গভীর রাতে নারীর ঘরে এএসআই: গণপিটুনি, উঠল পরকীয়ার অভিযোগ
ফরিদপুরের সালথায় রাত ৩টায় নারী ঘরে ঢুকে ধরা পুলিশের এএসআই; দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি, তদন্তে পুলিশ


এবিএনএ: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে এক নারীর ঘরে ঢুকে স্থানীয়দের হাতে আটক ও মারধরের শিকার হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই ইমরান ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। পুলিশ সদস্যের বক্তব্য—তিনি আসামি ধরতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিযোগ—এটি পরকীয়ার ঘটনা।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরান সাদা পোশাকে রয়েছেন। তাঁর মাথায় কাপড় বাঁধা এবং মুখে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন তাকে ঘিরে প্রশ্ন করছেন এবং মারধর করছেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি দাবি করেন, তার পকেট থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয় সূত্র জানায়, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলার সূত্রে এএসআই ইমরানের যাতায়াত ছিল মেহেদীর বাড়িতে। পরে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়।
শুক্রবার গভীর রাতে মেহেদী হাসানের বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এএসআইয়ের বক্তব্য
এএসআই ইমরান দাবি করেন, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে গভীর রাতে সাদা পোশাকে একা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
আসামির পরিবারের অভিযোগ
মেহেদী হাসান বলেন, তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হলেও প্রায়ই বাইরে থাকেন। সেই সুযোগে এএসআই ইমরান তার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গভীর রাতে ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশের বক্তব্য
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে পরিবারের লোকজন ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করে মারধর করেছে। তবে কেন তিনি গভীর রাতে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।




