বাগেরহাটে কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা
বেমরতা ইউনিয়নের খারাসম্বল গ্রামের ঘটনায় উদ্বেগ; দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি

বাগেরহাটে কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ
দুর্গোৎসবের আগে ঘটনায় উদ্বেগ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের খারাসম্বল গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার একটি কালী মন্দিরে মা কালীর প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মন্দিরটি পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে খারাসম্বল গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত কালী মন্দিরে থাকা মা কালীর প্রতিমা ভাঙচুর করা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তবে প্রাথমিকভাবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্গোৎসবের আগে উদ্বেগ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সামনে রেখে কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মন্দির ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিবাদ
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাগেরহাট জেলা শাখা।
সংগঠনটির আহ্বায়ক প্রদীপ বসু সন্তূ এবং সদস্য সচিব শিমুল চন্দ্র রায় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, খারাসম্বল গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার কালী মন্দিরে মা কালীর প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন দুর্গোৎসবসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবগুলো নির্বিঘ্নে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা না হলে প্রয়োজনবোধে সনাতন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ধর্মীয় উৎসব বন্ধ বা স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রশাসনের তৎপরতা
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কর্মকর্তারা মন্দির এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান
ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুরের মতো ঘটনা স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় যাতে কোনো ধরনের গুজব, উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।




