ফিচার

মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিমূল অস্বীকার করার শামিল—বলছেন বিশ্লেষক ও গবেষকরা

এবিএনএ: সাম্প্রতিক সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিকেই অস্বীকার করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিতর্ক নয়—মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও সত্য ইতিহাস চর্চাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।

তাঁদের মতে, স্বাধীনতা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি জাতির ইতিহাসে নেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বস্তরের জনযুদ্ধ, যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং যার সশস্ত্র সূচনা ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে। এই যুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের যথাযথ সম্মান জানানো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণ অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনও ইতিহাসে নিজ নিজ গুরুত্ব নিয়ে স্থান পাবে। কোনো ব্যক্তি বা দলকে অস্বীকার করতে গিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করার সুযোগ নেই।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়িয়ে দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। এটি বাদ দিলে জাতির পরিচয়ও মুছে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর যে প্রশ্নগুলো উঠছে, তা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফল। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়া। কিন্তু দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা সেই স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। উভয় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানবিক মর্যাদা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। একাত্তরের বিজয় ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে, আর চব্বিশের বিজয় কর্তৃত্ববাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে—এই লড়াই এখনও চলমান।

বিশিষ্টজনদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সূচনাবিন্দু হতে হবে মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাস বিকৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নই জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button