রাজনীতি

বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এনসিপি নেতা বলেন— বিএনপি ঐকমত্য কমিশনে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে দেশের তরুণ সমাজ ও জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে

এবিএনএ:  ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষায়, “বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেটি আসলে ‘নোট অব চিটিং’। এর মাধ্যমে তারা ১৮ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তরুণ সমাজ তাদের সেই অপচেষ্টা বুঝে ফেলেছে।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি এখন দেশের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ঐক্যের পথে হাঁটছিল, বিএনপি সেই পথ থেকে সবাইকে সরাতে চাইছে। দেশের মানুষ এখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছে— যেন তিনি দ্রুত জুলাই সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে শুরু করে পিএসসি পর্যন্ত সব জায়গায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিচ্ছে। “ওরা চায় ভাইয়াগিরি চলুক, ছোট ভাইয়েরা যেন চাকরি পায় দলের কলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ পিএসসি গঠনের—এটাই ছাত্র সমাজের দাবি,” বলেন তিনি।

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ভেটো দিয়েছে, অথচ একসময় তারাই এই ব্যবস্থার দাবিদার ছিল। দেশের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিতেই যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা তারা ভুলে গেছে।”

তিনি বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি খোলাখুলি সংস্কারের বিরোধিতা করে, আর জামায়াত ভণ্ডামি করে সংস্কারের পক্ষে কথা বলে কিন্তু আসলে বিপক্ষে অবস্থান নেয়।” তাঁর দাবি, “জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর চাচ্ছে নিজেদের আসন বাড়ানোর কৌশল হিসেবে।”

নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা শাপলা প্রতীক চাই এবং সেটিতেই নির্বাচন করবো। শাপলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “কমিশন যদি অবৈধভাবে তালিকা তৈরি করে, তবে আমরা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button