আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী কেন? সময় এলে কারণ বুঝবে ইরান: কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

নীতিতে পরিবর্তন না আনলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—ইরানকে বার্তা মার্কিন দূত মাইক হুকাবির

এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও রণতরী মোতায়েনের পেছনের কারণ সময় হলেই ইরান জানতে পারবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি। ইরান যদি বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন না আনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও স্পষ্ট করে জানান তিনি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুকাবি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুমকি দেন, তা বাস্তবায়ন করতেই পরিচিত। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের ঘোষণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহর। এতে আধুনিক যুদ্ধবিমান, রণতরী ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানকে লক্ষ্য করে এত বড় সামরিক প্রস্তুতির কারণ জানতে চাইলে মাইক হুকাবি বলেন, “যখন জানার উপযুক্ত সময় আসবে, তখন ইরান নিজেই বুঝে নেবে কেন এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার আগেও ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার এমন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

হুকাবির ভাষায়, “গত গ্রীষ্মে ইরান কার্যত দেখেছে, ট্রাম্প যা বলেন—তা তিনি করে দেখান।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে ইউরেনিয়াম মজুদ বা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

এদিকে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়। সে সময় ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে যুদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছালেও পরে ট্রাম্প জানান, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ায় আপাতত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

মাইক হুকাবি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরান যদি আবার বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসির আদেশ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button