ফিচারবাংলাদেশ

অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও অব্যবস্থাপনায় হারিয়ে যেতে বসেছে সুন্দরবনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট কটকা

মোঃ শাহাদাত হোসাইন, এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): সাগরে ভাঙছে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা। সাগরে বিলীন হয়ে গেছে বনরক্ষীদের ব্যারাক, চলাচলের রাস্তা, পুকুর, রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও গাছপালা। অপরদিকে, জৌলুস হারাচ্ছে কটকার আরেকটি পর্যটন স্পট জামতলা সী-বীচ।

সরেজমিনে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ক্রমান্বয়ে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে কটকার বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত দুই বছরে কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা, রাস্তা ও গাছপালা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরের ভাঙনের কবলে রয়েছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা সাগরে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকার বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস ভবন, চলাচলের রাস্তা, একটি পুকুর এবং বিপুল পরিমাণ গাছপালা সাগরে তলিয়ে গেছে। কয়েকবার স্টাফ ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। বর্তমানে সাগর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যমান ব্যারাক, অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক ফেলা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট কটকার জামতলা সী-বীচ তার জৌলুস হারাতে বসেছে। সী-বীচে এখন তেমন বালু নেই; বীচটি অনেকটাই কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক কারণে বীচের বালু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে সরে গেছে। জামতলা সী-বীচে ঘুরতে আসা পঞ্চগড় জেলার পর্যটক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জামতলা সী-বীচের রূপ ও জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে সী-বীচের আগের সৌন্দর্য নেই। কর্দমাক্ত বীচে হাঁটাচলা করা কষ্টকর বলে জানান তিনি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন বনাঞ্চল। কটকায় বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button