জাতীয়

সারাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভায় জানানো হলো পূজার প্রস্তুতি, হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আট দফা দাবি

এবিএনএ: এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপ-মন্দির বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি। শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। তিনি জানান, শুধু ঢাকা মহানগরীতেই ২৫৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার বোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, আর বিজয়া দশমীর দিন বিকেল ৩টায় দেশব্যাপী শোভাযাত্রা বের করা হবে।

এবার দেবীর আগমন গজে এবং গমন দোলায় হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করে আয়োজকেরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস পেয়েছেন।

তবে প্রস্তুতির মাঝেই কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ ১৩ জেলায় মন্দির ও প্রতিমায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সভায় জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বহু দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, “পাঁচ দিনের পূজার নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ৩৬৫ দিনই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

সভায় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আট দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।

এছাড়া দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো ও আতশবাজি ব্যবহার নিষিদ্ধ, ধর্মীয় সংগীত ছাড়া অন্য গান না বাজানো এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরীও বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button