আন্তর্জাতিক

গাজায় সংঘর্ষ অব্যাহত, ইসরায়েল-হামাস বৈঠক; দ্রুত চুক্তি কার্যকর করার আহ্বান ট্রাম্পের

মিসরের কায়রোয় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বৈঠক, চলতে থাকা হামলায় দুই বছরে হাজারো হতাহত

এবিএনএ: গাজায় শান্তি ফেরাতে মিসরের কায়রোয় মিলিত হয়েছেন ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি এবং মধ্যস্থতাকারীরা। সোমবার দুই পক্ষ ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় বসেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধ অমান্য করে হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আজ ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর দুই বছর পূর্ণ হলো।

২০২৩ সালের এই দিনে হামাস ইসরায়েলি লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পর গাজায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে মত পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দুই বছরে হামলার তাণ্ডবে গাজার ভবন, বাড়িঘর ও পথঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৩১টি বিমান হামলায় অন্তত ৯৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবারের হামলায় একজন ত্রাণকর্মীসহ ১০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর থেকে ট্রাম্পের নির্দেশে হামলা স্থগিতের পরও ইসরায়েল কমপক্ষে ১০৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

বাস্তুত্যুতরা অস্থায়ী তাঁবুতে মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়। দক্ষিণ গাজার নাদা বলেন, “ঘরবাড়ি ছাড়িয়ে প্লাস্টিকের তাঁবুতে রাত কাটানো জীবন নয়। আমরা যুদ্ধবিরতির আশায় আছি।” আরেক নারী আতাফ বলেন, “আমরা চাই আবার আমাদের পাড়ায় ফিরে যেতে, বর্তমান অবস্থা কোনো জীবন নয়।”

ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালানো স্বীকার করেছেন। গাজার বিভিন্ন অংশে কামান ও বিমান হামলা হয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং তেল আল-হাওয়ায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, সবুজ সংকেত পেলে মানবিক সাহায্য দ্রুত গাজায় পৌঁছে দেওয়া হবে। জর্ডান, আশদোদ বন্দর এবং অন্যান্য স্থানে হাজার হাজার টন ত্রাণ প্রস্তুত রয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কমপক্ষে ১,১৫২ ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছেন।

মিসরের শারম আল-শেখে প্রথম ধাপে বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা ফিলিস্তিনি জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতা হবে। তবে পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান গাজা শান্তি পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে, তবে সতর্ক করে বলেছে পরিকল্পনাটি বিপজ্জনক মাত্রার। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৮০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, ৬০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ৯০ শতাংশ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নষ্ট, এবং ৯২ শতাংশ স্কুল পুনর্গঠনের প্রয়োজন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও নেতানিয়াহু ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং ইরানের পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পুতিন স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button