রাজনীতি

প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, তবু ‘নগর ভবন’ ছুঁতে চান ইশরাক হোসেন—কেন এই নতুন সমীকরণ?

রাজপথের আন্দোলন থেকে জাতীয় নীতিনির্ধারণ—উত্থান-পতনের ভেতর দিয়েই ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছেন তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন।

এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের ছায়া ছাড়িয়ে নিজস্ব পরিচয় গড়ার চেষ্টা করছেন তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে গিয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া—এই অর্জন তাকে দেশের কনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকদের কাতারে এনে দিয়েছে। তবে ক্ষমতার মঞ্চে উঠেও তার চোখ ঢাকার পুরোনো স্বপ্নে—নগর ভবন।

পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে রাজনীতির মাঠে

রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না ইশরাক। বাবার মৃত্যুর পর মাঠে নামেন তিনি। খুব অল্প সময়েই শিক্ষিত, স্পষ্টভাষী ও মাঠে নামা নেতা হিসেবে দলীয় কর্মী ও নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন।

শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতা

ঢাকার স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেন। University of Hertfordshire থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

সিটি নির্বাচন ও আইনি লড়াইয়ের অধ্যায়

২০২০ সালের বিতর্কিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে থাকা তাকে ‘লড়াকু’ রাজনীতিকের পরিচিতি দেয়। ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে তার পক্ষে রায় আসে—যা নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

এমপি থেকে প্রতিমন্ত্রী—রাজনীতির নতুন অধ্যায়

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হওয়ার পরপরই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা, কল্যাণ কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই।

আবারও মেয়র পদে লড়াইয়ের ইঙ্গিত

মন্ত্রীসভায় থেকেও ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতির টান ছাড়তে পারেননি ইশরাক। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানান। সমর্থকদের মতে, বাবার অসমাপ্ত নগর উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নই তার প্রধান লক্ষ্য।

রাজপথের সংগ্রাম ও তরুণদের সংযোগ

আধুনিক ভাষ্য, প্রযুক্তি-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের রাজনীতির এক আলাদা মুখ হয়ে উঠছেন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা, মামলা-মোকদ্দমা ও গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে কর্মীদের কাছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ কোথায়

জাতীয় নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব আর ঢাকার নগর রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা—দুটি ময়দান একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই তার রাজনৈতিক যাত্রা আরও শক্ত ভিত পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button