আন্তর্জাতিক

গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের পাল্টা হামলা; খান ইউনিস ও গাজা শহরজুড়ে নিহত-আহত বেড়েছে

এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা-তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার রাতভর চালানো এসব হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যেখানে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেসব স্থানও আঘাতের শিকার হয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে—এর প্রতিক্রিয়াতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় পৃথক হামলায় পাঁচজন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলে গোলাগুলিতে প্রাণ যায় আরও একজনের। পাশাপাশি গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ-এর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নতুন এই হামলাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে “গণহত্যামূলক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। এদিকে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগে দায়ী করছে। এই চুক্তিটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গাজায় সহিংসতা কমানোর উদ্যোগের অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের সংঘাতে সাম্প্রতিক যুদ্ধটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইসরায়েলি তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ে। পাল্টা অভিযানে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে বিমান ও স্থল হামলা চলছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক দশক হাজার ছাড়িয়েছে; আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button