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শাস্তির বিধান নিয়েও তিনি তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।

আইন প্রয়োগে সমতার ওপর গুরুত্ব

জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ গুজব, মিথ্যাচার বা অপতথ্য ছড়ালে তার রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনা না করে একই আইনি কাঠামোর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অর্থাৎ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষ-বিপক্ষের ভিত্তিতে ভিন্ন আচরণ না করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বলেন।

চূড়ান্ত আইনের আগে মতামতের সুযোগ

আলোচনায় অংশ নেওয়া গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত ও প্রস্তাব বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আইনটির চূড়ান্ত রূপ যা-ই হোক, বাস্তবে প্রয়োগের সময় সরকার দায়িত্বশীল ও সতর্ক অবস্থান নেবে।

গণমাধ্যম ও সাইবার নিরাপত্তা—দুই দিকেই নজর

আলোচনায় মূলত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন, অনলাইন অপতথ্য এবং আইন প্রয়োগের ধরন নিয়ে বিষয়গুলো উঠে আসে। সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে আইনটি আরও পর্যালোচনা করার সুযোগ রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button