বাংলাদেশ

৪৫ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর গভীর নলকূপ থেকে জীবিত উঠল দুই বছরের সাজিদ

রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত নলকূপে পড়ে যাওয়া শিশুকে ফায়ার সার্ভিসের ব্যাপক উদ্ধার অভিযানে জীবিত উদ্ধার

এবিএনএ: রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় ৪৫ ঘণ্টা ধরে টানা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার করা হয় তাকে। শিশুটিকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা?

স্থানীয়রা জানান, কোয়েলহাট গ্রামের মাঠের পাশ দিয়ে মায়ের সঙ্গে হাঁটছিল সাজিদ। অসাবধানতাবশত সে হঠাৎ একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। সন্তানের আর্তনাদ শুনে মা রুনা খাতুন চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সফল না হওয়ায় তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

রাতভর অভিযান—৩৫ ফুট গর্ত, ক্যামেরা তল্লাশি, তবুও পাওয়া যায়নি

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে অত্যাধুনিক চার্জ ভিশন ক্যামেরা দিয়ে প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত খোঁজ চালায়। প্রথমে শিশুর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। পরে এস্কেভেটর দিয়ে পাশে আরও একটি ৩৫ ফুট গভীর গর্ত খনন করা হয়। সুড়ঙ্গ খুঁড়েও মিলছিল না সাজিদের অবস্থান।

পরিত্যক্ত নলকূপের ভেতরে দ্বিতীয়বার ক্যামেরা নামানো হলে দেখা যায় ভেতরটা মাটিতে ঠাসা। ফলে নতুন করে খনন অভিযান শুরু হয় এবং দীর্ঘ পরিশ্রমের পর উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় তুলে আনেন।

কেন খুলে গিয়েছিল নলকূপের মুখ?

স্থানীয়রা জানান, বছরখানেক আগে সেচের জন্য নলকূপ বসানো হলেও পানি না ওঠায় মালিক সেটি মাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মাটি ধসে গিয়ে গর্তটি আবার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, যা সাজিদের দুর্ঘটনার কারণ হয়।

মায়ের চোখে ঘটনার বর্ণনা

রুনা খাতুন বলেন,
“বুধবার দুপুরে সাজিদের হাত ধরে মাঠে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ‘মা’ বলে ডাক শুনে ফিরে দেখি—সাজিদ গর্তে পড়ে গেছে। ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছিল।”

ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও শত শত মানুষের সহযোগিতায় সাজিদকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটি পুরো এলাকায় স্বস্তির সাড়া ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button