ফিচারবাংলাদেশ

বাগেরহাটের চিত্রাপাড়ের গোলফলে খুলছে আয়ের নতুন দুয়ার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীর দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সবুজ বনাঞ্চল এখন স্থানীয় মানুষের কাছে সম্ভাবনার নতুন বার্তা দিচ্ছে। সুন্দরবনের আদলে গড়ে ওঠা এ ‘মিনি সুন্দরবন’-এ থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মধ্যে গোলগাছের আধিক্য বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। গোলফলের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিত্রা নদীর দুই তীরে বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠেছে সুন্দরী, কেওড়া, গরান ও গোলপাতাসহ নানা ধরনের উপকূলীয় উদ্ভিদ। নদীর পাড়জুড়ে গড়ে ওঠা এই সবুজ বেষ্টনী এলাকাটিকে অনেকটাই সুন্দরবনের আবহ এনে দিয়েছে। বর্তমানে গোলগাছগুলোতে ফল ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে গোলফলের ব্যবহার মূলত গ্রামাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এ ফলের পরিচিতি ও চাহিদা বাড়ছে। শহরাঞ্চলেও গোলফল বিক্রি হচ্ছে এবং ভোক্তাদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এ ফলকে ঘিরে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

শুধু ফল বিক্রি নয়, গোলগাছ থেকে সংগৃহীত রস ব্যবহার করে গুড় তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গোলের রস থেকে মানসম্মত গুড় উৎপাদন করা গেলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে গোলগাছের রস থেকে গুড় উৎপাদনের মাধ্যমে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।

বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির বলেন, চিত্রাপাড়ের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে সম্ভাবনার বেশ কিছু দিক রয়েছে। এখানে স্বাভাবিকভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদ জন্মেছে। গোলগাছ থেকে গুড় উৎপাদনসহ বিভিন্ন উপায়ে স্থানীয়রা অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারেন। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, গোলফল অনেকের কাছেই পছন্দের একটি ফল। দেখতে অনেকটা তালের মতো হলেও এর শাঁসের স্বাদ আলাদা। ফলের পাশাপাশি গোলগাছের রস থেকে পরিবেশসম্মত উপায়ে গুড় উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ এলাকায় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গোলের গুড় তৈরির বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিতলমারী এলাকার কেউ বাণিজ্যিকভাবে গোলফল বা গোলের গুড় উৎপাদনে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা চিত্রাপাড়ের এই মিনি সুন্দরবন তাই শুধু জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য সম্ভাব্য আয়ের উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে গোলফল ও গোলের গুড়কে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button