

এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ জনগণের স্বার্থে, কোনো দলের নয়—এ কথা জোর দিয়ে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হলো একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
শনিবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আয়োজিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ কারও দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন নয়। বিএনপি সবসময় ভিন্ন মতকে শ্রদ্ধা করে, আর মতভেদের জায়গায় আমরা রাখি ‘নোট অফ ডিসেন্ট’। এটাই আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় যেন কেউ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই এই স্বাধীন বাংলাদেশের সমান নাগরিক। বিএনপির কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থই সবার আগে।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “ফ্যাসিবাদের সময়ে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা করা হয়েছিল, শত শত কর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছিলেন। কারণ দেশে তখন আইনের শাসন ছিল না।”
তারেক রহমান বলেন, “ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু—কোনো নাগরিকই নিরাপদ নয়। ন্যায়বিচারই পারে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রামু বৌদ্ধ বিহার বা নাসিরনগর হামলার মতো ঘটনাগুলোর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। বিএনপি সবসময় নাগরিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে বলেন, “দেশ অস্থিতিশীল হলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “গুপ্ত কৌশলে অপশক্তি যাতে দেশকে অস্থিতিশীল না করতে পারে, তার জন্য জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা জরুরি। বিএনপি সহযোগিতা ও সমঝোতার রাজনীতি বজায় রাখবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় এলে বিএনপি প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের ফার্মাস কার্ড, এবং বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জন্য থাকবে সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবু সোমনাথ দে, উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা।



