হরমুজ খোলার ইঙ্গিত, কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে আসে।
বাজারে দাম কমার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল পরিবহনব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আভাসকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাও বাজারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলছে।
কমেছে ব্রেন্ট ও WTI-এর দাম
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর ফিউচার একপর্যায়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দামও কমেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেলের বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল্যমান হিসেবে ধরা হয়। আর WTI যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বাজারের প্রধান বেঞ্চমার্ক।
হরমুজ নিয়ে ইরানের ঘোষণার প্রভাব
তেলের বাজারে নতুন করে স্বস্তি তৈরি হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনার খবর আসায়। শর্ত পূরণ হলে এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। তাই এটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে সরবরাহসংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বাজারে।
সৌদির তেল পরিবহনেও স্বস্তির আভাস
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন নিয়েও ইতিবাচক খবর এসেছে। ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। এখন এটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্রকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে এটি সচল হলে হরমুজ প্রণালির ওপর সৌদি তেল পরিবহনের নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।
সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় বাজারে চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের বিকল্প রুটে তেল সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের খবর বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল, সেটি কিছুটা কমেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। হরমুজ প্রণালি বাস্তবে কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং সৌদির তেল পরিবহনব্যবস্থা কতটা সক্ষমতায় ফিরবে—এসব বিষয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকেও নজর বাজারের
তেলের দামের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনার দিকেও নজর রাখছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
ফলে একদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা—দুই বিষয়ই বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম আলোচিত চালক হয়ে উঠেছে।




